দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানী.অর্গের বিশেষ সাক্ষাৎকার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি ভবন নির্মাণ, রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও বড় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে? আধুনিক প্রকৌশল গবেষণায় কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার ভিশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে? এসব বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানী.অর্গের আগামী বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্ত হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রকৌশল গবেষক ও শিক্ষক ড. বিলাওয়াল মাহমুদ (Dr. Bilawal Mahmood)।
তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের Ghulam Ishaq Khan Institute of Engineering Sciences and Technology (GIKI)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। নির্মাণপ্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (BIM), অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং স্মার্ট কনস্ট্রাকশন প্রযুক্তি তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।
পাকিস্তান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া: একজন গবেষকের পথচলা
ড. বিলাওয়াল মাহমুদ পাকিস্তানের University of Engineering and Technology, Lahore থেকে ২০১৩ সালে জিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় যান।
২০১৭ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার Hanyang University-তে পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি নিয়ে Construction Engineering and Management বিষয়ে সমন্বিত উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। ২০২১ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি Hanyang University এবং Korea National University of Transportation-এ পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি প্রকৌশলশিল্পে বাস্তব প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। সৌদি আরবের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ডিজিটাল নির্মাণ ব্যবস্থাপনা ও BIM প্রযুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর এই শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গবেষণাগারের জ্ঞান কীভাবে বাস্তব শিল্প ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানো যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে বদলে দিচ্ছে নির্মাণশিল্প?
একটি ভবন নির্মাণের আগে তার ডিজিটাল মডেল তৈরি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ কিংবা রেললাইনের ত্রুটি শনাক্ত করা—এসব কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ড. বিলাওয়াল মাহমুদের গবেষণার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করে নির্মাণযন্ত্রের কার্যক্রম বিশ্লেষণ। তাঁর একটি গবেষণায় ডিপ লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরের ত্রিমাত্রিক অবস্থান শনাক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণে Scan-to-BIM প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্যামিতিক ত্রুটি শনাক্তকরণের কাঠামো নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণায় অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
তাঁর গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Automation in Construction, Remote Sensing এবং Buildings-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এসব প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার শুধু নির্মাণশিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাৎকার?
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান। কিন্তু গবেষণার জগতে প্রবেশের প্রথম ধাপ কী, স্নাতক পর্যায় থেকেই কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় কিংবা বিদেশে গবেষণার সুযোগ খুঁজতে হলে কোন দক্ষতাগুলো গড়ে তুলতে হয়—এসব বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
ড. বিলাওয়াল মাহমুদের শিক্ষাজীবন এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি, আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে কাজ এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও শিল্পক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীরা গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এই সাক্ষাৎকারে আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার উপায়।
বিশেষ করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডেটা সায়েন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কারণ আধুনিক গবেষণায় বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান একত্র করে নতুন সমাধান তৈরির সুযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
গবেষক হওয়ার স্বপ্ন যাঁদের
গবেষণা শুরু করতে কি অত্যাধুনিক গবেষণাগারের প্রয়োজন? একজন সাধারণ শিক্ষার্থী কীভাবে আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন? ভালো গবেষক হতে প্রোগ্রামিং, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে ভাবেন বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী।
একজন গবেষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া সম্ভব। সাফল্যের পাশাপাশি গবেষণার চ্যালেঞ্জ, নতুন প্রযুক্তি শেখার প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির গুরুত্ব বোঝাও সমান জরুরি।
বিজ্ঞানী.অর্গের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একজন গবেষকের অর্জন তুলে ধরা নয়, বরং তাঁর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তা, গবেষণার আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
বিজ্ঞানী.অর্গের বিশেষ সাক্ষাৎকারে আপনিও অংশ নিন
আপনি যদি ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিবিদ হতে চান অথবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ রইল।
ড. বিলাওয়াল মাহমুদের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জনের সুযোগ থাকবে এই আয়োজনে।
বিজ্ঞানী.অর্গ বিশ্বাস করে, একজন গবেষকের অভিজ্ঞতা ও পথচলার গল্প নতুন প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানের তথ্য
📅 তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ (সোমবার)
🕖 সময়: সন্ধ্যা ৭:০০টা (বাংলাদেশ সময়)
🎓 বিশেষ অতিথি: ড. বিলাওয়াল মাহমুদ (Dr. Bilawal Mahmood)
Assistant Professor, Department of Civil Engineering, Ghulam Ishaq Khan Institute of Engineering Sciences and Technology, Pakistan
🎤 উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি
🎙️ সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু
📌 রেজিস্ট্রেশন: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে।
বিজ্ঞানী.অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন এবং জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Leave a comment