বাংলাদেশের একজন তরুণ গবেষক দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণাগারে বসে ভাবছেন ভবিষ্যতের জ্বালানি নিয়ে। সেই ভবিষ্যৎ এমন এক পৃথিবীর, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা, তেল বা গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হবে না; যেখানে জ্বালানির প্রধান উৎস হতে পারে পানি; আর সেই পানি ভেঙে তৈরি হবে হাইড্রোজেন—একটি পরিচ্ছন্ন, কার্বনমুক্ত জ্বালানি।
এই স্বপ্ন নিয়েই কাজ করছেন ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানা। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি বা KENTECH-এর এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো নন-নোবেল মেটাল ইলেকট্রোক্যাটালিস্ট, ফুয়েল সেল, ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজার এবং অ্যানায়ন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেনভিত্তিক রিজেনারেটিভ ফুয়েল সেল। শুনতে বিষয়গুলো জটিল মনে হলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে খুব সহজ একটি প্রশ্ন—আমরা কি কম খরচে, পরিবেশের ক্ষতি না করে, পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করতে পারি?
ড. রানার গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব এখানেই। বর্তমানে হাইড্রোজেনভিত্তিক জ্বালানি প্রযুক্তিতে প্লাটিনাম ও ইরিডিয়ামের মতো অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করা হয়। এগুলো ব্যয়বহুল, সীমিত এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। ফলে প্রযুক্তির খরচ বেড়ে যায়। ড. রানা কাজ করছেন এমন বিকল্প ক্যাটালিস্ট তৈরির ওপর, যা তুলনামূলক সস্তা, সহজলভ্য এবং কার্যকর হতে পারে। তাঁর লক্ষ্য—সবুজ জ্বালানি প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে মানুষের ব্যবহারযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ব্যয় কমানো।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণাগারে
ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানার একাডেমিক যাত্রা শুরু হয় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে তিনি সেখানে ভর্তি হন এবং একই বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর মতো তাঁর পথও সহজ ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন দেশের অধ্যাপকদের ইমেইল করতে শুরু করেন। অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পেয়েছেন, আবার অনেকের কাছ থেকে নেতিবাচক উত্তরও এসেছে। কেউ কেউ তাঁকে গবেষক হিসেবে নিতে আগ্রহী হলেও পিএইচডি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে পারেননি।
এভাবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পিএইচডি সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই অধ্যাপক তাঁকে শুধু গবেষণার সুযোগই দেননি, পিএইচডির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার আশ্বাসও দেন। এরপর ২০১৯ সালে ড. রানা দক্ষিণ কোরিয়ার কুন্সান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
পিএইচডির পর তিনি একই বিভাগে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালে তিনি যোগ দেন KENTECH-এর পলিমার ইলেকট্রোলাইট মেমব্রেন ল্যাবরেটরিতে। বর্তমানে সেখানেই তিনি ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন।
এই যাত্রা শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি বাস্তব উদাহরণ—ধৈর্য, লক্ষ্য, প্রস্তুতি এবং ধারাবাহিক চেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণার জগতে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
পানি ভেঙে হাইড্রোজেন: গবেষণার সহজ ব্যাখ্যা
ড. রানার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হলো হাইড্রোজেন এনার্জি। আজকের পৃথিবীতে শক্তি উৎপাদনের বড় অংশ এখনো আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে—কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। এগুলো ব্যবহার করলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হয়। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে।
এই সমস্যার বিকল্প হিসেবে বিজ্ঞানীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে তাকাচ্ছেন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, জিওথার্মাল শক্তি এবং হাইড্রোজেন শক্তি। এর মধ্যে হাইড্রোজেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর প্রধান উপজাত হিসেবে তৈরি হয় পানি। অর্থাৎ, কয়লা বা তেলের মতো ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন এখানে নেই।
পানির রাসায়নিক সংকেত H₂O—দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু। বিদ্যুতের সাহায্যে পানির অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আলাদা করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোলাইসিস। সহজ ভাষায়, যেমন বিদ্যুতের ধাক্কায় একটি যৌগ ভেঙে তার উপাদানগুলো আলাদা করা যায়, তেমনি পানির অণুকেও ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়।
এই হাইড্রোজেন পরে সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজন হলে ফুয়েল সেল নামের যন্ত্রে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ফুয়েল সেলকে এক ধরনের রাসায়নিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্র বলা যায়। ব্যাটারির সঙ্গে এর কিছুটা মিল আছে, কিন্তু সাধারণ ব্যাটারির মতো একবার চার্জ শেষ হয়ে গেলে থেমে যায় না; যতক্ষণ জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন সরবরাহ করা হবে, ততক্ষণ এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
ফুয়েল সেল ও ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজার: একই চক্রের দুই দিক
ড. রানা তাঁর আলোচনায় খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, হাইড্রোজেনভিত্তিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থায় সাধারণত দুটি যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ—ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজার এবং ফুয়েল সেল।
ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজারের কাজ হলো পানি ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করা। এখানে দুটি ইলেকট্রোড থাকে—অ্যানোড ও ক্যাথোড। মাঝখানে থাকে একটি বিশেষ মেমব্রেন, যা নির্দিষ্ট আয়নকে চলাচল করতে দেয় কিন্তু ইলেকট্রনকে সরাসরি যেতে দেয় না। সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এই যন্ত্রে পানি ভেঙে গ্যাস তৈরি করা যায়।
অন্যদিকে, ফুয়েল সেলের কাজ বিপরীতমুখী। এখানে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন ইলেকট্রন ছাড়ে, সেই ইলেকট্রন বাহ্যিক সার্কিট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে, আর শেষে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়ে পানি তৈরি করে।
অর্থাৎ, পুরো ব্যবস্থাটি একটি পরিচ্ছন্ন চক্রের মতো:
পানি থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন, আবার হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থেকে বিদ্যুৎ ও পানি।
এটি অনেকটা দিনের বেলায় সৌরশক্তি দিয়ে পানি ভেঙে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা এবং রাতে সেই হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির একটি বড় সমস্যা—সংরক্ষণ—সমাধানের পথও তৈরি হয়।
রিজেনারেটিভ ফুয়েল সেল: এক যন্ত্রে দুই কাজ
ড. রানার গবেষণার বিশেষ অংশ হলো রিজেনারেটিভ ফুয়েল সেল। সাধারণ ব্যবস্থায় পানি ভাঙার জন্য একটি ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদা ফুয়েল সেল দরকার হয়। এতে খরচ বাড়ে, জায়গা বেশি লাগে এবং প্রযুক্তি জটিল হয়।
রিজেনারেটিভ ফুয়েল সেলের ধারণা হলো—একই যন্ত্র যেন দুই কাজ করতে পারে। যখন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যেমন দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তখন এই সেল পানি ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করবে। আবার যখন বিদ্যুৎ দরকার, তখন সেই হাইড্রোজেন ব্যবহার করে একই সেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
এটি অনেকটা এমন একটি পানির পাম্পের মতো, যা প্রয়োজন হলে পানি তুলতেও পারে, আবার প্রয়োজন হলে সেই পানি নামিয়ে শক্তিও উৎপাদন করতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল হলেও সাধারণ ধারণাটি হলো—একই ব্যবস্থায় শক্তি উৎপাদন ও শক্তি সংরক্ষণ।
নোবেল মেটাল বনাম নন-নোবেল মেটাল: খরচ কমানোর লড়াই
হাইড্রোজেন প্রযুক্তি জনপ্রিয় হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো খরচ। বিশেষ করে ফুয়েল সেল ও ইলেকট্রোলাইজারে ব্যবহৃত ক্যাটালিস্টের খরচ অনেক বেশি।
ক্যাটালিস্ট হলো এমন পদার্থ, যা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দ্রুত বা সহজ করে, কিন্তু নিজে শেষ হয়ে যায় না। রান্নাঘরের উদাহরণ দিলে বলা যায়, আগুন যেমন রান্নার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়, তেমনি ক্যাটালিস্ট রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সহজ করে দেয়। ফুয়েল সেল ও ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজারে ক্যাটালিস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরির বা ব্যবহারের বিক্রিয়াগুলোকে কার্যকর করতে এটি সাহায্য করে।
বর্তমানে এই কাজে প্লাটিনাম ও ইরিডিয়ামের মতো নোবেল মেটাল ব্যবহৃত হয়। এগুলো খুবই কার্যকর, কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পৃথিবীতে সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়। ফলে পুরো প্রযুক্তির মূলধনী খরচ অনেক বেড়ে যায়। ড. রানার ভাষায়, হাইড্রোজেন এনার্জি প্রযুক্তির ক্যাপিটাল কস্টের বড় অংশই ক্যাটালিস্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এই জায়গাতেই তাঁর গবেষণার গুরুত্ব। তিনি কাজ করছেন নন-নোবেল মেটাল ক্যাটালিস্ট নিয়ে—যেমন কোবাল্ট, আয়রন, নিকেল, মলিবডেনাম, টাংস্টেন ইত্যাদি। এগুলো তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য এবং সস্তা। তবে চ্যালেঞ্জ হলো—এই সস্তা ধাতুগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যেন তারা ব্যয়বহুল প্লাটিনাম বা ইরিডিয়ামের কাছাকাছি কার্যকারিতা দেখাতে পারে।
ড. রানার গবেষণায় উঠে এসেছে, অ্যানায়ন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেনভিত্তিক রিজেনারেটিভ ফুয়েল সেলে রিয়্যাকশন পরিবেশ অ্যালকালাইন হওয়ায় নন-নোবেল মেটাল ব্যবহারের সুযোগ বেশি। অন্যদিকে, প্রচলিত প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ব্যবস্থায় পরিবেশ অ্যাসিডিক হওয়ায় নোবেল মেটাল ব্যবহার অনেক সময় অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এই কারণে অ্যানায়ন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেনভিত্তিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খরচ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নন-নোবেল মেটাল ক্যাটালিস্ট কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রযুক্তির খরচ ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর ফলে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগার বা উন্নত শিল্পক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য পর্যায়ে যাওয়ার পথ পাবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাইড্রোজেন শক্তি
ড. রানা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও হাইড্রোজেন শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য বহুলাংশে আমদানি-নির্ভর। তেল, গ্যাস বা কয়লার বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর, বর্ষাকালে বিপুল পানি, বিভিন্ন অঞ্চলে জলসম্পদ—এসব আমাদের বাস্তবতা। ড. রানার মতে, যদি পানি থেকে কার্যকরভাবে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যায়, এবং সেই হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তার একটি নতুন পথ খুলতে পারে।
তবে বিষয়টি শুধু পানির প্রাচুর্যের প্রশ্ন নয়। পানি ভাঙতে বিদ্যুৎ লাগে, আর সেই বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস—যেমন সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তি—থেকে আসে, তাহলেই উৎপাদিত হাইড্রোজেন সত্যিকার অর্থে “গ্রিন হাইড্রোজেন” হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরি করলে সেটিকে গ্রে বা ব্লু হাইড্রোজেন বলা হয়, যেখানে কার্বন নির্গমনের বিষয়টি যুক্ত থাকে। কিন্তু পানি ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তৈরি হাইড্রোজেন কার্বনমুক্ত জ্বালানির দিক থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
হাইড্রোজেন শক্তির ব্যবহার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমিত নয়। এটি পরিবহন খাত—বাস, গাড়ি, ট্রাক—থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণ, মহাকাশ গবেষণা এবং পোর্টেবল পাওয়ার সোর্স হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিমধ্যে হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের ব্যবহার শুরু হয়েছে—এই উদাহরণও আলোচনায় উঠে এসেছে।
বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার থেকে গ্রিন এনার্জি: এক অভিন্ন দর্শন
ড. রানার গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি কাজ করেছিলেন পলি-ল্যাকটিক অ্যাসিডভিত্তিক বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার কম্পোজিট নিয়ে। সহজ ভাষায়, বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার হলো এমন ধরনের প্লাস্টিক বা পলিমার, যা ব্যবহারের পর পরিবেশে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে দূষণ সৃষ্টি না করে ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে পারে।
পরে পিএইচডিতে তিনি চলে আসেন হাইড্রোজেন শক্তি ও ইলেকট্রোকেমিক্যাল জ্বালানি প্রযুক্তির গবেষণায়। বিষয় দুটি আলাদা মনে হলেও তাঁর কাছে এগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন দর্শন রয়েছে—পরিবেশ রক্ষা। একদিকে প্লাস্টিক দূষণ কমানো, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প পরিচ্ছন্ন শক্তি তৈরি—দুটোর লক্ষ্যই মানবজীবন ও প্রকৃতিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো।
এই দৃষ্টিভঙ্গি একজন আধুনিক বিজ্ঞানীর পরিচয় বহন করে। বিজ্ঞান শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নয়; বিজ্ঞান তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের জীবন, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সভ্যতার কল্যাণে কাজে লাগে।
হাইড্রোজেন দিয়ে রান্না: সম্ভাবনা আছে, কিন্তু নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন
আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দিলীপ কুমার সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাবনা ছিল—গ্রামাঞ্চলে ছোট স্কেলে সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করে সেটি এলপিজির বিকল্প রান্নার গ্যাস হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না।
ড. রানা বলেন, এ ধরনের গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে, কিন্তু এখনো তা বাণিজ্যিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পৌঁছায়নি। কারণ হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস। বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশলে এটি সহজেই জ্বলে উঠতে পারে। তাই উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রবাহের হার এবং ব্যবহার—সবকিছু অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।
হাইড্রোজেন দিয়ে রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ চুলা যথেষ্ট নয়; বিশেষ ধরনের বার্নার বা নিরাপদ চুলা প্রয়োজন। সেখানে গ্যাস প্রবাহ, চাপ, জ্বালানি মিশ্রণ এবং সুরক্ষাব্যবস্থা সবকিছু নতুনভাবে নকশা করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যবহারযোগ্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ প্রযুক্তি তৈরি করতে গেলে গবেষণা, প্রকৌশল নকশা এবং বাস্তব পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।
এই প্রশ্ন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা শুধু নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেন না; তারা প্রযুক্তিকে নিরাপদ, ব্যবহারযোগ্য এবং সমাজোপযোগী করার দায়িত্বও পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য ড. রানার পরামর্শ: লক্ষ্য স্থির করো, ধৈর্য ধরো
ড. রানার সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী পরামর্শ। তাঁর মতে, বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞানী, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেকেই লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে। কখনো পরিবার, কখনো সমাজ, কখনো চাকরির বাজার, কখনো বিসিএস-কেন্দ্রিক প্রবল সামাজিক চাপ তাদের ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সবার আগে দরকার লক্ষ্য নির্ধারণ। একজন শিক্ষার্থী যদি বিজ্ঞানী হতে চায়, তবে তাকে বুঝতে হবে বিজ্ঞানী হওয়ার পথ কী। শুধু ভালো রেজাল্ট করলেই হবে না; গবেষণাপত্র পড়তে হবে, গবেষণার পদ্ধতি জানতে হবে, ছোট ছোট গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হতে হবে, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং নিজেকে ধীরে ধীরে গবেষণার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
তাঁর নিজের জীবনেও দ্বিধা ছিল। অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর কখনো তাঁর মনে হয়েছে বিসিএস দেবেন, কখনো মনে হয়েছে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাবেন। কিন্তু অনার্সের তৃতীয় বর্ষে এসে তিনি নিজের লক্ষ্য স্থির করেন। এরপর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিকে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সাজাতে শুরু করেন।
বিসিএস-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও পেশা নির্বাচনের সংকট
আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পেশা নির্বাচনের সামাজিক বাস্তবতাও উঠে আসে। ড. রানা মনে করেন, বাংলাদেশে অনেক পরিবার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট কিছু পেশার দিকে ঠেলে দেয়—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারি চাকরিজীবী। কিন্তু সন্তান আসলে কী চায়, তার আগ্রহ কোথায়, তার স্বাভাবিক দক্ষতা কোন দিকে—এসব অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।
তিনি উদাহরণ দেন, কারও আগ্রহ হয়তো প্রকৌশলে, কিন্তু পরিবারের চাপে তাকে চিকিৎসাবিদ্যায় যেতে হচ্ছে। আবার কেউ বিজ্ঞান বা গবেষণায় আগ্রহী হলেও সামাজিকভাবে তাকে বিসিএসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজের প্রকৃত সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায় না।
ড. রানার মতে, বিদেশে একটি বড় পার্থক্য দেখা যায়—যে কৃষক, সে কৃষিকাজে দক্ষ; যে প্রকৌশলী, সে প্রকৌশলে দক্ষ; যে অধ্যাপক, সে গবেষণা ও শিক্ষাদানে দক্ষ। সবাই নিজের নির্বাচিত ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞ হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় “একজন সবাই হতে চায়” ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে পেশাগত গভীরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, বিসিএসের জন্য যে বিপুল পরিশ্রম অনেক শিক্ষার্থী করে, সেই পরিশ্রম যদি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, একাডেমিক দক্ষতা বা পেশাগত উন্নয়নে দেওয়া যেত, তাহলে দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখা সম্ভব হতো।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার রোডম্যাপ
যারা বাংলাদেশ থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনার্জি রিসার্চ বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ড. রানা বেশ কিছু বাস্তব পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত, লক্ষ্য স্থির করতে হবে—কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চায়, কোন দেশে যেতে চায়, কোন ধরনের গবেষণাগারে কাজ করতে চায়। দ্বিতীয়ত, একাডেমিক ফলাফল ভালো রাখতে হবে। তৃতীয়ত, ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং আইইএলটিএস বা টোফেলের মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।
চতুর্থত, গবেষণাপত্র পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যদি ফুয়েল সেল নিয়ে কাজ করতে চায়, তাহলে গুগল স্কলার বা ওয়েব অব সায়েন্সে গিয়ে সেই বিষয়ে গবেষণা করছেন এমন অধ্যাপকদের খুঁজে বের করতে পারে। তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র পড়তে পারে, নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল খুঁজে নিতে পারে এবং তারপর অধ্যাপকদের ইমেইল করতে পারে।
একটি ভালো একাডেমিক সিভি এবং কভার লেটার তৈরি করাও জরুরি। শুধু “আমি আপনার ল্যাবে কাজ করতে চাই” বললেই হবে না; কেন সেই ল্যাব, কেন সেই গবেষণা, নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা কী, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—এসব স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যর্থতা আসবেই। অনেক ইমেইলের উত্তর পাওয়া যাবে না, অনেক জায়গা থেকে নেতিবাচক উত্তর আসবে। কিন্তু ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই এর প্রমাণ—অনেক প্রত্যাখ্যানের পরই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্কলারশিপও দেয়। বিশেষ করে যারা ইলেকট্রোকেমিস্ট্রি, ফুয়েল সেল, ওয়াটার ইলেকট্রোলাইজার বা এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের জন্য কোরিয়ায় উল্লেখযোগ্য গবেষণার সুযোগ আছে।
গবেষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি
ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানার গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর কাজ গুগল স্কলার ও রিসার্চগেটে পাওয়া যায়। তিনি তরুণ গবেষকদের উৎসাহ দিয়েছেন এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে। কারণ গবেষণার জগতে শুধু পড়াশোনা নয়, নিজের কাজকে বিশ্বপরিসরে দৃশ্যমান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল স্কলার একজন গবেষকের প্রকাশনা, উদ্ধৃতি এবং গবেষণার প্রভাব বোঝার একটি দরকারী প্ল্যাটফর্ম। রিসার্চগেট গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণাপত্র ভাগাভাগি এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের গবেষণা প্রবণতা বুঝতে পারে এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের কাজ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের ভাষায় আনা
এই সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী অর্গের উদ্দেশ্যও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারের দেয়ালের ভেতর সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের ভাষায় উপস্থাপন করা। বিজ্ঞান নিয়ে ভুল ধারণা, গুজব বা বিভ্রান্তি দূর করতে বিজ্ঞানীদের সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন।
অনেক সময় মানুষ জটিল প্রযুক্তি বুঝতে না পেরে ভুল সিদ্ধান্তে যায়। কেউ ভাবে ভ্যাকসিন ষড়যন্ত্র, কেউ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে না। অথচ বাস্তবতা হলো, আজকের প্রতিটি আধুনিক প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে বহু বছরের গবেষণা—ল্যাবরেটরির ছোট ছোট পরীক্ষা, ব্যর্থতা, সংশোধন, আবার চেষ্টা এবং শেষে বাস্তব প্রয়োগ।
ড. রানার মতো গবেষকরা যখন পানি থেকে হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ, ক্যাটালিস্ট, ফুয়েল সেল বা মেমব্রেনের মতো বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, তখন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে—বিজ্ঞান কোনো দূরের বিষয় নয়। এটি আমাদের ঘরের আলো, রান্নাঘরের জ্বালানি, পরিবেশের বাতাস, দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এক গবেষকের গল্প, এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানার গল্প শুরু হয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগ থেকে। এরপর ইমেইল, প্রত্যাখ্যান, অপেক্ষা, ধৈর্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডি, আন্তর্জাতিক গবেষণা, এবং এখন KENTECH-এ সবুজ জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ—এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক।
তাঁর গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের বড় সমস্যাগুলোর সমাধান হয়তো আজকের তরুণ গবেষকদের হাতেই তৈরি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, পরিবেশ দূষণ—এসব সমস্যা শুধু উন্নত বিশ্বের নয়; বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যও এগুলো জীবন-মরণের প্রশ্ন। তাই আমাদের দরকার এমন বিজ্ঞানী, যারা বৈশ্বিক মানের গবেষণা করবেন, আবার দেশের বাস্তবতার কথাও ভাববেন।
ড. রানার কাজের মূল বার্তা স্পষ্ট—পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি শুধু বিলাসিতা নয়; এটি ভবিষ্যতের প্রয়োজন। আর সেই ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরও গবেষণা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে আসতে হবে।
লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে, প্রস্তুতি যদি ধারাবাহিক হয়, আর ব্যর্থতাকে যদি পথের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কোনো তরুণের জন্যই আন্তর্জাতিক গবেষণার দরজা বন্ধ নয়। ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানার যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি আহ্বান—নিজেকে প্রস্তুত করো, প্রশ্ন করো, গবেষণায় আসো, এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার কাজে অংশ নাও।
📌 Contact Info
- গুগল স্কলার প্রোফাইল: https://scholar.google.com/citations?user=Kbls4icAAAAJ&hl=ko
- রিসার্চগেট প্রোফাইল: https://www.researchgate.net/profile/Md-Rana-24?ev=hdr_xprf
- গবেষণাগারের ওয়েবসাইট: https://pems.kentech.ac.kr/composition/view/25
- ইমেইল: [email protected]
ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানার সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি ইউটিউবে নিম্নের লিংক এ দেখুন: 👇👇👇

Leave a comment