সাধারণ বিজ্ঞানস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

একঘেয়েমি কাটাতে ধূমপান নাকি চা–কফি আসলেই কোনটা কাজ করে, আর কোনটা আপনাকে ধীরে ধীরে ভাঙে?

Share
Share

মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলোকে ব্যাখ্যা করা যায় না খুব সহজ কোনো শব্দে, কিন্তু অনুভব করা যায় গভীরভাবে একঘেয়েমি ঠিক তেমনই একটা জিনিস; এটা ক্লান্তি না, দুঃখও না, আবার পুরোপুরি শূন্যতাও না বরং এটা এমন এক অবস্থা, যেখানে আপনার চারপাশে সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু আপনার ভেতরের জগতটা যেন ধীরে ধীরে রঙ হারাচ্ছে। আপনি বসে আছেন, হয়তো ফোন স্ক্রল করছেন, হয়তো বই খুলে রেখেছেন, হয়তো বন্ধুদের সাথে আড্ডায় আছেন, তবুও হঠাৎ করে মনে হয়, কিছু একটা missing। এই missing feeling-টাই আসলে ব্রেইনের এক ধরনের subtle signal, যেখানে আপনার মস্তিষ্ক বুঝিয়ে দিচ্ছে সে আর আগের মতো stimulated হচ্ছে না। আমাদের ব্রেইন সবসময় novelty খোঁজে, নতুন কিছু, ভিন্ন কিছু; যখন সেই নতুনত্ব হারিয়ে যায়, তখন ডোপামিনের স্বাভাবিক ওঠানামা কমে যায়, আর তখনই এই একঘেয়েমির জন্ম।

এই অবস্থাতেই মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবে কিছু দ্রুত সমাধান খুঁজতে শুরু করে। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক delayed satisfaction-এর চেয়ে instant relief বেশি পছন্দ করে। তাই কারও হাতে উঠে আসে সিগারেট, কারও সামনে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা বা কফি। এই দুইটা জিনিসের মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল আছে দুটোই ছোট, সহজলভ্য, আর দ্রুত কাজ করে। কিন্তু এই মিলের আড়ালেই লুকিয়ে আছে বিশাল পার্থক্য, যেটা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না।

ধূমপানের প্রথম টানটা অনেকটা এমন, যেন আপনি নিজের ভেতরের একটা switch অন করে দিলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটা পরিবর্তন অনুভব হয় মাথা একটু হালকা লাগে, বুকের ভেতর জমে থাকা চাপটা যেন একটু নরম হয়ে যায়, আর সেই একঘেয়েমি যেটা একটু আগে পর্যন্ত আপনাকে গ্রাস করে রেখেছিল হঠাৎ করে যেন পেছনে সরে যায়। এই দ্রুত পরিবর্তনটাই আসলে ধূমপানের সবচেয়ে বড় trap। কারণ আপনার ব্রেইন এই experience-টাকে খুব দ্রুত capture করে ফেলে। নিকোটিন খুব দ্রুত ব্রেইনে পৌঁছে এমন কিছু রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়, যেগুলো মূলত alertness আর reward-এর সাথে জড়িত। এর ফলে অল্প সময়ের জন্য dopamine release বেড়ে যায়, আর আপনি feel করেন, হ্যাঁ, এটা কাজ করছে।

কিন্তু এখানেই একটা সূক্ষ্ম ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। আপনি ভাবেন ধূমপান একঘেয়েমি কমাচ্ছে, কিন্তু আসলে এটা আপনার মস্তিষ্ককে একটা artificial stimulation দিচ্ছে। প্রথম কয়েকবার এটা খুব শক্তভাবে কাজ করে, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ব্রেইন এই stimulation-এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তখন একই অনুভূতি পেতে একটু বেশি দরকার হয়, একটু ঘনঘন দরকার হয়। এই জায়গাটাতেই আসক্তির বীজ বপন হয় খুব চুপচাপ, খুব নিঃশব্দে।

এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার এর মানে এই নয় যে আমি ধূমপানে অভিজ্ঞ, বা খুব একটা এ নিয়ে গভীরভাবে স্টাডি করেছি; তবে এই বিষয়টা নিয়ে সচেতন থাকা, অন্তত এটুকু বোঝা যে এর ভেতরে কী ঘটছে এটা সবারই করা উচিত। কারণ আমরা অনেক সময় যেটাকে ছোট্ট একটা অভ্যাস ভাবি, সেটাই ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তা, অনুভূতি আর আচরণের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, আর আমরা বুঝতেই পারি না কখন সেটা আমাদের choice থেকে need-এ পরিণত হয়ে গেছে।

ধূমপানের প্রভাব শুধু মাথার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না, শরীরের ভেতরেও ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন জমতে থাকে। শ্বাস নেওয়ার যে পথগুলো প্রতিনিয়ত পরিষ্কার থাকে, সেগুলো ধীরে ধীরে ভারী হয়ে যেতে শুরু করে; শরীরের নিজস্ব পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায়, ভেতরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে থাকে। শুরুতে কিছুই বোঝা যায় না আপনি ঠিকই আছেন, হাঁটছেন, কাজ করছেন কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই পরিবর্তনগুলো নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করে। কাশি বাড়ে, বুক ভারী লাগে, দৌড়ালে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এইসব ছোট ছোট পরিবর্তনই পরে বড় সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো এই পুরো প্রক্রিয়াটা এত ধীরে ঘটে যে আপনি অনেক সময় বুঝতেই পারেন না আপনি ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেনj।

অন্যদিকে চা বা কফির গল্পটা একদম আলাদা ধাঁচের। এখানে কোনো sudden hit নেই, নেই হঠাৎ করে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া অনুভূতি। বরং এটা অনেকটা এমন আপনি ক্লান্ত, একটু অবসন্ন, মাথা ভারী লাগছে; তারপর আপনি ধীরে ধীরে এক কাপ কফি খাচ্ছেন, আর কিছু সময় পর মনে হচ্ছে ঠিক আছে, আবার শুরু করা যায়। এই পরিবর্তনটা ধীর, কিন্তু steady। ক্যাফেইন এখানে ক্লান্তির যে স্বাভাবিক সংকেতগুলো থাকে, সেগুলোকে কিছু সময়ের জন্য কমিয়ে দেয়, ফলে আপনি alert feel করেন। আপনার মনোযোগ বাড়ে, reaction time একটু কমে, আর আপনি কাজে ফিরতে পারেন।

ছবিতে: শ্রীমঙ্গলের টি গোল্ড।

এই জায়গাটাতেই বড় পার্থক্যটা তৈরি হয়। ধূমপান আপনার মস্তিষ্ককে এক ধরনের shortcut দেয় একটা দ্রুত, কিন্তু গভীর প্রভাব ফেলা রাস্তা; আর চা বা কফি আপনাকে একটা support দেয় একটা হালকা ধাক্কা, যেটা আপনাকে নিজে নিজে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই চা বা কফির ক্ষেত্রে সাধারণত আপনি পুরোপুরি এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন না। আপনি চাইলে কমাতে পারেন, বন্ধ করতে পারেন, আবার শুরু করতে পারেন একটা flexibility থাকে।

তবুও এটা একদম নির্দোষ না। বেশি কফি খেলে অনেক সময় অস্থিরতা আসে, ঘুম কমে যায়, হৃদস্পন্দন একটু বেড়ে যায়। কিন্তু এগুলো সাধারণত reversible আপনি কমালেই বা বন্ধ করলেই ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। এখানে শরীরের উপর স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

কিন্তু পুরো আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটা অন্যখানে। প্রশ্নটা আসলে ধূমপান আর কফির মধ্যে কোনটা ভালো এইটা না; প্রশ্নটা হলো আপনি কেন এই জিনিসগুলো খুঁজছেন? একঘেয়েমি কি আসলেই এমন কিছু, যেটাকে বাইরে থেকে কোনো কিছুর মাধ্যমে ঠিক করতে হবে? নাকি এটা এমন একটা সংকেত, যেটাকে বুঝে নিজের ভেতরে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার?

একঘেয়েমি আসলে আপনার শত্রু না। এটা একটা বার্তা খুব শান্ত, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বার্তা যেখানে আপনার মস্তিষ্ক বলছে, তুমি যা করছো, সেটা আর আমাকে stimulate করছে না। এখন আপনি যদি এই বার্তাটাকে উপেক্ষা করে বারবার একটা সিগারেট ধরান, তাহলে আপনি বার্তাটাকে চুপ করাচ্ছেন, কিন্তু সমস্যাটাকে না। আর আপনি যদি একটা কফি খেয়ে আবার কাজে ফিরে যান, তখন আপনি সমস্যাটাকে সাময়িকভাবে manage করছেন, কিন্তু সেটাকে পুরোপুরি সমাধান করছেন না।

সমাধানটা অন্য জায়গায় আপনার রুটিনে, আপনার চিন্তায়, আপনার জীবনযাপনে। আপনি যদি নতুন কিছু শেখেন, নতুন জায়গায় যান, শরীরকে নড়াচড়া করান, মানুষের সাথে interact করেন তখন আপনার মস্তিষ্ক আবার সেই stimulation পায়, যেটা সে খুঁজছিল। তখন একঘেয়েমি ধীরে ধীরে কমে আসে, কোনো smoke বা sip ছাড়াই।

আসলে বিষয়টা খুব সূক্ষ্ম একটা জায়গায় এসে দাঁড়ায়। ধূমপান আপনাকে একটা illusion দেয় আপনি ভালো আছেন, সব ঠিক আছে। কিন্তু আসলে সেটা আপনার ভেতরের balance-টাই ধীরে ধীরে নষ্ট করে। আর চা বা কফি আপনাকে একটু push দেয় একটু সাহায্য করে কিন্তু আপনাকে নিজের উপর নির্ভরশীল থাকতে দেয়।

একঘেয়েমি কাটানোর আসল ক্ষমতা কোনো সিগারেট বা কফির কাপে নেই। সেটা লুকিয়ে আছে আপনার নিজের ভেতরে আপনি কতটা নিজের মনের সংকেতগুলোকে বুঝতে পারছেন, আর সেই অনুযায়ী নিজের জীবনটাকে একটু একটু করে বদলাতে পারছেন তার ভেতরে।

একঘেয়েমির যে অনুভূতিটা নিয়ে আমরা এতক্ষণ কথা বলছিলাম, সেটার আরেকটা দিক আছে যেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অনেক বড় পরিবর্তন ঘটায়। মানুষ যখন বারবার একইভাবে একঘেয়েমি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেই চেষ্টা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়, আর অভ্যাস একসময় গিয়ে এমন এক জায়গায় দাঁড়ায় যেখানে সেটা আর সচেতন সিদ্ধান্ত থাকে না, বরং স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে যায়। আপনি হয়তো খেয়ালই করেন না কখন একা বসলে বা হালকা চাপ অনুভব করলেই আপনার হাত সিগারেটের দিকে চলে যাচ্ছে, বা কখন পড়তে বসলে আপনার মাথা নিজে থেকেই একটা কফির কথা ভাবতে শুরু করে। এই যে অটোমেটিক হয়ে যাওয়া, এটিই আসলে ব্রেইনের শেখার পদ্ধতি। আপনি তাকে বারবার একই রাস্তা দেখালে, সে সেটাকেই শর্টকাট বানিয়ে নেয়।

ধূমপানের ক্ষেত্রে এই শর্টকাটটা একটু বেশি গভীরে গেঁথে যায়। কারণ এটা শুধু একটা কাজ না, এটা একটা অনুভূতির সাথে জড়িয়ে যায়। ধরেন আপনি একা, চারপাশে কোনো শব্দ নেই, একটু শূন্য লাগছে। এই শূন্যতার সাথে যদি কয়েকবার ধূমপান যুক্ত হয়, তাহলে ব্রেইন এই দুইটাকে একসাথে বেঁধে ফেলে। পরে যখনই সেই একই শূন্যতা ফিরে আসে, ব্রেইন নিজে থেকেই আগের সমাধানটা মনে করিয়ে দেয়। আপনি তখন ভাবেন এটা আপনার ইচ্ছা, কিন্তু আসলে এটা আগের অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি। ধীরে ধীরে এই লিংকগুলো এত শক্ত হয়ে যায় যে একঘেয়েমি মানেই ধূমপান, চাপ মানেই ধূমপান, এমনকি কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই ধূমপানের ইচ্ছে হয়। এর পেছনে একটা সূক্ষ্ম ব্যাপার কাজ করে, যেটা হলো ব্রেইনের reward system একটু একটু করে নিজের sensitivity কমিয়ে ফেলে। আগে যেটাতে ভালো লাগত, এখন সেটা আর ততটা ভালো লাগে না, ফলে আপনি আবার সেই জিনিসের দিকে যান যেটা দ্রুত এবং বেশি প্রভাব ফেলে। এইভাবেই একঘেয়েমি আর ধূমপান একে অপরকে শক্ত করে।

অন্যদিকে চা বা কফির সাথে এই সম্পর্কটা একটু আলাদা। এখানে সাধারণত একটা নির্দিষ্ট ছন্দ তৈরি হয়। যেমন সকালে উঠেই চা, পড়ার সময় কফি, বা রাতে জেগে থাকতে গেলে কফি। এইগুলো ধীরে ধীরে রুটিনে পরিণত হয়, আর রুটিন ব্রেইনকে একটা স্থিরতা দেয়। আপনি জানেন কখন কী হবে, ফলে একটা মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়। কিন্তু এখানে একটা বড় পার্থক্য হলো, এটা আপনার অনুভূতিকে পুরোপুরি দখল করে নেয় না। আপনি যদি একদিন চা না খান, আপনি হয়তো একটু অস্বস্তি বোধ করবেন, কিন্তু সেটা আপনাকে পুরোপুরি ভেঙে দেয় না। আপনার মুড, আপনার চিন্তা, আপনার কাজ করার ক্ষমতা পুরোপুরি এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে না। তবে এটাও সত্যি, যদি অতিরিক্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটা আপনার শরীরকে সবসময় একটু তাড়াহুড়োর মধ্যে রাখে। আপনি ঠিকমতো আরাম করতে পারেন না, ঘুমের গভীরতা কমে যায়, আর সেই ক্লান্তি আবার আপনাকে একই জিনিসের দিকে ঠেলে দেয়। এটা ধূমপানের মতো তীব্র না, কিন্তু একটা ছোট লুপ তৈরি করে।

ছবিঃ কফির কাঁচামাল।

এই পুরো প্রক্রিয়ার ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হলো ব্রেইনের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। আপনি যেটা বারবার করেন, সেটাই আপনার জন্য স্বাভাবিক হয়ে যায়। আপনি যদি প্রতিদিন একঘেয়েমি কাটাতে ধূমপান করেন, তাহলে একসময় আপনার ব্রেইন ধরে নেয় এটাই স্বাভাবিক সমাধান। আর আপনি যদি একই অবস্থায় উঠে একটু হাঁটেন, কারও সাথে কথা বলেন, বা অন্য কিছু করেন, তাহলে সেটাই নতুন স্বাভাবিক হয়ে যায়। মানে ব্রেইন নিজে থেকে ভালো-মন্দ বিচার করে না, সে শুধু শিখে নেয় আপনি তাকে কী শিখাচ্ছেন। এই জায়গাটাতেই মানুষ নিজের জীবনকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে, আবার অনেক সময় নিজের অজান্তেই আটকে ফেলে।

একটা সময় আসে যখন মানুষ বুঝতে শুরু করে যে সে আসলে নিজের কিছু অভ্যাসের মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। কিন্তু তখন বের হওয়াটা সহজ হয় না। কারণ এটা শুধু একটা কাজ না, এটা একটা অনুভূতির সাথে জড়িত। আপনি যদি শুধু সিগারেটটা বাদ দেন, কিন্তু সেই একঘেয়েমির সময়টা কীভাবে কাটাবেন সেটা না জানেন, তাহলে সেই ফাঁকা জায়গাটা আপনাকে আবার আগের জায়গায় টেনে নিয়ে যাবে। তাই পরিবর্তনটা শুধু বাইরে না, ভেতরেও আনতে হয়। আপনাকে শিখতে হয় একঘেয়েমিকে একটু সহ্য করতে, একটু বুঝতে, আর ধীরে ধীরে সেটার সাথে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে।

এই জায়গায় এসে অনেকেই একটা বড় সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু একটা ছোট ভুল করে। সে ভাবে সব একসাথে বদলে ফেলবে, কিন্তু সে কোনো বিকল্প তৈরি করে না। ফলে কিছুদিন পর আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়। কারণ ব্রেইন শূন্যতা পছন্দ করে না, সে সবসময় কিছু না কিছু চায়। তাই যদি আপনি পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে চান, তাহলে নতুন একটা পথ তৈরি করতে হবে। সেটা খুব বড় কিছু না, ছোট ছোট জিনিস দিয়েই শুরু হতে পারে। কয়েক মিনিট হাঁটা, একটু বই পড়া, কারও সাথে কথা বলা, বা নিজের সাথে কিছু সময় কাটানো। এই ছোট ছোট কাজগুলোই ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস তৈরি করে।

একঘেয়েমি আসলে একটা আয়না, যেখানে আপনি নিজের জীবনকে দেখতে পান। আপনি কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন, কী আপনাকে টানে, কী আপনাকে ক্লান্ত করে সবকিছুর একটা ছায়া এখানে দেখা যায়। আপনি যদি এই আয়নাটাকে ভেঙে ফেলতে চান, ধূমপানের মতো কিছু দিয়ে, তাহলে আপনি নিজের সেই প্রতিফলনটা হারিয়ে ফেলবেন। আর আপনি যদি এটাকে ব্যবহার করেন, তাহলে এটা আপনাকে নিজের সম্পর্কে এমন কিছু দেখাতে পারে, যেটা আপনি আগে কখনো খেয়াল করেননি।

শেষ পর্যন্ত আবার সেই একই জায়গায় এসে দাঁড়ায় সবকিছু। ধূমপান আপনাকে একটা দ্রুত বের হওয়ার পথ দেখায়, কিন্তু সেই পথটাই ধীরে ধীরে আপনাকে একটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আটকে ফেলে। আর চা বা কফি আপনাকে একটু সাহায্য করে, একটু এগিয়ে দেয়, কিন্তু আপনাকে নিজের উপর নির্ভরশীল থাকতে দেয়। কিন্তু এই দুইটার বাইরেও একটা জায়গা আছে, যেখানে আপনি কোনো কিছুর উপর নির্ভর না করেও নিজের একঘেয়েমি সামলাতে পারেন। সেই জায়গায় পৌঁছাতে সময় লাগে, কিন্তু একবার পৌঁছে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি আসলে নিজের ভেতরের নিয়ন্ত্রণটা আবার ফিরে পেয়েছেন।

মো. ইফতেখার হোসেন
এমবিবিএস ২য় বর্ষ , কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ |
আগ্রহের ক্ষেত্র মূলত আচরণবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও অভ্যাসবিজ্ঞান।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org