ইলেক্ট্রনিক্সকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভবিষ্যতের কম্পিউটিং নিয়ে ড. আসিফ খানের বিশেষ সাক্ষাৎকার

Share
Share

সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হার্ডওয়্যার ও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথ নিয়ে জানার সুযোগ

ভবিষ্যতের কম্পিউটার কীভাবে আরও দ্রুত, শক্তিসাশ্রয়ী ও বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে—এই প্রশ্নকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে চলছে নতুন প্রজন্মের সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি ও কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ও শিক্ষক ড. আসিফ খানকে নিয়ে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিজ্ঞানবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম biggani.org। সাক্ষাৎকারে তাঁর শিক্ষা ও গবেষণার যাত্রা, ভবিষ্যতের কম্পিউটিং প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গবেষণাজীবনের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ড. আসিফ খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। একই প্রতিষ্ঠানের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র হলো উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উপাদান ও ডিভাইস, নতুন ধরনের লজিক ও মেমোরি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হার্ডওয়্যার, ফেরোইলেকট্রিক ও অক্সাইড উপাদান এবং নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ড. আসিফ খান উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্নাতকোত্তর গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক।

ড. খানের গবেষক দল ফেরোইলেকট্রিক এবং নেগেটিভ-ক্যাপাসিট্যান্সভিত্তিক ডিভাইস গবেষণায় মৌলিক অবদান রেখেছে। এসব গবেষণা ভবিষ্যতের লজিক, মেমোরি ও তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য প্রচলিত কম্পিউটার চিপের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের যন্ত্র আরও দক্ষতার সঙ্গে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং শেখার কাজ করতে পারবে।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা সাধারণত সফটওয়্যার, অ্যালগরিদম ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাকে কেন্দ্র করে হয়। কিন্তু এসব প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে জটিল হার্ডওয়্যার, প্রসেসর, মেমোরি এবং সেমিকন্ডাক্টর উপাদান। শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়, যার ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার ও কম্পিউটিং ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই আরও দ্রুত ও শক্তিসাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন ধরনের সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি ও কম্পিউটিং ডিভাইসের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. আসিফ খানের কাজ ভবিষ্যতের এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রকাশনা ও গবেষণা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি IEEE Journal on Exploratory Solid-State Computational Devices and Circuits-এর প্রধান সম্পাদক এবং IEEE Electron Device Letters-এর সম্পাদক। এসব দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটিং ডিভাইস এবং শক্তিসাশ্রয়ী প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণার অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তাঁর গবেষণা ও পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ড. খান Intel Rising Star Award, NSF CAREER Award এবং DARPA Young Faculty Award অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের National Academy of Engineering আয়োজিত Frontiers of Engineering Symposium-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন। গবেষণাগারের বাইরে তিনি সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগ সংস্থাকে প্রযুক্তিগত পরামর্শও দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞানী বা গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও গবেষণাজীবনের বাস্তব পথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পায় না। কোন পর্যায় থেকে গবেষণার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত, কীভাবে নিজের আগ্রহের বিষয় খুঁজে নিতে হয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা কীভাবে গড়ে তুলতে হয় এবং একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে কাজ করার জন্য কী ধরনের মানসিকতা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ গবেষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারে।

বিশেষ করে যারা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, কম্পিউটার প্রকৌশল, উপাদানবিজ্ঞান, সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোপ্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই আলোচনা হবে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার একটি মূল্যবান সুযোগ। এর পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণার বিষয় নির্বাচন, ভালো তত্ত্বাবধায়ক খোঁজা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেও সাক্ষাৎকারটি শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে।

ড. আসিফ খান নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলী ও গবেষকদের পরামর্শ দেওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি স্কুল থেকে কমিউনিটি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার কাজেও আগ্রহী। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি মনে করিয়ে দেয় যে বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নতুন প্রজন্মের কাছে বিজ্ঞানকে সহজভাবে তুলে ধরা এবং তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করাও একজন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।

বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার পথ সাধারণত সরল নয়। এই যাত্রায় সাফল্যের পাশাপাশি থাকে অনিশ্চয়তা, কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং বারবার নতুনভাবে শেখার প্রয়োজন। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বুয়েট থেকে শুরু করে বার্কলে এবং জর্জিয়া টেক পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা তরুণদের বুঝতে সাহায্য করবে—আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার স্বপ্ন কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি, অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব।

ড. আসিফ খানের গবেষণা, শিক্ষা ও পেশাগত যাত্রা নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতের কম্পিউটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথ বুঝতে এবং একজন সফল গবেষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে যুক্ত হোন biggani.org-এর এই বিশেষ আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের তথ্য

📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)

ইভেন্টের সময়: ১৯ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার), রাত ৯ টা (বাংলাদেশ সময়)
উপস্থাপক: তাহসিন আহমেদ সুপ্তি।
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু মুমু

বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।
বিজ্ঞানী.অর্গ — বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য, ২০০৬ সাল থেকে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ