অটিজম একক কোনো অবস্থা নয় এবং এর একক কোনো কারণ নেই, বিজ্ঞানীদের উপসংহার
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, অটিজমকে একক কোনো কারণ বা একক কোনো অবস্থা হিসেবে বোঝা উচিত নয়। গবেষকরা দেখেছেন, যেসব শিশুদের অল্প বয়সে অটিজম শনাক্ত করা হয়, তাদের জেনেটিক ও বিকাশজনিত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয় তাদের তুলনায়, যাদের জীবনের পরে অটিজম শনাক্ত করা হয়। এই ফলাফল অটিজম বিকাশের ধরণ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
গবেষণায় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার শিশু ও কিশোর বয়সে অটিস্টিক ব্যক্তিদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী থেকে ৪৫ হাজারেরও বেশি রোগীর জেনেটিক তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
গবেষকরা জেনেটিক তথ্যকে রোগ নির্ণয়ের বয়সের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন, যাদের শৈশবে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, আর যাদের পরবর্তীকালে নিশ্চিত করা হয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য আবার অন্যরকম। দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সামান্যই মিল পাওয়া গেছে। এর মানে হলো, শৈশবে অটিজম শনাক্তের পেছনের জৈবিক প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে কৈশোর বা প্রাপ্তবয়সে শনাক্ত হওয়া অটিজমের তুলনায়।
প্রকৃতির ভিন্ন রূপ
গত সপ্তাহে Nature জার্নালে প্রকাশিত এই বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, ৬ বছরের আগে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তারা শৈশব থেকেই সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মতো আচরণগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিপরীতে, ১০ বছরের পর যারা শনাক্ত হয়েছে, তারা বেশি সমস্যায় পড়েছে কিশোর বয়সে। তাদের মধ্যে বিষণ্নতার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিও বেশি দেখা গেছে।
গবেষণা বলছে, পরে শনাক্ত হওয়া অটিজম রোগীদের গড় জেনেটিক প্রোফাইল অনেকটা ADHD বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু শৈশবে শনাক্ত হওয়া “ক্লাসিক” অটিজমের সঙ্গে নয়।
গবেষকরা উপসংহারে লিখেছেন, অটিজম শনাক্তের সময়কাল সম্পূর্ণ এলোমেলো নয়; বরং এটি অন্তর্নিহিত জেনেটিক পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে, যা অনেক সময় অন্যান্য মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গেও মিলে যায়।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের গবেষক এবং প্রবন্ধের প্রধান লেখক বরুণ ওয়ারিয়ার বলেন,
“প্রথমবারের মতো আমরা প্রমাণ পেলাম, আগে শনাক্ত হওয়া এবং পরে শনাক্ত হওয়া অটিজমের জৈবিক ও বিকাশজনিত প্রোফাইল আলাদা। ‘অটিজম’ আসলে একাধিক অবস্থার সমষ্টি।”
চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য নতুন অটিজম উপশ্রেণি তৈরি করা নয়; বরং এই অবস্থার ভিন্ন বিকাশ প্রক্রিয়া বোঝা, যাতে চিকিৎসা উন্নত করা যায়। ওয়ারিয়ার বলেন, “কিছু জেনেটিক প্রভাব মানুষকে অল্প বয়স থেকেই অটিজমের বৈশিষ্ট্য দেখাতে উদ্বুদ্ধ করে, যেটি সহজেই শনাক্ত করা যায়। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে জেনেটিক প্রভাব ঠিক করে দেয় কোন বৈশিষ্ট্য কখন প্রকাশ পাবে। অনেক সময় এসব বৈশিষ্ট্য এতটাই সূক্ষ্ম যে অভিভাবকরা সেগুলো টের পান না, যতক্ষণ না তা বড় হয়ে কিশোর বা কৈশোরে মানসিক কষ্টের কারণ হয়।”
যদিও তারা স্বীকার করেছেন যে গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে—যেমন নমুনার আকার ও চিকিৎসকের পরিবর্তে অভিভাবকের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরতা—তবুও লেখকরা মনে করেন, এই গবেষণা দেখায় কীভাবে অটিজমের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ধাপে প্রকাশ পায় এবং তা কীভাবে জেনেটিক প্রোফাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই তথ্য ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয়ের কৌশল ও থেরাপি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
ওয়ারিয়ার আরও বলেন, “পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো জেনেটিক ও সামাজিক উপাদানগুলোর জটিল সম্পর্ক বোঝা, যেগুলো পরে শনাক্ত হওয়া অটিস্টিক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দিকে নিয়ে যায়।”
‘অটিজম’ এক ছাতার নিচে বহু অবস্থা
লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের কগনিটিভ ডেভেলপমেন্টের এমেরিটাস অধ্যাপক উটা ফ্রিথ, যিনি গবেষণায় জড়িত ছিলেন না, তিনি মন্তব্য করেন, “এই গবেষণার সবচেয়ে বড় অবদান হলো দেখানো যে অটিজম একক কোনো অবস্থা নয়। সময় এসেছে স্বীকার করার যে ‘অটিজম’ শব্দটি আসলে বিভিন্ন অবস্থার এক মিশ্র ঝুড়ি। যদি কেউ বলে ‘অটিজম মহামারি,’ ‘অটিজমের কারণ,’ বা ‘অটিজমের চিকিৎসা,’ তাহলে প্রথম প্রশ্নই হওয়া উচিত—কোন ধরনের অটিজম?”
আপনি চাইলে আমি এটি সংবাদপত্র-শৈলীর সম্পূর্ণ ফিচার প্রতিবেদন আকারে সাজিয়ে দিতে পারি, যেখানে শিরোনাম, সাবহেডিং, উদ্ধৃতি এবং বিশ্লেষণ আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। চাইবেন কি আমি সেটি করে দিই?

Leave a comment