উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগগবেষণার প্রথম পদক্ষেপ

ওষুধ তৈরির বিজ্ঞান নিয়ে আসছেন বিশ্ববিখ্যাত গবেষক অধ্যাপক ড. মহসিন কাজী

Share
Share

গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখা তরুণ পাঠকদের জন্য এক বিশেষ সাক্ষাৎকার আয়োজন

বিজ্ঞান ও গবেষণায় আগ্রহী তরুণ পাঠকদের জন্য আনন্দের খবর। বিজ্ঞানী অর্গ এ আমাদের আসন্ন সাক্ষাৎকার আয়োজনে অতিথি হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মহসিন কাজী। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মাসিউটিক্স বিভাগের অধ্যাপক। আধুনিক ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা, ন্যানোফর্মুলেশন এবং থ্রিডি-প্রিন্টেড ওষুধের মতো অগ্রসর গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি একজন স্বীকৃত নাম। যাঁরা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চান কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে গবেষণার জগতে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি হতে পারে এক মূল্যবান দিকনির্দেশনা।

অধ্যাপক ড. মহসিন কাজীর শিক্ষাজীবন বিস্তৃত হয়েছে কয়েকটি দেশজুড়ে। তিনি ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে স্নাতক (সম্মান) ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অ্যাবট ল্যাবরেটরিজে শিল্প-পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ২৯২টির বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের রচয়িতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অসংখ্য বক্তৃতা দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এলসেভিয়ারের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী তিনি বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের শীর্ষ ২ শতাংশের মধ্যে স্থান পেয়েছেন। গবেষণা প্রকল্পের জন্য তিনি ৭০ লাখ সৌদি রিয়ালেরও বেশি অর্থের অনুদান অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একটি লিপিড গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পাশাপাশি একাধিক পিএইচডি ও এমএসসি শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি মোনাশ ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের একজন অ্যাকাডেমিক ভিজিটর ও মেন্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. কাজীর গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো ওষুধের আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা—অর্থাৎ একটি ওষুধ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে শরীরের প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছাতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করা। তাঁর বিশেষ আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে লিপিডভিত্তিক ন্যানোফর্মুলেশন ও সেলফ-ন্যানোইমালসিফাইং পদ্ধতি, পানিতে কম দ্রবণীয় ওষুধের শোষণ বাড়ানোর কৌশল, তরল ওষুধকে কঠিন ডোজে রূপান্তর, এবং থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে ওষুধ তৈরি। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে উন্নত ওষুধ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ অনুমান নিয়েও তিনি কাজ করছেন। সাধারণভাবে দেখতে গেলে, এই গবেষণাগুলো সরাসরি মানুষের চিকিৎসা ও সুস্থ জীবনের সঙ্গে যুক্ত—যে ওষুধ আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি, তা আরও নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথ দেখায় এ ধরনের কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ এবং ডায়াবেটিস ও আলঝেইমার চিকিৎসায় হলুদ থেকে প্রাপ্ত উপাদান ব্যবহারের মতো বিষয়েও তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক পেটেন্ট অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাক্ষাৎকার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক তরুণই বিজ্ঞান ভালোবাসেন, কিন্তু গবেষণার জগতে কীভাবে প্রবেশ করতে হয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, বৃত্তি কীভাবে পাওয়া যায়, কিংবা একজন গবেষকের প্রতিদিনের জীবন আসলে কেমন—এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পান না। ড. কাজী নিজে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরবে শিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও কাজ করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর গবেষণা-সহযোগিতার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বক্তা হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। ফলে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। এই সাক্ষাৎকারে তরুণ পাঠকেরা গবেষণার পথ, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, বৃত্তি ও তহবিল ব্যবস্থাপনা, এবং ফার্মেসি ও ওষুধপ্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীর কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।

একজন বিজ্ঞানীর জীবন কেবল ডিগ্রি আর প্রকাশনার তালিকা নয়—এর পেছনে থাকে দীর্ঘ পরিশ্রম, ব্যর্থতা থেকে শেখা, ধৈর্য এবং প্রশ্ন করার সাহস। ড. মহসিন কাজীর যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক লক্ষ্য ও অধ্যবসায় থাকলে সীমিত সুযোগ থেকেও বিশ্বমানের গবেষক হওয়া সম্ভব। যাঁরা স্বপ্ন দেখেন একদিন নতুন কিছু আবিষ্কার করবেন, কিংবা মানুষের সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজবেন, তাঁদের জন্য এমন একজন গবেষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা হতে পারে এক বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর কথা থেকে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবেন কীভাবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হয়, কীভাবে একটি গবেষণা প্রশ্নকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে হয়, এবং কীভাবে নিজের দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানের কাজে কাজে লাগাতে হয়।

আমরা বিশ্বাস করি, এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের অসংখ্য বিজ্ঞানমনস্ক তরুণের মনে নতুন প্রশ্ন ও নতুন স্বপ্নের জন্ম দেবে। তাই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং গবেষণা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী সব তরুণ পাঠককে এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। নির্ধারিত সময়ে যুক্ত থাকুন, প্রশ্ন করুন এবং একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার এই সুযোগটি কাজে লাগান।

অনুষ্ঠানের তথ্য

📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)

ইভেন্টের সময়: ১৪ জুন ২০২৬ (রবিবার), রাত ১০ টা বাংলাদেশ সময়
উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি।
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু মুমু

বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org