Home / চিকিৎসা বিদ্যা / স্টেম সেল ও নোবেল পুরষ্কার

স্টেম সেল ও নোবেল পুরষ্কার

গত সপ্তাহেই আমরা বিজ্ঞানী.org এ একটি খবর প্রকাশিত করেছিলাম। আর এই সপ্তাহেই সেই স্টেম সেল আবারও খবরে এলো। এবার খবরটি আরও দুর্দান্ত।

প্রথমেই বলে নিই স্টেম সেল কি?

আমরা জানি শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে প্রথমে একটি কোষ তৈরি হয় এবং তা পর্যায়ক্রমে আরও অনেক অনেক কোষে বিভাজন হয় এবং আরও অনেক পরে সেই কোষগুলি ধীরে ধীরে ত্বক ও অন্যান্য অঙ্গ তে রূপান্তর হয়। প্রাথমিক এই এম্বয়ওনিক কোষগুলিকে স্টেম সেল বলে। এই অঙ্গতে রূপান্তর হওয়া বেশ জটিল এবং বিজ্ঞানীরা গত ৪০ বছর ধরে এই পক্রিয়াটি ভালোমতো বুঝার চেষ্টা করছিলেন। এই স্টেম সেলগুলি যেহেতু অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রূপান্তর হয়, তাই এইগুলিকে ঠিকমত আমরা প্রোগ্রাম করতে পারলে আমরা সেখান থেকে অঙ্গ তৈরি করতে পারবো। এই ধারণার উপর ভিত্তি করে অনেক বিজ্ঞানী সফল কিছু পরীক্ষা দেখাতে সমর্থ হয়েছে।

স্টেম সেল নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক আশাবাদী। আর স্টেম সেলকে কিভাবে রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত রোগ গুলিকে মানুষ জয় করতে পারেনি। সেগুলিকে কাবু করার জন্য “স্টেম সেল” ব্যবহার করে জয় করার স্বপ্ন দেখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক অনেক গবেষণায় বেশ আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন।

১৯৬২ সনে যুক্তরাজ্যের জন গার্ডন আবিষ্কার করেন কিভাবে দেহকোষ থেকে স্টেম সেল তৈরি করা সম্ভব। এরপরে বিজ্ঞানীরা এর প্রয়োগ নিয়ে অনেক কাজ করেন। কিন্তু কিভাবে সহজেই এই স্টেম সেল তৈরি করা সম্ভব হবে তা নিয়ে খুব একটা এগুতে পারেনি। তবে মারাত্মক আবিষ্কার করে বসলেন শিনিয়া ইয়ামানাক। জাপানের কিউওতো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক বিজ্ঞানীদের এক মারাত্মক চমক দেখান। তিনি দেখান যে স্টেম সেল তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। সাধারণ কোষের মাত্র ৪টি জিন পরিবর্তন করে দিয়েই খুব সহজেই স্টেম সেল তৈরি করা সম্ভব হবে।

আমরা জানি, নোবেল পুরষ্কার দেবার সময় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যারা ভূমিকা রেখেছিল কিংবা একদম শুরুর কাজগুলি যারা করেছিল তাদের পুরষ্কিত করা হয়। স্টেম সেলের মারাত্মক আশার কথা আমরা শুনছিলাম এবং বিজ্ঞানীরা আশা করছিলাম যে এবার না হলেও খুব শীঘ্রই স্টেম সেলের উপর কাউকে নোবেল দেয়া হবে।

নোবেল পুরষ্কার ঘোষণায় আমরা খুবই খুশী হয়েছি। এর ফলে সবার আগ্রহ বাড়বে এবং এই সংক্রান্ত যারা কাজ করছে তাদের ফান্ড (গবেষণার জন্য অর্থ) পেয়ে এই সংক্রান্ত গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

(সাক্ষাতকারের জন্য লিখিত টেক্সট থেকে সংগ্রীহিত)

 

About ড. মশিউর রহমান

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে একটি গবেষনাকেন্দ্র বৈজ্ঞানিক হিসাবে কর্মরত।

Check Also

স্কিতজোফ্রেনিয়া

অবিশ্বাস্য বলে মনে হলেও পৃথিবীর ৫১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ “স্কিতজোফ্রেনিয়া” নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত (সূত্রঃ …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. স্টেম সেল নিয়ে আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করছি, এ বিষয়ক বই, প্রবন্ধ, ব্লগ ইত্যাদির লিন্ক চাই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।