উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগগবেষণার প্রথম পদক্ষেপ

একাধিক বিষয়ে পড়াশোনা কেন গবেষণায় শক্তি হয়ে ওঠে

Share
Share

biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেখিয়েছেন, একাধিক বিষয়ে পড়াশোনা বা ভিন্ন ভিন্ন শাখার জ্ঞান কীভাবে গবেষণায় একটি বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তিনি শুরু করেছিলেন অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি দিয়ে, পরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবেশে পিএইচডি করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর এই বহুমুখী যাত্রার মধ্যেই তিনি ভবিষ্যতের গবেষণার একটি দিকনির্দেশনা দেখতে পান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একই বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গভীরতা তৈরি হয়। কিন্তু একাধিক শাখায় জ্ঞান থাকলে গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত হয়। তিনি বিষয়টিকে তুলনা করেছেন জ্যামিতিক একটি উদাহরণের মাধ্যমে। একদিকে যদি পরিধি ছোট কিন্তু উচ্চতা বেশি হয়, আরেকদিকে যদি পরিধি বড় কিন্তু উচ্চতা কিছুটা কম হয়—দুটির ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট আয়তন তৈরি হয়। তাঁর কথায়, গবেষণায় গভীরতার পাশাপাশি বিস্তৃত পরিধিও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিক একসঙ্গে থাকলে একজন গবেষক ল্যাবরেটরির ভেতরের কাজ যেমন বুঝতে পারেন, তেমনি সেই কাজকে শিল্পক্ষেত্রে বড় পরিসরে প্রয়োগ করার ভাষাও বুঝতে পারেন।

ড. সাগর হোসেন ব্যাখ্যা করেন, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রির জ্ঞান তাঁকে উপাদানের আণবিক গঠন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের দিকটি বুঝতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে কীভাবে ছোট পরিসরের গবেষণাকে বড় আকারে বাস্তব প্রয়োগে রূপান্তর করা যায়। এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতা একত্রে থাকার কারণে তিনি একই সঙ্গে গবেষণাগারের বিজ্ঞানী এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের গবেষণার বড় অংশই হবে বিভিন্ন বিষয়ের সংযোগস্থলে। কেমিস্ট্রির সঙ্গে পরিবেশবিদ্যা, কম্পিউটার সায়েন্সের সঙ্গে জীববিজ্ঞান—এই ধরনের সংযোগস্থলেই নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শ ছিল, ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকলে ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু পরস্পর-সংযুক্ত বিষয়ে পড়াশোনা করা। এতে একজন গবেষক একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা দেখতে শেখে।

biggani.org–এ দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। আধুনিক গবেষণায় শুধু একটি বিষয়ে দক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং বিভিন্ন শাখার জ্ঞানকে একত্রে ব্যবহার করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতের গবেষককে আলাদা করে তোলে। ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের অভিজ্ঞতা দেখায়, বহুমুখী শিক্ষাযাত্রা গবেষণার পথকে শুধু বিস্তৃতই করে না, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করার সুযোগও তৈরি করে।

এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles