Home / তথ্যপ্রযুক্তি / সাক্ষাৎকার : শাহ আহমেদ রাজা : আইওটির মাধ্যমে স্কুল বাসের অবস্থান জানা

সাক্ষাৎকার : শাহ আহমেদ রাজা : আইওটির মাধ্যমে স্কুল বাসের অবস্থান জানা

আইওটি কি?

ইন্টারনেট অফ থিংস Internet of Things কে সংক্ষেপে আইওটি বলে যার বাংলা অর্থ হল বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ। আইওটি শব্দটা যদিও নতুন আমাদের কাছে নতুন শোনালেও বেশ অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন জিনিসপত্রকে অটোমেশন করার জ‍ন‍্য কম্পিউটার সিস্টেম এসবের সাথে সংযুক্ত ছিল। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় কাপড় ধোবার মেশিন। কাপড়ের পরিমান এবং ওজন বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করে কাপড় ধোবার কাজটি অটোমেটিক ভাবে করার জন‍্য এই মেশিনে কম্পিউটার সিস্টেম এর সাথে সংযুক্ত থাকে, যাকে আমরা এম্বেডেড সিস্টেম Embedded System বলি।

জিনিসপত্রের এই কম্পিউটার সিস্টেমের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ দেবার মাধ্যমে আমরা তাকে বলছি ইন্টারনেট সংযোজিত জিনিসপত্র বা আইওটি । আমাদের ঘরের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন টিভি, ফ্রিজ এগুলোকে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকা এবং নেটওয়ার্কের এর সাথে সংযুক্ত থাকার কারনে এইগুলো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারে। আইওটি’র বিভিন্ন ব্যবহার এবং নতুন ধরনের ব্যবসায়িক মডেল বিশ্বে তৈরী হচ্ছে।

 

শাহ আহমেদ রাজা:

সেরকম একটি মডেল নিয়ে বা আইওটির ব্যবহার নিয়ে আজ আমরা শাহ আহমেদ রাজা ভাইয়ের সাথে কথা বলব। রাজা ভাই অনেক দীর্ঘ সময ধরে এম্বেডেড সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন। আইবিএম, সিসকো সহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করেছেন। অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, টেলিকমিউনিকেশন, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সিস্টেম নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন ।

 

টেকনাফ:

এখন তিনি এই সমস্ত সিস্টেম গুলোকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস দিচ্ছেন। তিনি ও তার বন্ধু মিলে টেকনাফ (Technuf, http://technuf.com/) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন যেটি আইওটি’র বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস দিচ্ছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের বাসগুলোকে আইওটি’র মাধ্যমে কিভাবে মনিটর করা যায় এবং তা কিভাবে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরকে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন।

 

আইওটির মাধ‍্যমে স্কুল বাসের অবস্থান জানা

আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুলবাস দিয়ে অনেক দূর পাড়ি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের একত্রিত করা হয়। আবার স্কুল শেষে স্কুলবাস দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বাসায় পৌছে দেয়া হয়। রাজা ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান টেকনাফ আইওটির মাধ্যমে গাড়িগুলোকে ট্র্যাকিং করে। অভিভাবক ও শিক্ষকরা মোবাইল ফোন কিংবা ট্যাবলেট ডিভাইস যে কোন জায়গা থেকে থেকেই বাস ও ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান জানতে পারেন।

সকাল বেলায় বাসার কাছাকাছি স্কুল বাসটি পৌছলে অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কাছে আসার পর তিনি তার বাচ্চা কে বাসে তুলে দিবে। বাসড্রাইভার প্রতিটা স্টপে পৌছবার পরে তার পাশে থাকা ডিসপ্লেতে দেখতে পাবেন সেই স্টপেজ কোন ছাত্রছাত্রীরা উঠবে। ডিসপ্লেতে বাসড্রাইভার তাদের ছবি দেখে চেক করে নিবেন। বাসটি স্কুলে পৌছানোর পর ছাত্রছাত্রীরা নেমে গেলে তাদের অবস্থানটি বাসড্রাইভার তার ডিভাইসে ইনপুট করবেন। একজন অভিভাবক বাসা কিংবা অফিস থেকেই তার মোবাইল ডিভাইস এ মাধ্যমেই দেখতে পারবে তার বাচ্চা ঠিক মত স্কুলে পৌছালে কিনা। ঠিক একইভাবে স্কুল থেকে বাসায় ফিরল কিনা সেটাও একইভাবে দেখা যাবে। যেহেতু স্কুল কলেজ থেকে বাসা অনেক দূরে, সেই কারনে সন্তানের নিরাপত্তার নিয়ে বাবামা’রা উদ্বিগ্ন থাকেন। তাদের উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্ত দিতে এই ধরনের সার্ভিস গুলো চালু হচ্ছে।

টেকনাফ বর্তমানে আইওটি’র এই রকম ব্যবহারের উপর পরীক্ষামূলক প্রোজেক্ট চালাচ্ছে। এছাড়াও আইওটি ডিভাইসের সাথে বাসের কন্ট্রোলার বাক্সের সাথে সংযুক্ত করে বাসের স্পিড সহ আনুসঙ্গিক অনেক তথ‍্য পাওয়া যায়। বাসটা নিরাপদে চলছে কিনা, ওভারস্পীড হল কিনা বা কোন দূর্ঘটনায় পড়ল কিনা – আইওটি সিস্টেমের মাধ্যমে অভিভাবকরা জানতে পারবেন। আবার প্রয়োজন হলে বাসের ভিতরের ভিডিও ক্যামেরাতে বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

 

আইওটি’র ব‍্যবসার মডেল

আইওটি যন্ত্রের সাথে যেহেতু অনেক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত থাকে, তাই যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ খরচটা একটু বেশিই হয়। তাই অনেকেই এই সিস্টেমটি কিনতে আগ্রহী হয়নি। পরবর্তীতে টেকনাফ আমেরিকার বিভিন্ন টেলিফোন প্রতিষ্ঠানের সাথে একত্রে কাজ করে এই সার্ভিসটি খুব কম মূল্যে মাসিক কিস্তিতে দিচ্ছেন। বর্তমানে টেকনাফের এই সিস্টেমটি আমেরিকাতে সফলভাবে চলছে এবং অন্যান্য দেশেও এটা চালু করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিদেশের দূতাবাসের লোকজন এ ধরনের সার্ভিসের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। তারা ছেলেমেয়েরা ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে পড়ে এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে তারা খুব উদ্বিগ্ন থাকেন।

টেকনাফের এই আইওটি সিস্টেম ব‍্যবহার করে তারা তাদের সন্তানদের অবস্থান মনিটর করতে পারবেন, কোন দূর্ঘটনা বা ছিনতাইকারির কবলে পড়ল কিনা জানতে পারবেন। আইওটির বিভিন্ন ধরনের ব্যাবহারের মধ্যে রাজা ভাই এর প্রতিষ্ঠান একটি উদাহরন মাত্র। পাশাপাশি আর অনেক ধরনের কাজ হচ্ছে।

হার্ডওয়‍্যার

গত কয়েক দশক ধরেই এম্বেডেড বিভিন্ন হার্ডওয়্যারগুলো বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে এই সেন্সর গুলোতে ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

আইওটি প্লাটফরমের ব্যাপারে আমরা রাজা ভাই এর সাথে আলোচনা করছিলাম বড় বড় হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠান গুলো আইওটির বিভিন্ন হার্ডওয়্যার নিয়ে আসছে কিন্তু পাশাপাশি মোবাইল ফোনও আইওটির হার্ডওয়্যার হিসেবে কাজ করছে। সাধারন মোবাইল ডিভাইসে বিভিন্ন সেন্সর থেকে এবং সেন্সর গুলো ইন্টারনেট এর সাথে সংযোগ থাকে বলে তথ্য ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ক্লাউড এ পাঠানো যায়।

আইওটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আইওটির এখন শুধুমাত্র ডাটা সংগ্রহ করে সার্ভারে প্রদান করছে কিন্তু আমরা এখন দ্বিতীয় ধাপে দেখতে পাচ্ছি যেখানে আমরা এই সেন্সর গুলো থেকে লব্ধ তথ্য গুলিকে আরটিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর মাধ্যমে এটাকে যাচাই করে দেখবে। এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্যাটার্ন গুলোকে পর্যবেক্ষন করে দেখবে এখানে কোন এলার্ট বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে কিনা।

About ড. মশিউর রহমান

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে একটি গবেষনাকেন্দ্র বৈজ্ঞানিক হিসাবে কর্মরত।

Check Also

সাক্ষাৎকারঃ আরিফ রেজা আনোয়ারি

সাক্ষাৎকার: বিজ্ঞানী.অর্গ   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো নতুন নতুন সংবাদ জানতে সাবস্ক্রাইব করুন। সংশ্লিষ্ট লেখা:সাক্ষাৎকার: …

ফেসবুক কমেন্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।