জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিতে বাড়ছে খরা, লবণাক্ততা ও নানা পরিবেশগত চাপ। এমন বাস্তবতায় প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম এবং অধিক উৎপাদনশীল ফসল উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র নিয়ে কথা বলতে বিজ্ঞানী.অর্গের আসন্ন বিশেষ সাক্ষাৎকারে যোগ দেবেন বাংলাদেশি উদ্ভিদ জিনোমিক্স গবেষক ড. শিরিন আক্তার।
ড. শিরিন আক্তার বর্তমানে চীনের লানঝৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব প্যাস্টোরাল অ্যাগ্রিকালচার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের উহান বোটানিক্যাল গার্ডেনে উদ্ভিদের কার্যকরী জিনোমিক্স ও মূল্যায়ন নিয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগে গবেষণা সহকারী এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণা তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক এবং জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ড. শিরিন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি খরা পরিস্থিতিতে হাইব্রিড ভুট্টার চারার বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেন। পরে চীনের চাইনিজ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে টি সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল চা-গাছের বৃদ্ধি ও গৌণ বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন শনাক্তকরণ এবং সেগুলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ।
ড. শিরিনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র উদ্ভিদ জিনোমিক্স, জিনের কার্যক্রম, ট্রান্সক্রিপ্টোমিক্স, বিপাকীয় বিশ্লেষণ এবং আধুনিক উদ্ভিদ প্রজনন। সহজভাবে বললে, তিনি উদ্ভিদের জিন ও রাসায়নিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করেন—কোন জিন একটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি, গুণমান কিংবা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ধরনের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে খরা, লবণাক্ততা, পুষ্টির ঘাটতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করতে সক্ষম উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন করা সম্ভব।
চা-গাছের বৃদ্ধি ও গৌণ বিপাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা বিশেষ জিন শনাক্তকরণ, লাল ও নীল আলোর প্রভাবে চা-গাছের জিন ও রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন এবং চায়ের জাত ও জার্মপ্লাজম শনাক্ত করতে জিনগত মার্কার তৈরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় তিনি যুক্ত ছিলেন। উদ্ভিদে খরা ও লবণাক্ততার কারণে সৃষ্ট চাপ, কম নাইট্রোজেন সহ্য করার ক্ষমতা এবং চা-গাছের কৃত্রিম পরাগায়ন নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে। তাঁর গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি জিএসসিএএএস স্কলারশিপ এবং বেইজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপও অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক হওয়ার পথ সব সময় সরল নয়। উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন, গবেষণার দক্ষতা অর্জন, বৃত্তির সুযোগ খোঁজা, আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে কাজের প্রস্তুতি এবং নিজের কাজ প্রকাশের মতো প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়। বাংলাদেশের একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার ড. শিরিনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে এই পথের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।
সাক্ষাৎকারে তাঁর শিক্ষা ও গবেষণাযাত্রার পাশাপাশি উদ্ভিদ জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, মাল্টি-ওমিক্স গবেষণা এবং আধুনিক উদ্ভিদ প্রজননের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। জানা যাবে, একজন শিক্ষার্থী কীভাবে গবেষণার বিষয় নির্বাচন করতে পারেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। নারী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ, প্রতিবন্ধকতা এবং করণীয়ও আলোচনায় উঠে আসবে।
যেসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চান কিংবা কৃষিবিজ্ঞান, জেনেটিকস, উদ্ভিদবিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি বা বায়োইনফরমেটিক্সে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এটি একজন সক্রিয় গবেষকের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের গবেষণাজগৎ কেমন, একটি বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন কীভাবে গবেষণায় রূপ নেয় এবং গবেষণার ফল কীভাবে কৃষক, খাদ্যনিরাপত্তা ও সমাজের কাজে লাগতে পারে—এই সাক্ষাৎকার সেই বিষয়গুলো বুঝতে সহায়তা করবে।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রশ্ন করার অভ্যাস, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলা যায়। ড. শিরিন আক্তারের বাস্তব অভিজ্ঞতা তরুণদের জানার সুযোগ করে দেবে—কীভাবে আগ্রহকে গবেষণায়, গবেষণাকে দক্ষতায় এবং সেই দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।
বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং তরুণ পাঠকদের বিজ্ঞানী.অর্গের এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি গবেষকের শিক্ষা, সংগ্রাম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা থেকে শেখার এই সুযোগে আপনিও যুক্ত হোন।
অনুষ্ঠানের তথ্য
📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)
সময়: রাত ৮:০০টা (বাংলাদেশ সময়) রাত ১০:০০টা (চীন সময়)
তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার)
উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি।
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু
বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Leave a comment