এসো শিখিসাধারণ বিজ্ঞান

রাতের বাদুড় থেকে আকাশের মহাকাশ স্টেশন: বিজ্ঞানকে কাছ থেকে দেখার চারটি উপায়

Share
Share

লেখক: মো. ইফতেখার হোসেন | সম্পাদকীয় পর্যালোচনায়: মো. মঞ্জুরুল ইসলাম | তথ্য যাচাই: মো. ইফতেখার হোসেন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬| সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সন্ধ্যা নামছে।

ছাদের কার্নিশে শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যাচ্ছে।

ওপরে তাকালে একটা ছায়া ছোট্ট একটা ঝাপটায় এঁকেবেঁকে বেরিয়ে গেল।

পাখি?

না।

আর একটু পরে আকাশের এক কোণে একটা উজ্জ্বল বিন্দু নিঃশব্দে হেঁটে চলল।

তারা?

তাও না।

বিজ্ঞান কখনো কখনো এভাবেই আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চুপচাপ উড়ে যায়।

গবেষণাগারের বাইরে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, আকাশ, পানি এমনকি মাটির নিচেও ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গল্প।

একটু কৌতূহল আর পর্যবেক্ষণের অভ্যাস থাকলেই সেগুলোর কিছু আমরা নিজেরাই দেখতে পারি।

শরতের মৌসুমে প্রকৃতিকে নতুনভাবে দেখার এমন কয়েকটি সহজ উপায় তুলে ধরেছে Discover Magazine।

১. রাতের আকাশে বাদুড়ের সন্ধান

সূর্য ডোবার পর অনেক প্রাণী সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তাদের মধ্যে বাদুড় অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণী।

কোথায় খুঁজবেন?

• কোনো জলাশয়ের কাছে
• খোলা মাঠে
• গাছপালার আশপাশে

সন্ধ্যার পর সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে আকাশে দ্রুত উড়ে চলা বাদুড় দেখা যেতে পারে।

বাদুড় শুধু রাতের অন্ধকারে উড়ে বেড়ায় না।

তারা শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেয়।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইকোলোকেশন।

বাদুড় খুব উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে।

সেই শব্দ কোনো বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলে প্রতিধ্বনি থেকে তারা বুঝতে পারে:

• সামনে কী আছে
• সেটি কতটা দূরে

ছবি ১ : একটি বাদুড়ের চিহ্ন থেকে ছড়িয়ে পড়া টিল রঙের বৃত্তচাপ একটি মথের চিহ্নে লেগে ফিরে আসছে, দূরত্ব বোঝাতে বিন্দুরেখা। ছবির লেখা: “শব্দ যায়, প্রতিধ্বনি ফেরে”

২. বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সহজ ব্যবস্থা

বৃষ্টির পানি প্রকৃতির একটি মূল্যবান সম্পদ।

বাড়ির ছাদে পড়া বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

এজন্য তৈরি করা যায় একটি সাধারণ রেইন ব্যারেল বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা।

ছাদের পানির প্রবাহকে একটি উপযুক্ত পাত্রে নিয়ে সংরক্ষণ করলেই এর মৌলিক কাঠামো তৈরি হয়।

এতে দুটি লাভ:

• একদিকে পানির অপচয় কমে
• অন্যদিকে বৃষ্টির পানির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়

তবে একটি কথা মনে রাখা দরকার।

সংরক্ষিত পানি পান করার জন্য ব্যবহার করার আগে অবশ্যই উপযুক্ত পরিশোধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ছবি ২ : তীরচিহ্নে যুক্ত তিনটি চিহ্নের সারি: “ছাদ”, “পাইপ”, “পাত্র”।

৩. মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা রত্ন খুঁজুন

পৃথিবীর ভূত্বকের ভেতরে রয়েছে নানা ধরনের খনিজ ও স্ফটিক।

কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষও বৈধভাবে খনিজ বা রত্নপাথর অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

এ ধরনের অনুসন্ধানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো:

একটি সাধারণ দেখতে পাথরের ভেতরেও থাকতে পারে সুন্দর স্ফটিকের গঠন।

ভূতত্ত্বের দৃষ্টিতে প্রতিটি পাথরই যেন পৃথিবীর অতীতের একটি ছোট নথি।

তার গঠন, রং ও খনিজ উপাদান থেকে জানা যায়, কোন ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশে সেটি তৈরি হয়েছিল।

তবে কোথাও খনিজ সংগ্রহের আগে মেনে চলা জরুরি:

• স্থানীয় আইন
• প্রয়োজনীয় অনুমতি
• পরিবেশগত বিধিনিষেধ

৪. আকাশে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন খুঁজে দেখুন

রাতের আকাশে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি উজ্জ্বল বিন্দুকে দ্রুত এক দিক থেকে অন্য দিকে যেতে দেখলে সেটি বিমান নাও হতে পারে।

সেটি হতে পারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)।

ISS পৃথিবীর চারপাশে কক্ষপথে ঘুরছে।

নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খালি চোখেও সেটিকে দেখা সম্ভব।

এটি সাধারণত তারার মতো উজ্জ্বল দেখায়।

কিন্তু তারার মতো একই জায়গায় স্থির থাকে না।

আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যেতে পারে।

ISS দেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আগে জেনে নেওয়া, আপনার অবস্থান থেকে কখন এবং কোন দিকে এটি দেখা যাবে।

বিভিন্ন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সেবা ও অ্যাপ এ বিষয়ে সময় ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ছবি ৩ : আকাশের গম্বুজের সরল রেখাচিত্রে নিচের বাঁ দিকের দিগন্ত থেকে ওপরের ডান দিকে টিল রঙের বাঁকানো পথ, পাশে কম্পাস ও ঘড়ির চিহ্ন। ছবির লেখা: “কখন? কোন দিকে? আগে জেনে নিন”

চার উপায়ের এক সুতো

বাদুড়ের ইকোলোকেশন।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ।

মাটির নিচের খনিজ।

পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে চলা মহাকাশ স্টেশন।

বিষয়গুলো দেখতে আলাদা হলেও একটি জায়গায় তাদের মিল রয়েছে।

কৌতূহল।

বিজ্ঞান শেখার জন্য সবসময় বড় গবেষণাগার প্রয়োজন হয় না।

বিজ্ঞানচর্চার শুরু হতে পারে:

• রাতের আকাশের দিকে তাকানো
• একটি পাথর হাতে নিয়ে তার গঠন পর্যবেক্ষণ করা
• বৃষ্টির পানি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তা অনুসরণ করা

আজ সন্ধ্যায় একটা কাজ করুন

আজ সন্ধ্যায় একটু আগে ছাদে বা মাঠের ধারে যান।

মোবাইল পকেটে রেখে শুধু ওপরে তাকান।

কিছু একটা চোখে পড়বেই।

একটা ছায়া।

একটা আলো।

একটা প্রশ্ন।

প্রশ্ন করার অভ্যাস থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান।

আর সেই অনুসন্ধানই ধীরে ধীরে আমাদের চারপাশের পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়।

তথ্যসূত্র

১। Discover Magazine, শরতে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার উপায় নিয়ে প্রতিবেদন।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ