Share

আমরা প্রতিনিয়ত ফুসফুস ভরে যে অক্সিজেন নিচ্ছি, প্রকৃতির যে স্বচ্ছ পানি পান করছি, অথবা গাছের যে শীতল ছায়া উপভোগ করছি, তার জন্য কাউকে কোনো বিল দিতে হয় না। মূলধারার অর্থনীতিতে এগুলোকে বিনা পয়সাই পাওয়া সম্পদ মনে হলেও বিজ্ঞান ও পরিবেশবিদ্যার দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে ‘ফ্রি’ বলে কিছু নেই। আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতি ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি এবং প্রতিমুঠো শস্যের পেছনে কাজ করে চলেছে পৃথিবীর এক জটিল সমীকরণ।

প্রকৃতির সেবা গ্রহণ করে যদি আমরা তার ভারসাম্য ফিরিয়ে না দিই, তবে দিনশেষে জমা হয় বিশাল এক পরিবেশগত ঋণ (Ecological Debt)। বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঋণ কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং কীভাবে তা পরিশোধ করা সম্ভব, তা নিচে আলোচনা করা হলো।

১. ইকোসিস্টেম সার্ভিস এবং ফ্রিসম্পদের ধারণা

বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ স্যার পার্থ দাশগুপ্তের ইউকে ট্রেজারির জন্য প্রণীত এক আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে  প্রথাগত অর্থনৈতিক মডেলগুলো প্রকৃতিকে অর্থনীতি থেকে ‘আলাদা’ এবং একটি বাহ্যিক উপাদান (Externality) হিসেবে গণ্য করা  হয়েছে। কিন্তু পরিবেশবিজ্ঞানে প্রকৃতিকে বিবেচনা করা হয় প্রাকৃতিক মূলধন (Natural Capital) হিসেবে।

পরিবেশবিদ রবার্ট কোস্টানজা (Robert Costanza) ও তাঁর দলের গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবী প্রতি বছর মানবজাতিকে আনুমানিক ১২৫ থেকে ১৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইকোসিস্টেম সার্ভিস প্রদান করে, যা সমগ্র বিশ্বের বার্ষিক মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (Global GDP) চেয়েও অনেক বেশি।

জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ইকোসিস্টেম অ্যাসেসমেন্ট (Millennium Ecosystem Assessment) অনুসারে, প্রকৃতির এই অবদানকে মূলত চারটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করা যায়:

সেবার ধরনপৃথিবীর প্রাকৃতিক কাজআমরা যা গ্রহণ বা ব্যবহার করিআনুমানিক অর্থনৈতিক মান / প্রভাব
Provisioning Servicesপরিবেশ থেকে সরাসরি পাওয়া বস্তুগত সম্পদপানীয় জল, কাঠ, খাদ্যশস্য, জেনেটিক সম্পদবিশ্বব্যাপী ৪ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রাথমিক জীবিকা নির্বাহ
Regulating Servicesপ্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও চক্র নিয়ন্ত্রণকার্বন sequestration, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি বিশুদ্ধকরণপ্রতি বছর মহাসাগর ও বনভূমি মিলে মানবসৃষ্ট কার্বনের প্রায় ৫৫% শোষণ করে
Supporting Servicesজীবন ধারণের মৌলিক ও অনুঘটক প্রক্রিয়ামাটি গঠন, পুষ্টি চক্র, সালোকসংশ্লেষণবার্ষিক শত শত বিলিয়ন টন বায়োমাস উৎপাদন
Cultural Servicesমানসিক ও নান্দনিক অবদানবিনোদন, মানসিক প্রশান্তি, শিক্ষাবিশ্ব পর্যটন ও ইকোট্যুরিজমের মূল ভিত্তি

আমরা যখন নদী বা ভূগর্ভ থেকে পানি বাবহার করি, তখন বস্তুত লক্ষ লক্ষ বছর ধরে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক ফিল্টারিং ব্যবস্থার সেবা গ্রহণ করি। এর জন্য সরাসরি অর্থ খরচ না হলেও, পরিবেশকে এই সেবা সচল রাখতে ক্রমাগত বায়োফিজিক্যাল শক্তি ব্যয় করতে হয়।

২. পরিবেশগত ঋণের তাপগতিবিদ্যা ও ইকোলজিক্যাল ওভারশুট

কখনও কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে-আমরা কেন অনির্দিষ্টকাল ধরে প্রকৃতির সম্পদ আহরণ করে যেতে পারি না? এর মূল উত্তর লুকিয়ে আছে তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রে (Second Law of Thermodynamics)।

তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী: যেকোনো রুদ্ধ বা আংশিক-রুদ্ধ সিস্টেমে শক্তির রূপান্তরের সাথে সাথে ‘এন্ট্রপি’ (Entropy) বা বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়। মানবসমাজ যখন প্রকৃতির সুসংগঠিত জৈব কাঠামো (বিশুদ্ধ পানি, উর্বর মাটি, বনের বায়োমাস) আহরণ করে উচ্চ-এন্ট্রপিযুক্ত বর্জ্যে (মাইক্রোপ্লাস্টিক, বিষাক্ত কেমিক্যাল, অতিরিক্ত CO₂) রূপান্তর করে পরিবেশে ফেরত দেয়, তখন পুরো বায়োস্ফিয়ারের বিশৃঙ্খলা বা এন্ট্রপি বেড়ে যায়।

চিত্র: 1 ধারণাগত বায়োফিজিক্যাল চক্র-প্রাকৃতিক মূলধন ব্যবহার, এন্ট্রপি বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ঋণ পরিশোধের প্রবাহ

গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্ক (Global Footprint Network)-এর তথ্যানুযায়ী, মানবজাতি বর্তমানে প্রকৃতির পুনরুৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৭0% বেশি সম্পদ প্রতি বছর ব্যবহার করছে। অর্থাৎ, বর্তমান চাহিদা মেটাতে আমাদের ১.৭৫টি পৃথিবীর সমান প্রাকৃতিক মূলধন প্রয়োজন।

১৯৭০ সালে আমরা যেখানে বছরের শেষ নাগাদ (ডিসেম্বর) পৃথিবীর বার্ষিক বরাদ্দকৃত সম্পদ শেষ করতাম, বর্তমানে ‘আর্থ ওভারশুট ডে (Earth Overshoot Day)’ প্রায় ছয় মাস এগিয়ে এসে অর্থাৎ জুলাই/আগস্টের শুরুতেই পৌঁছে যাচ্ছে। বছরের বাকি সময়টা আমরা চলি মূলত পৃথিবীর ‘প্রাকৃতিক মূলধন’ (Capital) ভেঙে।

গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্কের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক পরিবেশগত ব্যালেন্স শিটে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, বাংলাদেশের অবস্থান এক চরম বৈপরীত্যের ইঙ্গিত দেয়। তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীর সব মানুষ যদি একজন গড় বাংলাদেশির মতো সম্পদ ভোগ করত, তবে পৃথিবী নামক গ্রহের বার্ষিক ধারণক্ষমতার মাত্র ৪৬% ব্যবহৃত হতো এবং মানবজাতি সম্পূর্ণ টেকসই (Sustainable) অবস্থায় থাকত। অথচ এই অতি-নিম্ন Ecological Footprint সত্ত্বেও, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তুতন্ত্রের ওপর সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র চাপ। সবচেয়ে বড় বৈষম্য হলো, গ্লোবাল ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে কম ঋণগ্রস্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও, উন্নত বিশ্বের তৈরি ‘ইকোলজিক্যাল ওভারশুট’-এর মাশুল হিসেবে Climate Injustice এর প্রথম ও প্রধান শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

চিত্র:2 আর্থ ওভারশুট ডে (1972-2026)

সূত্র: www.FoDaFo.org and www.overshootday.org

৩. অমীমাংসিত ঋণের ভয়াবহ চিত্র

প্রকৃতির প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করার মাশুল ইতোমধ্যে বিভিন্ন সূচকে স্পষ্ট:

  • মৃত্তিকার অবক্ষয় (Soil Degradation): জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র মতে, বিশ্বের প্রায় ৩৩% উর্বর মাটি ইতোমধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত, লবণাক্ততা বা রাসায়নিক বিষাক্ততার কারণে আংশিক বা পূর্ণ অবক্ষয়ের শিকার।
  • জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি: আইপিবিইএস (IPBES)-এর গ্লোবাল অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বের প্রায় ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • পানি সংকট: বৈশ্বিক পানি উন্নয়ন প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি মানুষ চরম পানি-সংকটাপন্ন এলাকায় বসবাস করে এবং কৃত্রিম রাসায়নিকের ফলে ৭০% নদী-নালার বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত।

৪. ঋণ পরিশোধের বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা

পরিবেশগত ঋণ পরিশোধ কেবল কোনো নৈতিক উপদেশ নয়, এটি আমাদের প্রিয় ধরিত্রীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তা। আমাদের প্রধান কর্তব্যগুলোকে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়:

ক. মেটাবলিক লুপ বন্ধ করা (Circular Bioeconomy)

রৈখিক অর্থনীতি বা Linear Economy (আহরণ  উৎপাদন  বর্জ্য ফেলে দেওয়া) পরিবেশগত ঋণ দ্রুত বাড়ায়। এর বিপরীতে সার্কুলার বায়োইকোনমি গড়ে তুলতে হবে:

  • জৈব বর্জ্য পুনঃব্যবহার: বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩০% অপচয় হয় (UNEP)। এই জৈব বর্জ্য ও ফসলের অবশিষ্টাংশ (Crop Residues) মাটিতে ফেরত পাঠিয়ে মাটিস্থ অণুজীব ও জৈব পদার্থ (Soil Organic Matter) বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
  • পানি ব্যবস্থাপনা: কৃত্রিম জলাভূমি (Constructed Wetlands) ও বায়ো-সোয়েল (Bio-swales) ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহৃত পানিকে প্রাকৃতিক উপায়ে বিশোধন করে ভূগর্ভে ফেরত পাঠানো।

খ. পুনরুৎপাদনশীল কৃষি (Regenerative Agriculture) ও বায়ো-রিস্টোরেশন

প্রকৃতির ক্ষতি কম করাই কি যথেষ্ট? নাকি সক্রিয়ভাবে ধনাত্মক উপাদান যোগ করতে হবে:

  • সয়েল কার্বন সিকেস্ট্রেশন: Cover crops, Reduced tillage বা Zero Tillage এবং Biochar প্রয়োগের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন কে মাটিতে স্থায়ীরূপে আটকে রাখা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, পুনরুৎপাদনশীল কৃষির মাধ্যমে বছরে প্রতি হেক্টর জমিতে ০.৫ থেকে ১.৫ টন কার্বন মাটিতে যোগ করা সম্ভব।
  • জীববৈচিত্র্য বাফার তৈরি: কৃষি ও শিল্পাঞ্চলের চারপাশে স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদের করিডোর তৈরি করা, যা পরাগায়নকারী পতঙ্গ ও প্রাকৃতিক শত্রু-কীটপতঙ্গ রক্ষা করে।

গ. ব্যক্তি ও স্থানীয় পর্যায়ে ইকোলজিক্যাল অ্যাকাউন্টিং

সামষ্টিক পরিবর্তনের সূচনা হয় ব্যক্তি পর্যায় থেকে:

  • ফুটপ্রিন্ট পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তিগত ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ ও খাদ্যাভ্যাসের কার্বন তীব্রতা কমানো (উদাহরণস্বরূপ, ১ কেজি গরুর মাংস উৎপাদনে প্রায় ১৫,০০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যেখানে ১ কেজি শস্যে প্রয়োজন মাত্র 1300-১৫০০ লিটার)।
  • স্থানীয় সবুজ এলাকা সংরক্ষণ: নগরাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা (Rainwater harvesting) এবং ড্রেনে ক্ষতিকর রাসায়নিক ফেলা বন্ধ করা।

উপসংহার: ঋণগ্রস্ত ভোক্তা থেকে পৃথিবীর অভিভাবকে রূপান্তর

প্রকৃতি সরাসরি কোনো অর্থসংক্রান্ত ট্যাক্স পাঠায় না, কিন্তু তার বকেয়া বুঝে নেয় মাটির উর্বরতা হ্রাস, সুপেয় পানির সংকট, চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসের মাধ্যমে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার SDG 6 (বিশুদ্ধ পানি), SDG 12 (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন), SDG 13 (জলবায়ু কার্যক্রম) এবং SDG 15 (স্থলজ জীবন)-এই লক্ষ্যগুলো আসলে প্রকৃতির সেই ঋণ শোধেরই আন্তর্জাতিক রূপরেখা।

পরিচ্ছন্ন বাতাসে শ্বাস নেওয়া এবং নির্মল পানি পান করা আমাদের অধিকার হলেও, তা টিকিয়ে রাখা আমাদের পরম দায়িত্ব। যে পরিমাণ প্রাকৃতিক মূলধন আমরা ভোগ করছি, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও টেকসই জীবনযাত্রার মাধ্যমে তার সমপরিমাণ শক্তি প্রাকৃতিক চক্রে ফিরিয়ে দিয়ে বৈশ্বিক SDG অর্জনে ভূমিকা রাখাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

পরিভাষা:

বায়োফিজিক্যাল শক্তি (Biophysical Energy): প্রকৃতি ও জীবমণ্ডল (Biosphere) যেসব ভৌত ও জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে সচল রাখে, সেই শক্তি ও কাজের প্রবাহকে বোঝায়।

অর্থনীতিতে আমরা শক্তি বলতে মূলত মানুষের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা যান্ত্রিক শক্তি বুঝি। কিন্তু প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে বায়োফিজিক্যাল শক্তি হলো সৌরশক্তি, মহাকর্ষ বল, তাপগতিবিদ্যার সূত্র, অণুজীবের রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের সেই সম্মিলিত শক্তি, যা পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রকে (Ecosystem) টিকিয়ে রাখে।

আর্থ ওভারশুট ডে‘ (Earth Overshoot Day): এটি বছরের সেই বিশেষ দিন, যে দিনে মানবজাতি ওই বছরের জন্য নির্ধারিত সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ (পানি, কাঠ, শস্য, অক্সিজেন ইত্যাদি) পুরোপুরি খরচ করে ফেলে।

উদাহরণের মাধ্যমে বুঝুন: আপনি যদি জানুয়ারির ১ তারিখে সারা বছরের জন্য ১২ মাসের বাজার খরচ হাতে পান এবং জুলাইয়ের শেষে সব টাকা শেষ করে ফেলেন, তাহলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টা আপনাকে ধার-দেনা করে বা সঞ্চয় ভেঙে চলতে হবে। অর্থাৎ, ‘আর্থ ওভারশুট ডে’ হলো ঠিক সেইদিন, যেদিন পৃথিবীর বার্ষিক ‘রেশন’ শেষ হয়ে যায়।

সার্কুলার বায়োইকোনমি (Circular Bioeconomy): এটি এমন একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক মডেল, যা নবায়নযোগ্য জৈব সম্পদ (যেমন: কৃষি, বন ও সামুদ্রিক উপাদান) ব্যবহার করে খাদ্য, পণ্য ও শক্তি উৎপাদন করে এবং কোনো অপচয় না করে বর্জ্যকে পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে প্রকৃতির নিয়মে চক্রাকারে ঘুরিয়ে আনে।

বায়ো-সোয়েল (Bio-swales): মাটির নিচে বালু, নুড়ি পাথর এবং ওপরে গভীর শিকড়যুক্ত বিশেষ গাছপালা দিয়ে তৈরি এক ধরনের প্রাকৃতিকভাবে ঢালু কৃত্রিম নালা বা নিচু চ্যানেল, যা বৃষ্টির পানি ও ড্রেনেজের বর্জ্যপানিকে প্রাকৃতিকভাবে ছেঁকে বিশুদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।

আরও জানতে পড়ুন:

১. Costanza et al. (2014)-Changes in the global value of ecosystem services. Global Environmental Change.

২. Millennium Ecosystem Assessment (2005) – Ecosystems and Human Well-being. Island Press.

৩. Global Footprint Network (2023) – National Footprint and Biocapacity Accounts.

৪. FAO & ITPS (2015) – Status of the World’s Soil Resources. FAO, Rome.

৫. IPBES (2019) – Global Assessment Report on Biodiversity and Ecosystem Services. ৬. UNESCO (2023) – United Nations World Water Development Report.

৭. UNEP (2021) – Food Waste Index Report.

৮. Lal, R. (2004) – Soil carbon sequestration impacts on global climate change and food security. Science.

৯. Mekonnen, M. M., & Hoekstra, A. Y. (2012) – The water footprint of farm animal products. Ecosystems.

লেখক: রিপন সিকদার
পিএইচডি, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (বীজ),
পার্টনার প্রকল্প, বিএডিসি, ঢাকা।
Email: [email protected]

Share
Written by
ড. রিপন সিকদার

কৃষি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ | উদ্ভিদ স্ট্রেস ফিজিওলজিস্ট | বিজ্ঞান যোগাযোগকর্মী | উপদেষ্টা, বিজ্ঞানী.অর্গ ড. রিপন সিকদার একজন বাংলাদেশি কৃষি উন্নয়ন পেশাজীবী, উদ্ভিদ স্ট্রেস ফিজিওলজিস্ট এবং বিজ্ঞান যোগাযোগকর্মী। তিনি চীনের Chinese Academy of Agricultural Sciences থেকে Crop Cultivation and Farming System বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল লবণাক্ততা ও পরিবেশগত চাপের মধ্যে নাইট্রোজেন-নিয়ন্ত্রিত ফসল সহনশীলতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি তিনি Human Resource Management (HRM)-এ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা তাঁর নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে তিনি Bangladesh Agricultural Development Corporation (বিএডিসি)-এ কর্মরত এবং World Bank এর PARTNER Program-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, টেকসই বীজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বীজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছেন। ড. সিকদার বিশ্বাস করেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন কেবল প্রযুক্তি বা গবেষণার মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবসম্পদের কার্যকর বিকাশ। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় বিজ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বিজ্ঞানী.অর্গ-এর উপদেষ্টা হিসেবে বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার কাজ করছেন। তাঁর লেখালেখির বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি জীবপ্রযুক্তি, প্ল্যান্ট ন্যানোবায়োনিক্স, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (4IR) প্রযুক্তি। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ ও রিভিউ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং গবেষণা, নেতৃত্ব ও বিজ্ঞান যোগাযোগের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ