উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগগবেষণার প্রথম পদক্ষেপ

“শিক্ষার্থীরাই অনেক সময় গবেষণার নতুন আইডিয়ার উৎস” — ড. মোহাম্মদ আতাউল করিম

Share
Share

গবেষণার জগতে নতুন ধারণা কোথা থেকে আসে—এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই অভিজ্ঞ গবেষক বা সিনিয়র বিজ্ঞানীদের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু ড. মোহাম্মদ আতাউল করিমের দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণা-অভিজ্ঞতায় একটি ভিন্ন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, অনেক সময় গবেষণার সবচেয়ে তাজা ও সৃজনশীল আইডিয়াগুলোর উৎস হন শিক্ষার্থীরাই। এই উপলব্ধি তাঁর শিক্ষাদর্শন ও গবেষণা-পরিবেশ গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ড. করিমের গবেষণাগারে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল কেবল নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে, বিদ্যমান ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং বিকল্প পথ ভাবতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, তরুণরা প্রায়ই এমন প্রশ্ন তোলে, যেগুলো অভিজ্ঞ গবেষকদের চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পূর্বধারণার ভার কম বহন করে; তারা সমস্যাকে তুলনামূলকভাবে খোলা মনে দেখে। এই মুক্ত চিন্তাধারা থেকেই অনেক সময় নতুন গবেষণা দিকনির্দেশনা তৈরি হয়।

এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় তাঁর বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে। অনেক বড় প্রকল্পের শুরু হয়েছে ছোট কোনো শিক্ষার্থী-প্রস্তাবিত ধারণা থেকে, যা পরে পরিমার্জিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নিয়েছে। ড. করিমের মতে, শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল শক্তিকে গুরুত্ব না দিলে গবেষণার পরিবেশ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। গবেষণা তখন কেবল বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরে ঘুরপাক খায়, নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের আইডিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি দিক হলো তাদের গবেষক হিসেবে গড়ে ওঠা। যখন একজন শিক্ষার্থী দেখে যে তার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে, তখন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। এই আত্মবিশ্বাসই তাকে ভবিষ্যতে স্বাধীন গবেষক হিসেবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। ড. করিম মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কেবল গবেষণার ‘সহকারী’ হিসেবে দেখলে তাদের সৃজনশীলতা সীমাবদ্ধ থাকে। বরং তাদেরকে গবেষণার অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলে তারা প্রকৃত অর্থে গবেষণার সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উপলব্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা বা ভিন্ন মত প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়। ফলে তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ড. করিমের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বলা যায়, যদি শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে শিক্ষার্থীদের কৌতূহলকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তবে নতুন গবেষণা ধারণা জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত “শিক্ষার্থীরাই অনেক সময় গবেষণার নতুন আইডিয়ার উৎস”—এই উপলব্ধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে গবেষণার ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তরুণদের হাতেই। তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিলে কেবল গবেষণার মানই বাড়ে না, বরং ভবিষ্যতের গবেষক তৈরির পথও প্রশস্ত হয়।

ড. মোহাম্মদ আতাউল করিমের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org