উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বিজ্ঞানী হওয়ার পথচলা নিয়ে আসছেন ড. মো. সামদানী আজাদ

Share
Share

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূমিকম্প প্রকৌশল ও বৃহৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ড. মো. সামদানী আজাদ অংশ নিচ্ছেন আমাদের আসন্ন বিশেষ সাক্ষাৎকারে। বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থী থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় গবেষক ও প্রকৌশলী হয়ে ওঠার তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণদের সামনে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরবে।

ড. সামদানী আজাদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে থাইল্যান্ডের মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কনকুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্রাকচারাল আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষায়িত হয়ে পুরকৌশলে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি।

পিএইচডির পর তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনহা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি সিউলের জাংমিন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনে পুরকৌশলী হিসেবে কম্পিউটার ভিশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো মূল্যায়ন নিয়ে কাজ করছেন।

তাঁর গবেষণার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্পের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আচরণ বিশ্লেষণ, পারমাণবিক স্থাপনা ও সেতুর নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন, অফশোর কাঠামোর নিরাপত্তা, অনিশ্চয়তা পরিমাপ, বায়েজীয় বিশ্লেষণ এবং মেশিন লার্নিংভিত্তিক পূর্বাভাস। তিনি ফাইনাইট এলিমেন্ট অ্যানালাইসিসের মতো পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে জটিল প্রকৌশল সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করছেন।

তাঁর বর্তমান কাজের মধ্যে রয়েছে কংক্রিটের সেতু ও টানেলের ফাটল স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা, বৃহৎ অবকাঠামোর ছবি বিশ্লেষণ করে অবস্থা মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোর সহনশীলতা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক জার্নাল ও সম্মেলনে প্রকাশিত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিকম্প, অবকাঠামোর বার্ধক্য এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে নিরাপদ ও টেকসই অবকাঠামোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় পুরকৌশলের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈজ্ঞানিক কম্পিউটিংয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতের গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ড. সামদানী আজাদের কাজ দেখায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শুধু সফটওয়্যার বা রোবটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সেতু, টানেল, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নির্মাণক্ষেত্রকে আরও নিরাপদ করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী বিজ্ঞানী বা গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে, বিশেষ করে যারা পুরকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি হবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার একটি সুযোগ। দেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করে আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে কাজ করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও মানসিকতা প্রয়োজন—তাঁর পথচলার আলোকে এসব বিষয় জানার সুযোগ থাকবে।

একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের গবেষণার আগ্রহ খুঁজে পেতে পারে, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে এবং প্রচলিত প্রকৌশলবিদ্যার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে পারে—এসব প্রশ্নও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। তাঁর অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশ, আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করার পথ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সফল হওয়ার পথ সব সময় সরল নয়। এই পথে প্রয়োজন কৌতূহল, নিয়মিত শেখার অভ্যাস, গবেষণার প্রতি ধৈর্য এবং নতুন ক্ষেত্র গ্রহণের সাহস। ড. সামদানী আজাদের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তরুণদের এমন একটি গবেষণাপথের সঙ্গে পরিচিত করবে, যেখানে পুরকৌশল, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার সিমুলেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে কাজ করে।

ড. মো. সামদানী আজাদের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পথচলার কথা সরাসরি জানতে এবং নিজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেতে আসন্ন এই সাক্ষাৎকারে যোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানমনস্ক পাঠকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের তথ্য

📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)

সময়: রাত ৮:০০টা (বাংলাদেশ সময়)
তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার)
উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি।
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু

বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।

বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles