বিদেশে গিয়ে কাজ করা অনেক শিক্ষার্থী ও গবেষকের মনে একটি অদৃশ্য ভয় কাজ করে—নিজের দেশ, ভাষা বা পরিচয়ের কারণে তারা কি পিছিয়ে পড়বে? বৈশ্বিক গবেষণাগারে কাজ করার সময় পরিচয় কি বাধা হয়ে দাঁড়ায়? ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নগুলোর একটি ইতিবাচক উত্তর দেয়। তাঁর ভাষায়, “আমি যেখানে কাজ করেছি, সেখানে আমার পরিচয় ছিল আমার কাজ।” এই বক্তব্য বৈজ্ঞানিক পরিবেশে যোগ্যতা ও অবদানের গুরুত্বকে সামনে আনে।
গবেষণার জগতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারে, জাতিগত বা ভৌগোলিক পরিচয়ের চেয়ে কাজের মানই প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে। ড. আশরাফউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশে কাজ করার সময় দেখেছেন—যে গবেষক নতুন জ্ঞান যোগ করতে পারে, সমস্যার সমাধান দিতে পারে, তার পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয় কাজের মাধ্যমেই। শুরুতে বিদেশি পরিবেশে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়—ভাষাগত বাধা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও ভিন্ন কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো পেরিয়ে গেলে গবেষকের অবদানই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি দেয়। অনেক সময় আমরা ভাবি, উন্নত দেশের গবেষণাগারে সুযোগ পেলে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হবে। কিন্তু ড. আশরাফউদ্দিনের অভিজ্ঞতা বলছে—নিজের কাজে আন্তরিকতা ও দক্ষতা থাকলে পরিবেশ আপনাকে গ্রহণ করবেই। গবেষণায় সাফল্যের মাপকাঠি হলো ফলাফল ও অবদান—আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন, সেটি নয়।
এই বক্তব্যের আরেকটি দিক হলো—কাজের মান দিয়ে পরিচয় তৈরি করা মানে নিজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা। গবেষণাজীবনে ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করতে হলে প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, নিয়মিত শেখার অভ্যাস এবং পদ্ধতিগত কাজের মান বজায় রাখা। ড. আশরাফউদ্দিনের গবেষণাজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়—তিনি যেখানে কাজ করেছেন, সেখানেই নতুন ক্ষেত্র বা নতুন পদ্ধতির সূচনা করেছেন। এতে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছে গবেষণার ফলের মাধ্যমে।
একই সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের আত্মপরিচয়ের ধারণাকেও প্রসারিত করে। নিজের দেশ ও সংস্কৃতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বৈজ্ঞানিক পরিসরে নিজেকে উপস্থাপন করতে হলে কাজের মাধ্যমেই নিজেকে চেনাতে হয়। এই মনোভাব তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে—তারা বুঝতে পারে, বৈশ্বিক পরিসরে দাঁড়াতে হলে নিজের কাজের মানকেই প্রধান অস্ত্র বানাতে হবে।
সবশেষে, ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্য আমাদের শেখায়—বিজ্ঞানচর্চায় পরিচয়ের রাজনীতি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ; গুরুত্বপূর্ণ হলো অবদান। এই উপলব্ধি তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণা—বিশ্বের যেখানেই কাজ করুন না কেন, নিজের কাজকে এমন মানে নিয়ে যেতে হবে, যাতে সেটিই আপনার পরিচয় হয়ে ওঠে।
ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:

Leave a comment