গবেষণাগারে তৈরি একটি অণু কীভাবে ধাপে ধাপে মানুষের চিকিৎসার জন্য সম্ভাবনাময় ওষুধে পরিণত হয়? একজন রসায়নের শিক্ষার্থী কীভাবে ভাইরাসবিরোধী ওষুধ আবিষ্কার এবং নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরির আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হন? এসব প্রশ্নের উত্তর এবং একজন তরুণ বাংলাদেশি গবেষকের বাস্তব বিজ্ঞানযাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানী.org-এর বিশেষ সাক্ষাৎকারে আমাদের সঙ্গে থাকছেন ড. ইমরুল শাহরিয়ার।
ড. ইমরুল শাহরিয়ার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Eradivir Inc.-এ Director of Discovery হিসেবে কর্মরত। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Purdue University-তে রসায়নে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২৩ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে Purdue University-তে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি Eradivir-এর সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং সেগুলোকে গবেষণাগার থেকে রোগীর চিকিৎসার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।
তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে নতুন ধরনের চিকিৎসা উদ্ভাবন। তিনি এমন এক ধরনের দ্বি-লক্ষ্যভেদী ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কাজ করেছেন, যেখানে একটি অণু একদিকে ভাইরাসকে লক্ষ্য করে এবং অন্যদিকে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয়ভাবে সেই ভাইরাস শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সহায়তা করে। এই গবেষণা থেকে তৈরি পরীক্ষাধীন অণু EV25 প্রাক-ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও মানুষের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা অতিক্রম করে পরবর্তী ক্লিনিক্যাল গবেষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলেও ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতিকে ধারণা থেকে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই গবেষণার সঙ্গে বাংলাদেশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়েছে। ড. ইমরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, EV25-এর পরবর্তী পর্যায়ের গবেষণা আইসিডিডিআর,বি-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর গবেষণা শুধু ভাইরাসবিরোধী চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নেই; একই প্রযুক্তি ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে লাগানো যায় কি না, সেটিও তাঁর বর্তমান গবেষণার একটি অংশ।
এই সাক্ষাৎকার তাই শুধু একজন বিজ্ঞানীর জীবনকাহিনি নয়। যারা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ওষুধ আবিষ্কার, উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণায় যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার একটি সুযোগ। আলোচনায় উঠে আসবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণায় যাওয়ার পথ, পিএইচডির প্রস্তুতি, একজন ভালো গবেষক হওয়ার গুণ, গবেষণায় ব্যর্থতাকে সামলানো এবং একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
ড. ইমরুল মনে করেন, গবেষণার শুরু সব সময় বড় গবেষণাগার বা দামি যন্ত্রপাতি দিয়ে হয় না; শুরু হয় একটি ভালো প্রশ্ন, কৌতূহল এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে যাওয়ার মানসিকতা থেকে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য তাঁর বার্তাও তাই—যেখানে আছ, সেখান থেকেই শুরু করো; প্রশ্ন করো, যাচাই করো এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করো।
গবেষণার জগৎ, নতুন ওষুধ আবিষ্কারের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং একজন বাংলাদেশি গবেষকের আন্তর্জাতিক পথচলা কাছ থেকে জানতে আপনিও যুক্ত হতে পারেন বিজ্ঞানী.org-এর এই বিশেষ আয়োজনে।
অনুষ্ঠানের তথ্য
📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)
সময়: সন্ধ্যা ৭:০০টা (বাংলাদেশ সময়)
তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার)
উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু
বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Leave a comment