কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিমোট সেন্সিং ও ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তি আজ গবেষণার ধরন আমূল বদলে দিয়েছে। বন ব্যবস্থাপনা থেকে স্বাস্থ্য গবেষণা—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু ড. কাজী হোসেনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া গবেষণা পূর্ণতা পায় না।
প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুত ও বড় পরিসরে তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা। উপগ্রহচিত্র বা ডেটা মডেলের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকার অবস্থা এক নজরে বোঝা যায়। এতে নীতিনির্ধারকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই সুবিধার মধ্যেই একটি ঝুঁকি লুকিয়ে আছে—মানুষের জীবনযাপন, স্থানীয় বাস্তবতা ও সামাজিক প্রভাবকে কেবল সংখ্যার ভাষায় ধরার প্রবণতা। ড. কাজী হোসেন বলেন, কোনো বনভূমি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও আবেগের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হলে নীতি টেকসই হয় না।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি মানে গবেষণায় মানুষের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেওয়া। যেমন, কোনো এলাকায় বন সংরক্ষণের পরিকল্পনা করলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর তার প্রভাব কী হবে—এটি বোঝা জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য দেখাতে পারে বনভূমির ক্ষয় বা পুনর্জন্মের হার, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন কেমন হবে—তা বোঝার জন্য প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক গবেষণা। এই দুই ধরনের জ্ঞান একসঙ্গে ব্যবহার করলে সিদ্ধান্ত আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
ড. কাজী হোসেনের মতে, প্রযুক্তি গবেষককে সহায়তা করে, কিন্তু গবেষকের নৈতিক দায়িত্ব কমায় না। ডেটার সীমাবদ্ধতা বোঝা, অনিশ্চয়তা স্বীকার করা এবং সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া—এসবই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ। প্রযুক্তিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নিলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন আরও বেশি। উন্নয়ন প্রকল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত অনেক সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। ফলে উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ড. কাজী হোসেনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের কণ্ঠ যুক্ত করতে পারলে নীতি ও গবেষণা উভয়ই অধিক গ্রহণযোগ্য হয়।
সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি গবেষণাকে শক্তিশালী করে, আর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণাকে অর্থবহ করে তোলে। এই দুইয়ের সমন্বয়েই টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের পথ সুদৃঢ় হয়।
এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. কাজী হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Leave a comment