উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাতথ্যপ্রযুক্তি

সরকার–বিশ্ববিদ্যালয়–গবেষণা সংস্থার সহযোগিতা কেন জরুরি

Share
Share

একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন কেবল সরকারের সিদ্ধান্তে নির্ভর করে না, আবার কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও সীমাবদ্ধ থাকে না। এই দুইয়ের মাঝখানে রয়েছে গবেষণা সংস্থা ও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্র। ড. কাজী হোসেনের অভিজ্ঞতা দেখায়, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা থাকলে গবেষণার ফল কাগজে আটকে না থেকে বাস্তবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত মৌলিক গবেষণা হয়। নতুন ধারণা তৈরি হয়, তত্ত্ব ও পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু এই গবেষণার ফল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগযোগ্য নাও হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হয়—বন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। গবেষণা সংস্থাগুলো এই দুই জগতের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের উপযোগী করে তোলে এবং সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা করে।

ড. কাজী হোসেন কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন, সরকার–বিশ্ববিদ্যালয়–গবেষণা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে নীতিনির্ধারণের মান উন্নত হয়। গবেষকরা মাঠপর্যায়ের তথ্য ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করেন, সরকার সেই তথ্যের ভিত্তিতে নীতি তৈরি করে, আর গবেষণা সংস্থাগুলো নীতির বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। এই সমন্বিত কাঠামো নীতি ও গবেষণার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে।

এই সহযোগিতার আরেকটি বড় সুফল হলো দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণা সংস্থা বা সরকারি প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এতে তাদের গবেষণার বিষয়গুলো বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়। ড. কাজী হোসেন মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার সময় থেকেই বাস্তব প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়, তবে ভবিষ্যতে তারা নীতিনির্ধারণ ও গবেষণার সংযোগস্থলে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছায় না, আবার সরকারি প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যুক্ত করা হয় সীমিত পরিসরে। ফলে একই ধরনের সমস্যা নিয়ে বারবার নতুন করে কাজ করতে হয়, অথচ আগের গবেষণার ফল পুরোপুরি কাজে লাগে না। ড. কাজী হোসেনের মতে, এই বিচ্ছিন্নতা দূর করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত গবেষণা বিনিময় ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ থাকবে।

সরকার–বিশ্ববিদ্যালয়–গবেষণা সংস্থার সহযোগিতা কেবল প্রশাসনিক সমন্বয় নয়; এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার পূর্বশর্ত। গবেষণা যখন নীতিনির্ধারণের ভাষায় কথা বলে, আর নীতি যখন গবেষণার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়, তখনই একটি দেশের উন্নয়ন পথ হয়ে ওঠে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই।

এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. কাজী হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ