উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগপরিবেশ ও পৃথিবী

বাংলাদেশ থেকে কানাডা: এক তরুণ গবেষকের আন্তর্জাতিক গবেষণাপথের গল্প

Share
Share

বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে কানাডার গবেষণাগার—এই দীর্ঘ পথচলা কোনো হঠাৎ পাওয়া সৌভাগ্যের ফল নয়, বরং অধ্যবসায়, কৌতূহল ও ধৈর্যের সম্মিলিত ফসল। ড. কাজী হোসেনের জীবনপথ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। দেশের সীমিত সুযোগ-সুবিধার ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠা একজন শিক্ষার্থী কীভাবে আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন, তার একটি জীবন্ত উদাহরণ তিনি।

বাংলাদেশে পড়াশোনার সময়ই তিনি উপলব্ধি করেন, কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা কঠিন। বনবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক গবেষণা-পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে। এই উপলব্ধিই তাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে এগোতে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন দেশে আবেদন করার পর অবশেষে কানাডায় ফরেস্ট্রি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আসে। নতুন দেশে পা রেখেই শুরু হয় নতুন সংগ্রাম—ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য, তীব্র শীত, ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রথম দিনগুলো ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা।

তবে এই চ্যালেঞ্জের মাঝেই তিনি আবিষ্কার করেন শেখার এক নতুন সংস্কৃতি। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; বরং সহযোগিতামূলক। প্রশ্ন করা, ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং যৌথভাবে সমাধান খোঁজা—এসব বিষয় শেখার অংশ। এতে শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মায় এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ গভীর হয়। ড. কাজী হোসেনের ভাষায়, এখানে শেখা মানে কেবল তথ্য গ্রহণ নয়; বরং চিন্তা করার অভ্যাস তৈরি করা।

ধীরে ধীরে তিনি গবেষণার জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। বন ব্যবস্থাপনায় ডেটা বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তার কাজের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এই দক্ষতাগুলোই তাকে কানাডার সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এনে দেয়। সেখানে তিনি শুধু গবেষক নন; নীতিনির্ধারণে সহায়ক তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অর্থাৎ গবেষণার ফল সরাসরি বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

এই আন্তর্জাতিক পথচলায় ড. কাজী হোসেন কখনোই নিজের শিকড় ভুলে যাননি। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা তার চিন্তায় প্রভাব ফেলেছে। তিনি মনে করেন, বিদেশে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে প্রয়োগ করা গেলে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের উৎসাহ দেন বৈশ্বিক মানের গবেষণার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে।

ড. কাজী হোসেনের এই পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে প্রবেশ মানে শুধু বিদেশে থাকা নয়; বরং মানসিকতায় আন্তর্জাতিক হওয়া। শেখার প্রতি উন্মুক্ত মন, পরিশ্রমের মানসিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বৈশ্বিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. কাজী হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles