গবেষণার প্রথম পদক্ষেপ

ভুয়া জার্নাল ও প্রিডেটরি পাবলিশার চেনার উপায়

Share
Share

গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সেই জ্ঞানকে বিশ্ববাসীর সঙ্গে ভাগাভাগি করা। আর সেই ভাগাভাগির মাধ্যম হলো একাডেমিক জার্নাল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গবেষণার এই মৌলিক কাঠামোকে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা—ভুয়া জার্নাল ও প্রিডেটরি পাবলিশার। এরা অর্থের বিনিময়ে যেকোনো প্রবন্ধ ছাপায়, কোনো মান যাচাই ছাড়াই। এর ফলে গবেষকের কাজ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না, বরং তাঁর সুনাম নষ্ট হয়।

তরুণ গবেষকদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ অনেকেই দ্রুত প্রবন্ধ প্রকাশ করতে চান, ক্যারিয়ার অগ্রগতির জন্য প্রকাশনার সংখ্যা বাড়াতে চান। এই সুযোগই কাজে লাগায় প্রিডেটরি পাবলিশাররা। তারা ইমেইল করে প্রবন্ধ জমা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, কম সময়ে প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেয়, আর প্রকাশনার ফি দাবি করে। অনেকেই এই প্রলোভনে পড়ে যান।

তাহলে প্রশ্ন হলো—কিভাবে ভুয়া জার্নাল চেনা যাবে? প্রথমত, জার্নালের ওয়েবসাইট ভালোভাবে দেখা উচিত। প্রায়ই সেখানে বানান ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য, এবং অবিশ্বস্ত ঠিকানা থাকে। দ্বিতীয়ত, Editorial Board পরীক্ষা করা জরুরি। যদি সেখানে তালিকাভুক্ত অনেক নাম অচেনা হয়, বা বাস্তবে ওই গবেষকরা নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন, তবে সেটি সন্দেহজনক।

তৃতীয়ত, Indexing দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মানসম্মত জার্নাল সাধারণত Scopus, Web of Science বা PubMed-এর মতো ডাটাবেসে সূচিবদ্ধ থাকে। ভুয়া জার্নাল প্রায়ই নিজেদের নাম এসব ডাটাবেসের সঙ্গে জুড়ে দেয়, কিন্তু আসলে সূচিবদ্ধ নয়। তাই যাচাই করা দরকার।

চতুর্থত, প্রকাশনার ফি। অনেক মানসম্মত ওপেন-অ্যাকসেস জার্নাল ফি নিলেও তারা স্পষ্টভাবে জানায় কেন ফি নেওয়া হচ্ছে এবং তার বিনিময়ে কী সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু প্রিডেটরি জার্নাল প্রায়ই অস্পষ্ট বা অযৌক্তিক ফি দাবি করে।

বাংলাদেশি তরুণ গবেষকদের জন্য এখানে একটি বড় করণীয় হলো—শিক্ষক বা অভিজ্ঞ গবেষকদের পরামর্শ নেওয়া। কোনো জার্নালে প্রবন্ধ জমা দেওয়ার আগে তার মান যাচাই করা উচিত। Beall’s List বা Think.Check.Submit এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকেও প্রাথমিক ধারণা নেওয়া যায়।

সবশেষে বলা যায়, ভুয়া জার্নাল ও প্রিডেটরি পাবলিশার গবেষণার সবচেয়ে বড় শত্রু। এগুলো এড়ানো শুধু গবেষকের সুনামের জন্য নয়, বরং জ্ঞানের মান বজায় রাখার জন্যও জরুরি। তরুণ গবেষকদের উচিত ধৈর্য ধরে মানসম্মত জার্নালে প্রকাশের চেষ্টা করা—যেখানে গবেষণার সত্যিকারের মূল্যায়ন হয়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles