Home / অন্যান্য / ঝরে গেল আমাদের বড়বৃক্ষ- দ্বিজেন শর্মা

ঝরে গেল আমাদের বড়বৃক্ষ- দ্বিজেন শর্মা

বেণুবর্ণা অধিকারী

পাতার উদ্গম ও ঝরে যাওয়া, আবারও পত্রপুষ্পে বৃক্ষের পল্লবিত হওয়া—এ তো প্রকৃতির স্বভাবধর্ম,মানুষও প্রকৃতিরই একটা অংশ, তাকেও একসময় ঝরে যেতে হয়। শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই ‘নিসর্গসখা।’ তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর ৷ দ্বিজেন শর্মার জন্ম ১৯২৯ সালের ২৯ মে, তৎকালীন সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে।

মানবের জীবনচক্রে চিরসবুজ থাকতে পারা এক কঠিন সাধনা, যেটা এই ৮৮ বছর বয়সের দ্বিজেন শর্মা সম্পাদন করতে পেরেছেন স্বভাবধর্মের মতোই, প্রায় প্রাকৃতিকভাবে। তাঁর কাছে আশ্রয়-প্রশ্রয়-প্রেরণা পেয়েছে নবীনেরা সবচেয়ে বেশি, প্রজন্মের পর প্রজন্মজুড়ে। এমনটি সাধারণত দেখা যায় সফল শিক্ষকদের ক্ষেত্রে, দ্বিজেন শর্মা শিক্ষকতা করেছেন বটে, তবে সেটা ছিল স্বল্পকালের জন্য, যৌবনের সূচনায়। নটর ডেম কলেজে যারা তাঁর ছাত্র ছিল, তারা জীবনে কখনো তাঁকে বিস্মৃত হতে পারেনি।

দ্বিজেন শর্মা

‘মানুষ, বৃক্ষের মতো আনত হও, হও সবুজ …’—এই আহ্বান আমৃত্যু জানিয়ে গেছেন দ্বিজেন শর্মা। সবুজ দেশ আর সবুজ মানুষ গড়তে কাজ করে গেছেন তিনি। বৃক্ষপ্রেমিক দ্বিজেন শর্মা অনেক গাছ লাগিয়েছেন। গাছের পরিচর্যা করেছেন। গাছ চিনিয়েছেন। সবুজ প্রকৃতির জন্য আজীবন লড়েছেন। এই নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৃক্ষের সতেজতা, সরলতা। সবুজের হাতছানি দিয়ে তিনি মানুষকে ডেকেছেন। সবুজ দেশ আর সবুজ মানুষ গড়তে কাজ করে চলেছেন। গাছ কাটা পড়ছে, পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। তারপরও বলা যায় তাঁর আহ্বান বৃথা যাচ্ছে না। একদিকে যখন পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষ পরিবেশ রক্ষাকে আন্দোলনে রূপান্তর করতে পেরেছে।
দ্বিজেন শর্মার সার্থকতা এখানেই।

শাহিদা ইসলাম, দ্বিজেন শর্মা ও বেণুবর্ণা অধিকারী

ছবি: শাহজাহান মৃধা বেনু, ২০১৩

সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে দ্বিজেন শর্মার স্মৃতিকাতরতায় বলেছিলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন—এ রকম দেশ পৃথিবীতে কোনো দিন ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। এমন এক অদ্ভুত দেশ, আমি গিয়ে তো অবাক হলাম যে সব মানুষই প্রায় সমান। কে ইঞ্জিনিয়ার, কে ডাক্তার, কে প্রফেসর, কে শ্রমিক, তা বোঝা যায় না। বাড়িঘর সবার এক, দোকানে সবাই কিউয়ে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করে—এমন দেশ তুমি পাবে কোথায়? এক রুবল পকেটে নিয়ে তুমি স্বস্তিতে সারা দিন ঘুরতে পার। টাকাপয়সার অভাব তোমাকে বিন্দুমাত্র তাড়িত করবে না, এসব অভিজ্ঞতা ওই সমাজতন্ত্র ছাড়া আর কোথাও হয় না।’

Editor’s note: Published with permission from Bunu Borna. Edited. Thanks Benu Borna. She worked together with Dijen Sharma in ‘তরুপল্লব’

Ref: 1. Technical Communication: Received from Benu Borna, 20170915 for publishing at biggani.org and Vision Creates Value

2. First Published: http://www.greennewsbd.com/?p=22873

3. Photo 1. Ref. 2.

4. Photo 2. Facebook, বেণুবর্ণা অধিকারী, 2070915.

About Shafiul

ড. শফিউল ইসলাম: কানাডীয় TexTek Solutions এর ডিরেক্টর ও Institute of Textile Science এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। স্পাইডার সিল্ক প্রযুক্তির উদ্ভাবক। যুক্তরাজ্য থেকে টেক্সটাইল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর অনেক গবেষণাপত্র, বই ও প্যাটেন্ট প্রকাশ পেয়েছে। ব্যক্তিগত সাইট: https://www.linkedin.com/in/shafiul2009/

Check Also

বজ্রপাত কি এবং কেনো

বেশিরভাগ সময় আমরা প্রচলিত ধারনা নিয়ে আমাদের জ্ঞানের পরিসর বিস্তৃত রাখি। আসলে আমরা যেভাবে বিষয়গুলি …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. লেখাটিতে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে নিয়ে এক অন্যরকম উপস্থাপনা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর সম্পর্কে আমাদের ভাবার ও জানার অনেককিছু রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।