বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার, সবুজ প্রযুক্তি, উন্নত কম্পোজিট উপকরণ এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারভিত্তিক গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানের অবদানের মাধ্যমে প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের একজন স্বতন্ত্র গবেষক হিসেবে। তাঁর দীর্ঘ গবেষণা-জীবনের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, বৈশ্বিক গবেষণা-অভিযাত্রা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানী অর্গ-এর আয়োজনে শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার।
বর্তমানে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি জাপানের Toyohashi University of Technology থেকে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত থেকে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তাঁর গবেষণার মূল ফোকাস বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার, পলিমার কম্পোজিট, ন্যানোকম্পোজিট, গ্রাফিন-ভিত্তিক উপকরণ, বায়ো-অ্যাডসরবেন্ট এবং টেকসই পরিবেশ প্রযুক্তি। বিশেষ করে প্রাকৃতিক ও স্বল্পমূল্যের কাঁচামাল ব্যবহার করে কার্যকর ও পুনঃব্যবহারযোগ্য adsorbent তৈরিতে তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য। ভারী ধাতু, বিষাক্ত ডাই এবং শিল্পবর্জ্য থেকে দূষক অপসারণে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়ো-ভিত্তিক কম্পোজিট উপকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।
তাঁর গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে Graphene Oxide-ভিত্তিক হাইব্রিড উপকরণ, পলিভিনাইল অ্যালকোহল (PVA)-ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব কম্পোজিট, এবং চৌম্বকীয় (magnetic) ন্যানো-অ্যাডসরবেন্ট, যেগুলো পানি শোধন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভারী ধাতু যেমন সীসা (Pb), ক্যাডমিয়াম (Cd), ক্রোমিয়াম (Cr) অপসারণে তাঁর গবেষণায় adsorption kinetics, isotherm modeling, thermodynamic behavior এবং surface interaction mechanism বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৌলিক ও প্রয়োগভিত্তিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটেছে।
শুধু পানি শোধন নয়, প্লাস্টিক দূষণের বিকল্প উদ্ভাবনেও তিনি কাজ করছেন। বায়োডিগ্রেডেবল পলিমারের mechanical strength, thermal stability এবং degradation behavior উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তব ব্যবহারযোগ্য সবুজ উপকরণ উন্নয়নে তাঁর গবেষণা উল্লেখযোগ্য। প্যাকেজিং, কৃষি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প-উপকরণে এসব গবেষণার সম্ভাব্য প্রয়োগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গবেষণায় computational modeling ও Density Functional Theory-ভিত্তিক বিশ্লেষণও যুক্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে adsorbent–pollutant interaction-এর molecular-level understanding তৈরি করা হচ্ছে। পরীক্ষণভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এই সমন্বয় তাঁর কাজকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ৫৫টিরও বেশি গবেষণাপত্র, উল্লেখযোগ্য citation এবং চলমান বহু গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক গবেষণা পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—কম খরচে, সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা।
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিরাপদ পানির সংকট যখন বড় চ্যালেঞ্জ, তখন তাঁর গবেষণা দেখায়—বিজ্ঞান কীভাবে টেকসই সমাধান দিতে পারে। তাঁর কাজ গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানের প্রয়োগের একটি কার্যকর উদাহরণ।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষণার বিষয় নির্বাচন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রবেশ, প্রকাশনা কৌশল, অধ্যবসায়, এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করার বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে আসবে এ আলোচনায়।
এই বিশেষ আয়োজন শুধু একজন গবেষকের গল্প নয়; এটি জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার গল্প। যারা বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চান, তাদের জন্য এই সাক্ষাৎকার হতে পারে নতুন পথচলার সূচনা।
অনুষ্ঠানের তথ্য
📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)
ইভেন্টের সময়: ১ মে ২০২৬ (শুক্রবার), সকাল ১০টা বাংলাদেশ সময়
উপস্থাপক: তাহসিনুর রাইয়ান
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু মুমু
বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Leave a comment