বাংলাদেশের কোনো গ্রাম থেকে একজন কিশোরের যাত্রা শুরু হতে পারে কাঁচা রাস্তার ধুলো মাড়িয়ে। সেই পথ কখনো কখনো তাকে নিয়ে যেতে পারে জেলা শহরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে, তারপর পৃথিবীর উন্নত গবেষণাগারে। কিন্তু সেই যাত্রার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে—সে কি ফিরে তাকাবে নিজের দেশের দিকে? অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের জীবনের গল্প সেই প্রশ্নেরই এক অনুপ্রেরণামূলক উত্তর।
তিনি আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। গবেষণার ক্ষেত্র পরিবেশবান্ধব বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার, সেলুলোজ ও হাইড্রোজেলভিত্তিক উপাদান, এবং পানি থেকে ক্রোমিয়াম, সীসা, ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু অপসারণের প্রযুক্তি। বিষয়গুলো শুনতে হয়তো কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু এর মূলে আছে খুব সহজ একটি সামাজিক প্রয়োজন—আমাদের পানি, মাটি, খাদ্য এবং পরিবেশকে নিরাপদ করা।
গ্রামের ছেলে, বিজ্ঞানের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহী
ড. হাফিজুর রহমান নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন একেবারে গ্রামের ছেলে হিসেবে। জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম, কাঁচা রাস্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ বিদ্যালয়—এই পরিবেশেই তাঁর শৈশব কেটেছে। ছোটবেলায় রসায়ন সম্পর্কে তাঁর বিশেষ কোনো ধারণা ছিল না। অষ্টম-নবম শ্রেণীতে উঠেই পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে মজার বিষয় হলো, তাঁর সবচেয়ে বেশি টান ছিল গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের দিকে। এমনকি একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল জিডি পাইলট হয়ে যুদ্ধবিমান চালানোর।
রসায়নের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয়েছিল কিছুটা ভয়ের মধ্য দিয়ে। ইন্টারমিডিয়েটে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার সময় অর্গানিক রসায়নের বিক্রিয়া ও বিক্রিয়া-কৌশল তাঁর কাছে কঠিন মনে হতো। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে ভালো নম্বর পেলেও রসায়নে তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু এখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যিনি তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন পড়তেন, তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইন্টারমিডিয়েটের পর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি ড. হাফিজুর রহমানকে রসায়নের ভিত্তি বুঝতে সাহায্য করেন। যে বিষয়টি আগে কঠিন মনে হতো, সেটিই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে আগ্রহের কেন্দ্র। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, রসায়নের প্রতি তাঁর আসল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তুলনামূলক দেরিতে।
এই অভিজ্ঞতা তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। কোনো বিষয় প্রথমে কঠিন মনে হওয়া মানেই যে সেটি আপনার জন্য নয়—তা নয়। অনেক সময় একজন ভালো শিক্ষক, একজন বড় ভাই বা একজন পথপ্রদর্শক পুরো জীবনের দিক বদলে দিতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন: গবেষণার পথে প্রথম দরজা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর ড. হাফিজুর রহমান ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন গবেষণা আসলে কী। প্রথম বর্ষে তিনি জানতেন না ভবিষ্যতে গবেষণা করবেন, চাকরি করবেন, নাকি বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাবেন। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে এসে বিভাগের শিক্ষকরা তাঁর সামনে গবেষণার জগৎ খুলে দেন।
বিশেষ করে অধ্যাপক ড. এম মনিরুজ্জামান ও অধ্যাপক শামসুল আলম—যাঁরা জাপান থেকে পিএইচডি করে দেশে ফিরেছিলেন—তাঁদের কাছ থেকে তিনি গবেষণাপত্র পড়া, গবেষণা-পদ্ধতি বোঝা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পান। গবেষণাপত্র বা রিসার্চ আর্টিকেল শুধু তথ্যের ভাণ্ডার নয়; সঠিকভাবে পড়তে পারলে সেখান থেকে বোঝা যায় বিজ্ঞানীরা কীভাবে প্রশ্ন করেন, কীভাবে পরীক্ষা সাজান, কীভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করেন।
এই সময়েই পলিমার বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। পলিমার হলো অনেক ছোট অণু একটির পর একটি যুক্ত হয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ শৃঙ্খলবিশিষ্ট পদার্থ। সহজভাবে বললে, যেমন অনেকগুলো পুঁতি গেঁথে একটি মালা তৈরি হয়, পলিমারও তেমন অনেক ছোট রাসায়নিক একক মিলে গঠিত হয়। প্লাস্টিক, রাবার, সেলুলোজ—এসবই পলিমারের উদাহরণ। তবে ড. হাফিজুর রহমানের আগ্রহ ছিল এমন পলিমারের দিকে, যা পরিবেশে সহজে ভেঙে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দূষণ না বাড়ায়।
বাংলাদেশে তখন গবেষণার অবকাঠামো সীমিত ছিল। নতুন বিভাগ, সীমিত ল্যাব সুবিধা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব—এসব বাস্তবতার মধ্যে তিনি বিসিএসআইআরের সঙ্গে সহযোগিতায় গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেই বলেন, আজকের মানদণ্ডে সেই গবেষণা হয়তো খুব উচ্চমানের ছিল না, কিন্তু সেটিই ছিল তাঁর গবেষণাজীবনের হাতেখড়ি। বড় গবেষক হওয়ার আগে ছোট শুরু প্রয়োজন—এই সত্য তাঁর জীবন থেকেই স্পষ্ট।
চিঠির যুগে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন
আজকের দিনে শিক্ষার্থীরা ইমেইল, ওয়েবসাইট, অনলাইন আবেদনপত্র, গুগল স্কলার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশে যোগাযোগ করে। কিন্তু ড. হাফিজুর রহমান যখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার চেষ্টা শুরু করেন, তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০১ সালের দিকে তিনি বিভাগে কম্পিউটার ও প্রিন্টার ব্যবহার করে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা সংগ্রহ করেন। বই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখে চিঠি লিখে প্রিন্ট করে পাঠানো হতো। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরে প্রফেসরদের ঠিকানা-সম্বলিত তথ্য আসত। সেই প্রোফাইল দেখে আবার চিঠি পাঠানো হতো।
একবার জাপানের একজন অধ্যাপক তাঁকে ল্যাবে নিতে আগ্রহী হন। কিন্তু তাঁর প্রস্তুতির ঘাটতি দেখে পরামর্শ দেন—প্রথমে মাস্টার্স শেষ করে আসা ভালো। এতে অপেক্ষা বাড়লেও তা তাঁর প্রস্তুতির সময়ও বাড়ায়। মাস্টার্সে তিনি প্রাকৃতিক পলিমার কম্পোজিট নিয়ে কাজ করেন। কম্পোজিট মানে দুই বা ততোধিক উপাদান মিশিয়ে এমন নতুন উপাদান তৈরি করা, যার গুণাগুণ আলাদা বা উন্নত হতে পারে। যেমন মাটির সঙ্গে খড় মিশিয়ে কাঁচা ঘর মজবুত করার মতো, বিজ্ঞানেও এক ধরনের পদার্থের সঙ্গে আরেকটি পদার্থ যুক্ত করে উন্নত উপকরণ তৈরি করা যায়।
জাপানে যাওয়ার আগেই তাঁর ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল—দেশে ছয়টি এবং ভারত, তাইওয়ান, হংকংসহ বিদেশি জার্নালে পাঁচটি। হয়তো সেগুলোর প্রভাব আজকের বড় জার্নালের মতো ছিল না, কিন্তু এগুলো তাঁকে গবেষণার ভাষা, ধৈর্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভিত্তি দিয়েছিল।
জাপানের গবেষণাগার: ভাষা, সংস্কৃতি ও কঠোর পরিশ্রম
জাপানের তোয়োহাশি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পলিমার রসায়নে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরে তিনি জেএসপিএসের অধীনে পোস্টডক্টরেটও করেন। কিন্তু এই যাত্রা সহজ ছিল না।
জাপানে যাওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশে কয়েক মাস জাপানি ভাষা শেখার চেষ্টা করেছিলেন। কিছু শব্দ, কিছু বাক্য মুখস্থ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখলেন, দোকান, বাজার, আশপাশের মানুষ—অনেকেই ইংরেজি বলতে পারেন না। আজকের মতো গুগল ট্রান্সলেট তখন সহজলভ্য ছিল না। ইংরেজি লিখলে জাপানি অনুবাদ দেখায়—এমন ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে হতো।
আরও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ল্যাবের পরিবেশে খাপ খাওয়ানো। তাঁর সুপারভাইজার চান তিনি জাপানি শিখুন। ফলে তাঁকে ছয় মাসের নিবিড় জাপানি ভাষা কোর্স করতে হয়—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস, এরপর রাত পর্যন্ত ল্যাবে কাজ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তুলনায় এটি ছিল একেবারে ভিন্ন রুটিন। প্রথম এক থেকে দেড় বছর তিনি ভালো গবেষণার ফলও পাননি। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।
এখানে তাঁর একটি বড় শিক্ষা ছিল—শেখার ক্ষেত্রে অহংকারের জায়গা নেই। তিনি জাপানের ল্যাবে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও যন্ত্র ব্যবহারের কৌশল শিখেছেন। গবেষণায় পদবির চেয়ে দক্ষতা বড়। যে কাজ জানে, যে শিখতে পারে, যে হাতে-কলমে দক্ষ—শেষ পর্যন্ত গবেষণাগারে তারই মূল্য বেশি।
বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার: প্লাস্টিক সমস্যার বিকল্প ভাবনা
ড. হাফিজুর রহমানের গবেষণার কেন্দ্রে আছে বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার। বায়োডিগ্রেডেবল বলতে এমন পদার্থ বোঝায়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবাণু, আর্দ্রতা, আলো বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর উপাদানে পরিণত হতে পারে। সাধারণ পলিথিন বা প্লাস্টিক দীর্ঘদিন টিকে থাকে। মাটিতে, পানিতে, নদীতে, ড্রেনে জমে থেকে তা ধীরে ধীরে ছোট ছোট কণায় ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো খুব ছোট প্লাস্টিক কণা, যা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। ন্যানোপ্লাস্টিক আরও ছোট। এগুলো খাদ্যশৃঙ্খল, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে যেতে পারে। এর বিপরীতে পলি-ল্যাকটিক অ্যাসিড বা পিএলএ এমন একটি বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার, যা ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। ল্যাকটিক অ্যাসিড মানুষের শরীরের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ; আমাদের শরীরেও নানা প্রক্রিয়ায় ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়।
তবে সমস্যা হলো খরচ। ড. হাফিজুর রহমানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পলিথিনের তুলনায় পলি-ল্যাকটিক অ্যাসিড দিয়ে একই ধরনের ব্যাগ তৈরি করতে খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তিনি সৌরবিদ্যুতের উদাহরণ দেন—শুরুতে খরচ বেশি হলেও প্রযুক্তি উন্নত হলে এবং প্রচলিত জ্বালানির দাম বাড়লে সৌরবিদ্যুৎ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। একইভাবে, বায়োডিগ্রেডেবল পলিমারের প্রযুক্তি সহজলভ্য ও কম ব্যয়বহুল হলে একসময় এর ব্যবহারও বাড়তে পারে।
পানি শোধনের জন্য সবুজ উপকরণ
জাপানে পলিমার সিন্থেসিস নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, বাংলাদেশের জন্য পরিবেশ রসায়ন বিশেষভাবে জরুরি। শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে পানি ও মাটির দূষণ বাড়ছে। ট্যানারির আশপাশে ক্রোমিয়াম, ব্যাটারি শিল্পের আশপাশে সীসা, টেক্সটাইল ও ডাইং শিল্পের বর্জ্য—এসব দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।
এমনকি তাঁর সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণে গ্রামের স্কুলের আশপাশের নলকূপের পানিতেও ভারী ধাতু ও কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ শুধু শিল্পাঞ্চলের সমস্যা নয়; তা গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
এই বাস্তবতা তাঁকে বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার থেকে বায়োডিগ্রেডেবল কম্পোজিট অ্যাডজরবেন্ট তৈরির দিকে নিয়ে যায়। অ্যাডজরবেন্ট শব্দটি একটু কঠিন মনে হতে পারে। সহজ করে বললে, এটি এমন এক ধরনের পদার্থ, যার পৃষ্ঠে অন্য ক্ষতিকর পদার্থ এসে আটকে যায়। যেমন স্পঞ্জ পানি শোষণ করে, তেমনি অ্যাডজরবেন্ট পানির ভেতর থাকা কোনো বিষাক্ত ধাতু বা দূষককে নিজের পৃষ্ঠে ধরে রাখতে পারে। পরে সেই দূষিত অ্যাডজরবেন্ট আলাদা করে ফেললে পানি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়।
২০১৬ সালের দিকে তিনি এই ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল কম্পোজিট অ্যাডজরবেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালের দিকে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসে। তাঁর লক্ষ্য এমন উপাদান তৈরি করা, যার উৎস প্রকৃতি থেকে আসবে, রাসায়নিকভাবে কিছুটা পরিবর্তন করে কার্যকর করা যাবে, এবং যা পানি থেকে সীসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু অপসারণে সাহায্য করবে।
ল্যাব থেকে কারখানায়: সম্ভাবনা আছে, কিন্তু পথ কঠিন
ড. হাফিজুর রহমান মনে করেন, তাঁর গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ সম্ভব। তবে এর জন্য ল্যাবরেটরি পর্যায়ের গবেষণা থেকে পাইলট প্ল্যান্ট পর্যায়ে যেতে হবে। পাইলট প্ল্যান্ট হলো ছোট আকারের পরীক্ষামূলক শিল্পব্যবস্থা, যেখানে ল্যাবের প্রযুক্তি বাস্তব পরিবেশে কাজ করে কি না তা যাচাই করা হয়।
শিল্পকারখানার বর্জ্য পানি শোধনের ক্ষেত্রে এক ধরনের সমাধান সব কারখানার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। ব্যাটারি শিল্পের দূষক এক ধরনের, ট্যানারির দূষক আরেক ধরনের, টেক্সটাইল বা ডাইং শিল্পের দূষক অন্য ধরনের। তাই ইটিপি বা Effluent Treatment Plant—বাংলায় বলা যায় শিল্পবর্জ্য পানি শোধনাগার—কারখানার প্রকৃতি ও বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী নকশা করতে হয়।
তাঁর গবেষণার অ্যাডজরবেন্ট ছোট, মাঝারি বা বড়—সব ধরনের প্ল্যান্টেই ব্যবহারযোগ্য হতে পারে; তবে কত পরিমাণ লাগবে, তা নির্ভর করবে বর্জ্য পানির পরিমাণ ও দূষণের মাত্রার ওপর। এখনো তাঁর দল মূলত ল্যাবরেটরি পর্যায়ে কাজ করছে। বড় ফান্ড পেলে পাইলট পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
কিন্তু এখানে একটি বড় বাধা হলো শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার দুর্বলতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিল্পকারখানার বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে বাংলাদেশে এখনো শক্তিশালী সেতু গড়ে ওঠেনি। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে বিনিয়োগ হিসেবে না দেখে বাড়তি খরচ হিসেবে দেখে। বিদেশ থেকে প্রযুক্তি এনে ব্যবহার করাকে তারা অনেক সময় সহজ পথ মনে করে। ড. হাফিজুর রহমানের মতে, সরকার যদি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার জন্য কর-সুবিধা বা নীতিগত প্রণোদনা দেয়, তাহলে এই সংস্কৃতি ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।
সীমিত ফান্ড, সীমিত যন্ত্রপাতি, তবু মানসম্মত গবেষণার চেষ্টা
বাংলাদেশে গবেষণার বাস্তবতা বোঝাতে ড. হাফিজুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনা দেন। জাপানে যে কাজ তিন মাসে করা সম্ভব, বাংলাদেশে সেটি শেষ করতে কখনো এক বছর লেগে যায়। কারণ এখানে উপকরণ নেই, যন্ত্র নেই, ফান্ড সীমিত, অনেক পরীক্ষা বাইরে করাতে হয়।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সীমিত গবেষণা ফান্ড পান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকেও কিছু সহায়তা আসে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং বিশেষ করে ওপেন-অ্যাকসেস জার্নালে প্রকাশের খরচ অনেক বেশি। একটি ভালো জার্নালে প্রকাশের ফি কখনো ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অথচ বাংলাদেশে একটি পুরো গবেষণা কখনো কয়েক লাখ টাকার মধ্যে শেষ করতে হয়।
তারপরও আশার জায়গা আছে। ২০১৩ সালে দেশে ফেরার পর যে গবেষণা-পরিবেশ তিনি দেখেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে তা অনেক উন্নত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। একসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিউওয়ান জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ স্বপ্নের মতো মনে হতো। এখন তাঁর নিজের দলসহ অনেকেই বছরে কয়েকটি কিউওয়ান প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারছে। কিউওয়ান জার্নাল বলতে সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা ক্ষেত্রের শীর্ষ ২৫ শতাংশ মানের জার্নাল বোঝানো হয়। অর্থাৎ সেখানে প্রকাশ পাওয়া মানে গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে ভালো মানের হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রত্যাখ্যান গবেষণার অংশ
তরুণ গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশ একদিকে স্বপ্ন, অন্যদিকে ভয়। কোথায় জমা দেব, প্রকাশ হবে কি না, রিভিউয়ার কী বলবেন—এসব প্রশ্ন স্বাভাবিক। ড. হাফিজুর রহমান নিজেও এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।
জাপানে তাঁর সুপারভাইজারের অধীনে জমা দেওয়া প্রবন্ধগুলো সহজে রিভিউতে গেলেও দেশে ফিরে শুরুতে ভালো জার্নাল থেকে বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভালো জার্নালে জমা দিলে অনেক সময় প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। পরে নিচু ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের জার্নালে স্থানান্তর করে প্রকাশের সুযোগ এসেছে। ধীরে ধীরে গবেষণার মান, লেখা, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা উন্নত হয়েছে। ২০২০-২১ সালের দিকে কিউওয়ান জার্নালে নিয়মিত প্রবন্ধ প্রকাশ শুরু হয়।
তাঁর কাছে গবেষণার মূল শিক্ষা—ভুল হবে, প্রত্যাখ্যান আসবে, কিন্তু শিখতে হবে। তিনি চান ছাত্ররা শুধু বলুক না, “স্যার, আপনি করে দিন।” বরং বলুক, “স্যার, আমাকে শিখিয়ে দিন।” এই মনোভাবই গবেষকের আসল শক্তি। একটি গ্রাফ বানানো, ডাটা বিশ্লেষণ করা, গ্রাফিক্যাল অ্যাবস্ট্রাক্ট তৈরি করা, সফটওয়্যার শেখা—এসব ছোট দক্ষতাই বড় গবেষক তৈরি করে।
গবেষণার ক্ষেত্র বদলানো: আগ্রহ থাকলেও ভিত্তি জরুরি
সাক্ষাৎকারে গবেষণার আন্তঃবিষয়কতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে আসে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, এক বিভাগের ছাত্র কি অন্য বিষয়ের গবেষণায় যেতে পারে? ড. হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
জাপানে অনেক ক্ষেত্রে আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকলে ছাত্ররা পূর্বের বিষয় থেকে কিছুটা ভিন্ন গবেষণাক্ষেত্রে যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বিভাগীয় কাঠামো তুলনামূলক কঠোর। কেমিস্ট্রি, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বা সংশ্লিষ্ট পটভূমি ছাড়া সরাসরি রসায়নের ল্যাবভিত্তিক গবেষণায় যাওয়া কঠিন। সামাজিক বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের গবেষণাপদ্ধতির মধ্যেও পার্থক্য আছে। সামাজিক বিজ্ঞানে তথ্য সংগ্রহ, জরিপ ও বিশ্লেষণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে; রসায়ন বা উপকরণ বিজ্ঞানে দরকার হয় সংশ্লেষণ, পরীক্ষাগার, যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ।
তবে কাছাকাছি ক্ষেত্রের মধ্যে সংযোগ সম্ভব। যেমন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেটেরিয়ালস সায়েন্স, ন্যানোম্যাটেরিয়াল, পলিমার, মেটালার্জি—এসবের মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সিমেন্টের বিকল্প উপাদান, কঠিন বর্জ্য, কম্পোজিটের শক্তি—এসব ক্ষেত্রেও রাসায়নিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ শিল্প ও ড্রাগ ডেলিভারিতে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ড. হাফিজুর রহমানের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিকতা হলো ড্রাগ ডেলিভারি বা ওষুধ শরীরে পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি। সাধারণভাবে আমরা ওষুধ খাই, সেটি শরীরে গিয়ে কাজ করে, তারপর ধীরে ধীরে কমে যায়। কিন্তু আধুনিক ড্রাগ ডেলিভারি ব্যবস্থায় এমন উপাদান তৈরি করা হয়, যা শরীরের ভেতরে নির্দিষ্ট সময় ধরে ধীরে ধীরে ওষুধ ছাড়ে।
এখানেও বায়োডিগ্রেডেবল ও বায়োকম্প্যাটিবল পলিমারের ভূমিকা আছে। বায়োকম্প্যাটিবল মানে শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—অর্থাৎ শরীরে দিলে তা যেন বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে। পলি-ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো পলিমার ধীরে ধীরে ভেঙে ওষুধ ছাড়তে পারে। ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি দিয়ে এমন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব, যা প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে না খেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকতে পারে।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আগে দেশে অনেক সক্রিয় ওষুধ উপাদান বা API তৈরি হতো না; এখন তা বাড়ছে। তাই ড্রাগ ডেলিভারির মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি: ফলাফল, গবেষণা, ইংরেজি ও উপস্থাপনা
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং পেতে হলে কী দরকার—এই প্রশ্নের উত্তরে ড. হাফিজুর রহমান কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন। প্রথমত, ভালো একাডেমিক ফলাফল। দ্বিতীয়ত, গবেষণার অভিজ্ঞতা। তৃতীয়ত, ইংরেজি দক্ষতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় গবেষণাপত্র, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং যোগাযোগের ক্ষমতা।
সব দেশের ফান্ডিং ব্যবস্থা এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া, চীন, হংকং—প্রতিটি দেশের প্রত্যাশা আলাদা হতে পারে। ভালো মানের দুই-তিনটি কিউওয়ান প্রবন্ধ বড় শক্তি হতে পারে; সঙ্গে আরও কিছু কিউওয়ান থেকে কিউফোর জার্নালে প্রকাশনা থাকলে প্রোফাইল শক্তিশালী হয়। তবে শুধু প্রকাশনা নয়, অনলাইন সাক্ষাৎকারে প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা, তাঁর প্রশ্ন বোঝা, নিজের গবেষণা ব্যাখ্যা করা—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণার ক্ষেত্রে সেটিই শেষ কথা নয়। কেউ যদি গবেষণাকে ভালোবাসে, সময় দেয়, বুঝতে চেষ্টা করে, তবে তার সিজিপিএ মাঝারি হলেও সে ভালো গবেষক হতে পারে। তাঁর নিজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এমন উদাহরণ আছে, যারা শুরুতে বড় সুযোগ না পেলেও গবেষণার আগ্রহের কারণে পরে বিদেশে পিএইচডি ও পোস্টডক পর্যন্ত এগিয়েছে।
হাই স্কুল থেকেই শুরু হোক বিজ্ঞানচিন্তা
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিদেশে অনেক দেশে হাই স্কুল থেকেই গবেষণার পরিচয় শুরু হয়। জাপানে তিনি স্কুল পর্যায়ের গবেষণা উপস্থাপনায় উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। সেখানে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও গবেষণার ধারণা নিয়ে কাজ করে, কারণ তাদের সুযোগ ও সুবিধা আছে।
বাংলাদেশে ল্যাব সুবিধা সীমিত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য মূল পরামর্শ হলো—ভিত্তি শক্ত করা। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান—এসব বিষয়কে আলাদা করে না দেখে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে। রসায়ন পড়তে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতও দরকার; জীববিজ্ঞানের সঙ্গে রসায়নের গভীর সম্পর্ক আছে। শুধু ভালো নম্বর নয়, “কেন” ও “কীভাবে”—এই প্রশ্নের উত্তর বোঝা জরুরি।
তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় করতে বলেন, তবে সেই স্বপ্ন বদলাতে পারে—এটিও স্বাভাবিক। তিনি নিজে একসময় যুদ্ধবিমান চালানোর স্বপ্ন দেখতেন, পরে রসায়নের গবেষক হয়েছেন। তাই নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা এবং বিশ্বের চাহিদা—এই তিনটি মিলিয়ে পথ নির্বাচন করতে হবে।
“অজুহাত কাজ করে না”
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তরুণদের জন্য তাঁর বার্তা ছিল সরল কিন্তু গভীর—গবেষণা শুরু করার আগে শিখতে হবে কীভাবে গবেষণাপত্র পড়তে হয়, কীভাবে গবেষণা-পদ্ধতি বুঝতে হয়, কীভাবে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে হয়। না বুঝলে সিনিয়র বা শিক্ষকের কাছে যেতে হবে। কিন্তু অজুহাত দিলে হবে না।
গবেষণায় একটি প্রবন্ধ তৈরি হতে অনেক ধাপ লাগে—ধারণা তৈরি, ফান্ডিং, পরীক্ষাগার কাজ, ডাটা বিশ্লেষণ, লেখা, রিভিউ—সব জায়গায় শেখার সুযোগ আছে। একজন গবেষককে ধীরে ধীরে প্রতিটি ধাপে দক্ষ হতে হয়। তাঁর মতে, গবেষণা কঠিন নয়; কঠিন হলো নিয়মিত সময় দেওয়া এবং সত্যিকারের আগ্রহ ধরে রাখা।
বাংলাদেশের জন্য এক নীরব বিজ্ঞানযাত্রা
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের জীবনকথা শুধু একজন রসায়নবিদের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের গবেষণার বাস্তবতার গল্প—সীমিত ফান্ড, সীমিত ল্যাব, শিল্পের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রত্যাখ্যান, ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা, কিন্তু তার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
গ্রামের কাঁচা রাস্তা থেকে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাপানের তোয়োহাশি ইউনিভার্সিটি, জাপানের আধুনিক ল্যাব থেকে আবার বাংলাদেশের বাস্তব দূষণ সমস্যার দিকে ফিরে আসা—এই পুরো যাত্রা আমাদের একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়: বিজ্ঞান কেবল বিদেশি গবেষণাগারের বিষয় নয়; বিজ্ঞান বাংলাদেশের পানি, মাটি, নদী, কারখানা, স্কুলের নলকূপ এবং তরুণ শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গেও জড়িত।
আজ যখন প্লাস্টিক দূষণ, ভারী ধাতু, শিল্পবর্জ্য ও নিরাপদ পানির প্রশ্ন আমাদের সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ড. হাফিজুর রহমানের মতো গবেষকদের কাজ জাতীয় গুরুত্ব বহন করে। তাঁর গবেষণা হয়তো এখনো অনেক ক্ষেত্রে ল্যাব পর্যায়ে, কিন্তু তার দিকনির্দেশনা স্পষ্ট—বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ থেকেই আসতে হবে, তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, পদ্ধতি ও সততার ভিত্তিতে।
তরুণদের জন্য তাঁর জীবন একটি দৃঢ় বার্তা দেয়: শুরুটা গ্রাম থেকে হলেও গন্তব্য বিশ্বমানের গবেষণাগার হতে পারে। কোনো বিষয় প্রথমে কঠিন মনে হলেও তা-ই একদিন জীবনের প্রধান সাধনা হয়ে উঠতে পারে। আর গবেষণার পথে সবচেয়ে বড় পুঁজি শুধু মেধা নয়—শেখার আগ্রহ, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং নিজের দেশের বাস্তব সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা।
📌 Contact Info
- গুগল স্কলার প্রোফাইল: https://scholar.google.com/citations?user=K2S5JaEAAAAJ&hl=en
- রিসার্চগেট প্রোফাইল: https://www.researchgate.net/profile/Md-Hafezur-Rahaman
- লিঙ্কডইন প্রোফাইল: https://www.linkedin.com/in/md-hafezur-rahaman-35892697/
- ইমেইল: [email protected]
ড. হাফিজুর রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি ইউটিউবে নিম্নের লিংক এ দেখুন: 👇👇👇

Leave a comment