সাক্ষাৎকার

#২৫২ ন্যানোপ্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং ও ভবিষ্যতের চিকিৎসার পথে এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মহসিন কাজীর গবেষণাযাত্রা

Share
Share

রিয়াদ, করাচি, কুষ্টিয়া—তিন ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান থেকে যুক্ত কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানপ্রেমীর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলছিলেন সৌদি আরবের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মহসিন কাজী। বিজ্ঞানী.অর্গের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলাপচারিতা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ সাক্ষাৎকার হিসেবে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা হয়ে ওঠে বিজ্ঞান, গবেষণা, অধ্যবসায় ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনুপ্রেরণামূলক পাঠশালা।

ড. মহসিন কাজী আধুনিক ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা বা ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন গবেষক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র লিপিড-ভিত্তিক ন্যানো-ফরম্যুলেশন, পানিতে কম দ্রবণীয় ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, তরল ওষুধকে কঠিন ডোজে রূপান্তর, থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে আলাদা মাত্রার ওষুধ তৈরি এবং উন্নত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি। ২৯২টিরও বেশি গবেষণাপত্র, একাধিক আন্তর্জাতিক পেটেন্ট এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা—সব মিলিয়ে তাঁর কাজ কেবল ল্যাবরেটরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যতের চিকিৎসাপদ্ধতিকে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা বহন করে।

তবে তাঁর গল্প শুধু সাফল্যের তালিকা নয়। এর ভেতরে আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস, দীর্ঘ গবেষণাজীবনের ধৈর্য, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব গড়ে তোলার স্বপ্ন, তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের জ্ঞানকে সমাজের কাজে লাগানোর এক গভীর মানবিকতা।

ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া, সেখান থেকে সৌদি আরব

ড. মহসিন কাজীর উচ্চশিক্ষার পথ শুরু হয় রসায়ন বা কেমিস্ট্রির মাধ্যমে। ভারতীয় উপমহাদেশে পড়াশোনা শেষ করে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যান। ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনার্স পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্ট্রেলিয়ান পোস্টগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ লাভ করেন। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সেখানে পিএইচডি গবেষণার সময়ই তাঁর সামনে খুলে যায় আন্তর্জাতিক গবেষণাজগতের দরজা।

গবেষণাজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে শিকাগোর একটি সম্মেলনে। সেখানে কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফ্যাকাল্টি সদস্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যক্তি সৌদি আরবের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের নেতৃত্বস্থানীয় পদেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ড. কাজীকে সৌদি আরবে গবেষণা চেয়ার বা গবেষণাকেন্দ্রিক পদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি রোশ থেকেও তিনি চাকরির প্রস্তাব পান। অর্থনৈতিক দিক থেকে রোশের প্রস্তাব ছিল আকর্ষণীয়। কিন্তু তাঁর মেন্টর অধ্যাপক কলিন পাউটন তাঁকে অন্যভাবে ভাবতে বলেন। তিনি বোঝান, ক্যারিয়ারের শুরুতেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গেলে গবেষণার স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে; কিন্তু একাডেমিয়ায় গেলে নিজের মতো ল্যাব গড়ে তোলা, নতুন ধারণা পরীক্ষা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করার সুযোগ অনেক বেশি।

সেই পরামর্শই শেষ পর্যন্ত তাঁর পথ নির্ধারণ করে। তিনি কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৭ বছর। সৌদি আরবের গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন আধুনিক ওষুধবিজ্ঞানের এক শক্তিশালী গবেষণাধারা।

সৌদি আরবের বিজ্ঞান অবকাঠামো ও বাংলাদেশের শিক্ষা

ড. কাজীর কথায়, সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো গত কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। দেশটি শুধু স্বাস্থ্যবিজ্ঞান নয়, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও উন্নত প্রকৌশল—সব ক্ষেত্রেই বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, সৌদি আরব এখন অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বাস্তবতার কথাও বলেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা মেধার অভাব নয়, বরং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। উন্নত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট, গবেষণাগার, নিয়মিত ফান্ডিং ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি—এসব না থাকলে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীও বড় গবেষণা করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে। তিনি মনে করেন, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধা তৈরি করা যায়, তবে অনেক গবেষককে বিদেশে যেতে হবে না; দেশেই বিশ্বমানের কাজ করা সম্ভব হবে।

এই উপলব্ধি থেকেই তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস লাহোর, ফরম্যান ক্রিশ্চিয়ান কলেজ, রিফাহ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা আছে। বাংলাদেশেও কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ওষুধ শুধু বানালেই হয় না, শরীরে পৌঁছাতেও হয়

সাধারণ পাঠকের কাছে ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম শব্দটি হয়তো কিছুটা জটিল শোনাতে পারে। কিন্তু বিষয়টি বোঝা যায় খুব সহজ উদাহরণে। আমরা যখন কোনো ওষুধ খাই, ধরে নিই সেটি শরীরে গিয়ে কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে সব ওষুধ শরীরে সমানভাবে কাজ করতে পারে না। অনেক ওষুধ পাকস্থলীতে গিয়ে ঠিকভাবে গলে না, রক্তে মিশতে পারে না, অথবা লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়।

এখানেই আসে ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমের গুরুত্ব। এটি অনেকটা ডাকপিয়নের মতো—ওষুধকে শুধু তৈরি করা নয়, সেটিকে শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়াই এর কাজ। যেমন একটি জরুরি চিঠি যদি ভুল ঠিকানায় যায়, তবে তার কোনো ফল হবে না; তেমনি ওষুধ যদি সঠিক স্থানে, সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে না পৌঁছায়, তবে চিকিৎসাও কার্যকর হবে না।

ড. মহসিন কাজীর গবেষণার বড় অংশ ঘিরে আছে এই সমস্যার সমাধান। বিশেষ করে যেসব ওষুধ পানিতে সহজে গলে না, সেগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে তিনি লিপিড-ভিত্তিক ন্যানো-ফরম্যুলেশন নিয়ে কাজ করেন।

লিপিড ন্যানো পার্টিকেল: শরীরের ভেতরে ওষুধের নিরাপদ বাহন

লিপিড ন্যানো পার্টিকেল বা এলএনপি বোঝার জন্য ড. কাজী কোভিড-১৯-এর এমআরএনএ ভ্যাকসিনের উদাহরণ দেন। এমআরএনএ খুব সংবেদনশীল একটি অণু। শরীরে সরাসরি দিলে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাকে একটি সুরক্ষিত আবরণের ভেতর রেখে শরীরে পাঠাতে হয়। লিপিড ন্যানো পার্টিকেল সেই সুরক্ষিত বাহন হিসেবে কাজ করে।

এখানে ‘লিপিড’ বলতে বোঝায় চর্বিজাতীয় বা তেলজাতীয় উপাদান, আর ‘ন্যানো’ মানে অতি ক্ষুদ্র। ন্যানো পার্টিকেল এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. কাজীর ভাষায়, এটি অনেকটা গাড়ির মতো—গাড়ি যেমন যাত্রীকে রক্ষা করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়, তেমনি লিপিড ন্যানো পার্টিকেল ওষুধের অণুকে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আক্রমণ বা পাকস্থলীর পরিবেশ থেকে রক্ষা করে রক্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছে দিতে পারে।

প্যারাসিটামলের মতো কিছু ওষুধ পানিতে সহজে গলে যায়। কিন্তু ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা জটিল দীর্ঘমেয়াদি রোগের অনেক ওষুধ পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয় না। আমাদের পাকস্থলীর পরিবেশ জলীয় বা ওয়াটারি। ফলে এসব ওষুধ সরাসরি খেলে অনেক সময় যথেষ্ট পরিমাণে রক্তে পৌঁছায় না। এতে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। লিপিড-ভিত্তিক ন্যানো-ফরম্যুলেশন এমন ওষুধকে শরীরে কার্যকরভাবে শোষিত হতে সাহায্য করতে পারে।

এই প্রযুক্তি শুধু ভবিষ্যতের চিকিৎসা নয়, ইতিমধ্যেই আধুনিক ভ্যাকসিন ও উন্নত ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ: ভবিষ্যতের নীরব বিপদ

ড. কাজীর আলোচনায় উঠে আসে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিষয়টিও। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সামান্য জ্বর, ঠান্ডা বা গলা ব্যথা হলেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো মনে হয় শরীর ভালো হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হয় বড় বিপদ।

অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াকেও ধ্বংস করে। অন্যদিকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কিছু অংশ বেঁচে গিয়ে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে একই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। এভাবে একসময় সাধারণ সংক্রমণও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ড. কাজী জানান, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি নতুন ওষুধ বাজারে আনতে অনেক সময় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এ কারণে অনেক কোম্পানি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে আগ্রহী হয় না। তাই বিদ্যমান অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

এখানে শিক্ষা হলো স্পষ্ট: অ্যান্টিবায়োটিক কোনো সাধারণ ব্যথানাশক বা জ্বরের ওষুধ নয়। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি সমাজের জন্যও বিপদ তৈরি করে।

পেটেন্ট: বিজ্ঞানীর ধারণার আইনগত সুরক্ষা

গবেষণার জগতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেটেন্ট। অনেকে গবেষণাপত্র সম্পর্কে জানলেও পেটেন্টের গুরুত্ব বোঝেন না। ড. কাজী সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, পেটেন্ট হলো কোনো নতুন ধারণা, যন্ত্র, পদ্ধতি বা ওষুধ ফরম্যুলার আইনগত সুরক্ষা।

ধরা যাক, কেউ একটি নতুন ওষুধ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন। যদি তিনি সেটি প্রকাশ করার আগেই পেটেন্ট অফিসে জমা দেন এবং পেটেন্ট অনুমোদিত হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য কেউ তাঁর অনুমতি ছাড়া সেটি তৈরি বা বিক্রি করতে পারবে না। সাধারণত এই সুরক্ষা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত থাকে।

ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো একটি নতুন ওষুধ বাজারে আনতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে। পেটেন্ট তাদের সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সুযোগ দেয়। ২০ বছর পর পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হলে অন্য কোম্পানিগুলো একই ওষুধ জেনেরিক হিসেবে তৈরি করতে পারে। তখন দাম কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য হয়।

এই ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, পেটেন্ট শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়; এটি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার একটি কাঠামো। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষে তা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হয়ে ওঠে।

থ্রিডি প্রিন্টিং: ভবিষ্যতে ফার্মেসিতে ছাপা হবে ব্যক্তিগত ওষুধ

ড. মহসিন কাজীর গবেষণার আরেকটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হলো থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে ওষুধ তৈরি। সাধারণত আমরা মনে করি থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে খেলনা, যন্ত্রাংশ বা মডেল বানানো যায়। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, একই প্রযুক্তি দিয়ে ওষুধও তৈরি করা যায় কি না।

এই ধারণার ভিত্তি হলো প্রিসিশন মেডিসিন বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা। সবাই একই রকম নয়। কারও ওজন ৫০ কেজি, কারও ১২০ কেজি। একই ডোজের ওষুধ দুই ব্যক্তির শরীরে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, ক্যানসার রোগী বা জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে ডোজ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের ফার্মেসির একটি কল্পচিত্র দেন ড. কাজী। সেখানে রোগীর বিএমআই, ওজন, বয়স, রোগের ধরন এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেসে তথ্য দেওয়া হবে। তারপর থ্রিডি প্রিন্টার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার ট্যাবলেট তৈরি করে দেবে। শিশুদের জন্য ওষুধ ক্যান্ডি, হার্ট বা আকর্ষণীয় আকারে তৈরি করা যেতে পারে, যাতে তারা সহজে খেতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। ক্যানসারের ওষুধ সাধারণত শক্তিশালী এবং ডোজের সামান্য পার্থক্যও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোগীভেদে নির্ভুল ডোজ তৈরি করা ভবিষ্যতের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ব্যর্থতা নয়, নেগেটিভ ডাটা ভবিষ্যতের সতর্কসংকেত

গবেষণা মানেই সবসময় সাফল্য নয়। বহু পরীক্ষা ব্যর্থ হয়, অনেক ফল প্রত্যাশামতো আসে না। কিন্তু ড. কাজীর মতে, নেগেটিভ ডাটা মানেই ব্যর্থতা নয়। বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কসংকেত।

তিনি একটি সহজ উদাহরণ দেন। কেউ যদি কোনো পথে গিয়ে দেখে সামনে রাস্তা কাটা, তাহলে সে যদি সেটি লিখে রাখে, পরবর্তী হাজার মানুষ আর সেই পথে গিয়ে সময় নষ্ট করবে না। গবেষণাতেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো পদ্ধতি কাজ না করলে সেটিও জ্ঞান। কারণ তা অন্য গবেষকদের ভুল পথে সময় ও অর্থ ব্যয় করা থেকে বাঁচাতে পারে।

ড. কাজী মনে করেন, নেগেটিভ ফলাফলও প্রকাশ করা উচিত। বিজ্ঞানের ইতিহাসে বহু বড় আবিষ্কার এসেছে দুর্ঘটনা, ভুল বা অপ্রত্যাশিত পর্যবেক্ষণ থেকে। এক্স-রে আবিষ্কার থেকে শুরু করে পোলিও টিকা—অনেক ক্ষেত্রেই গবেষকের কৌতূহল, ধৈর্য ও পর্যবেক্ষণশক্তি বড় ভূমিকা রেখেছে।

তাঁর মতে, একজন গবেষকের সবচেয়ে দরকার ধৈর্য এবং কল্পনাশক্তি। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, অদেখাকে কল্পনা করার ক্ষমতাই গবেষণাকে এগিয়ে নেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: গবেষণাগারে নতুন সহকারী

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণার গতিপথ বদলে দিচ্ছে। ড. কাজী মনে করেন, ওষুধ আবিষ্কার ও গবেষণায় এআই সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।

আগে সাহিত্য পর্যালোচনা বা লিটারেচার রিভিউ করতে গবেষকদের অনেক সময় লাগত। কোন বিষয়ে কী কাজ হয়েছে, কোথায় গবেষণার ঘাটতি আছে, কোন অণু কোন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—এসব জানতে দীর্ঘ সময় ধরে পেপার পড়তে হতো। এখন এআই খুব দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য গবেষণার ফাঁক বা গ্যাপ দেখিয়ে দিতে পারে।

মলিকুলার ডকিং ও সিমুলেশনও এখন সহজ হয়েছে। মলিকুলার ডকিং বলতে বোঝায়—একটি ওষুধের অণু শরীরের নির্দিষ্ট প্রোটিন বা এনজাইমের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুমান করা। এটি অনেকটা তালা-চাবির মিল খোঁজার মতো। আগে এই কাজ সময়সাপেক্ষ ছিল, এখন কম্পিউটেশনাল টুল ও এআইয়ের সাহায্যে দ্রুত সম্ভাব্য ফলাফল পাওয়া যায়।

এমনকি গবেষণাগারে রোবটিক সায়েন্টিস্টও এসেছে। যে কাজ করতে আগে ১০ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ সময় লাগত, এখন অনেক ক্ষেত্রে রোবট নিরবচ্ছিন্নভাবে তা করতে পারে। তবে এআই মানুষকে বাদ দেবে—এমন নয়; বরং গবেষককে আরও দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

তরুণ গবেষকদের জন্য প্রস্তুতি: শুধু ভালো রেজাল্ট যথেষ্ট নয়

অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা পিএইচডি করতে চায়। কিন্তু কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, তা অনেকেই জানে না। ড. কাজীর পরামর্শ স্পষ্ট: শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। গবেষণার প্রতি প্রকৃত আগ্রহ থাকতে হবে।

যে শিক্ষার্থী কোনো অধ্যাপকের কাছে পিএইচডির জন্য আবেদন করবে, তার গবেষণার আগ্রহ অবশ্যই ওই অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে মেলাতে হবে। শুধু সাধারণভাবে “আমি গবেষণা করতে চাই” বললে হবে না; কেন ওই ল্যাব, কেন ওই বিষয়, কী ধরনের প্রশ্ন নিয়ে কাজ করতে চায়—এসব বোঝাতে হবে।

তিনি বলেন, অনার্সের শেষ বর্ষে কোনো স্বনামধন্য ল্যাবে ইন্টার্নশিপ বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে তা বড় সুবিধা। পেপার লেখার দক্ষতা বা ছোট হলেও কোনো প্রকাশনা থাকলে তা প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থী গবেষণার প্রাথমিক ধাপগুলো বুঝতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের অনেক কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত গবেষণাগারের সুযোগ সীমিত। কিন্তু ড. কাজীর পরামর্শ হলো, আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা, সহযোগিতা করা এবং নিজ উদ্যোগে লিটারেচার সার্চ শুরু করা। ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বর্ষ গবেষণার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ভালো সময়। তবে আগ্রহ থাকলে তার আগেও পড়াশোনা, পেপার পড়া, গবেষণার ফাঁক খুঁজে দেখা শুরু করা যায়।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়েও তিনি আশাবাদী। তবে আন্তর্জাতিক পড়াশোনার জন্য আইইএলটিএস বা ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের জন্য মেন্টরশিপ ও নেটওয়ার্কিংয়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও সমাজকর্মী

গবেষণার পাশাপাশি ড. মহসিন কাজীর জীবনে রয়েছে সামাজিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি জানান, সৌদি আরবে একাডেমিক জীবন তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যময় হলেও তিনি শুধু গবেষণাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর একটি ফাউন্ডেশন আছে, যার মাধ্যমে তিনি গাজীপুরে একটি মসজিদ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মানুষের কাজে আসার মধ্যে তিনি গভীর প্রশান্তি খুঁজে পান। তাঁর মতে, সময় বের করার বিষয়টি অনেকাংশে মানুষের নিয়তের ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি মন থেকে কোনো ভালো কাজ করতে চায়, তবে আল্লাহ তা সহজ করে দেন।

এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গেও মিলে যায়। বিজ্ঞান তাঁর কাছে শুধু ক্যারিয়ার নয়; এটি মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ব্যবহার করার একটি পথ।

যোগাযোগ, সততা ও বৈশ্বিক মানসিকতা

তরুণদের উদ্দেশে ড. কাজীর বার্তা শুধু গবেষণা শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক তরুণের সমাজের প্রতি দায়িত্ব আছে। শুধু নিজের সাফল্য নয়, নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগকে কীভাবে অন্যদের কাজে লাগানো যায়—সেটিও ভাবতে হবে।

তিনি বিশেষভাবে বলেন, ভালো যোগাযোগ দক্ষতা ও উপস্থাপনা দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে নিজের কাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে জানা জরুরি। এখানে ‘নিজেকে বিক্রি করা’ বলতে আত্মপ্রচার নয়, বরং নিজের দক্ষতা, গবেষণা, ধারণা ও অবদানকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে।

রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যানকে তিনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না। গবেষণা, উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ারের পথে প্রত্যাখ্যান আসবেই। কিন্তু সেটিকে শেখার ধাপ হিসেবে নিতে হবে। তাঁর মতে, সঠিক উদ্দেশ্য, সততা, ধৈর্য ও পরিশ্রম থাকলে তরুণরা সফল হবেই।

বিজ্ঞানী.অর্গ ও তরুণদের সঙ্গে জ্ঞানের সেতুবন্ধন

এই আলাপচারিতায় ড. কাজী বিজ্ঞানী.অর্গের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশি তরুণদের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা সাধারণত ল্যাবরেটরি ও একাডেমিক পরিসরে ব্যস্ত থাকেন; সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তাঁদের কাজ সহজ ভাষায় তুলে ধরার সুযোগ কম। বিজ্ঞানী.অর্গ সেই ব্যবধান কমাতে কাজ করছে।

করাচিতে পড়াশোনা করা বায়োটেকনোলজির শিক্ষার্থী তাহসিন আহমেদ শুপ্তি, কুষ্টিয়ার হাসনা বানু মুমু, কারিগরি সহায়তায় মোহিউদ্দিন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে যুক্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখায়—বাংলাভাষী তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা এখন ভৌগোলিক সীমা মানে না। কেউ বাংলাদেশে, কেউ পাকিস্তানে, কেউ সৌদি আরবে—কিন্তু জ্ঞানের আলোচনায় সবাই একই পরিসরে যুক্ত হতে পারে।

এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তরুণদের শুধু তথ্য দেয় না; তাদের সামনে জীবন্ত রোল মডেল তুলে ধরে। একজন বিজ্ঞানী কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন, ব্যর্থতা সামলান, গবেষণা করেন, সমাজের জন্য কাজ করেন—এসব সরাসরি শুনতে পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

ভবিষ্যতের চিকিৎসা: সবার জন্য একই নয়, সবার জন্য উপযোগী

ড. মহসিন কাজীর গবেষণা আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। একসময় চিকিৎসা ছিল প্রায় একই নিয়মে সবার জন্য একই ওষুধ দেওয়ার মতো। কিন্তু এখন বিজ্ঞান এগোচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার দিকে। প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা, জিনগত গঠন আলাদা, রোগের ধরন আলাদা, ওষুধের প্রতিক্রিয়াও আলাদা। তাই ভবিষ্যতের চিকিৎসা হবে আরও নির্ভুল, আরও ব্যক্তিনির্ভর এবং আরও প্রযুক্তিনির্ভর।

লিপিড ন্যানো পার্টিকেল ওষুধকে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেবে। থ্রিডি প্রিন্টিং রোগীভেদে আলাদা ডোজ তৈরি করবে। এআই নতুন ওষুধ আবিষ্কারে সময় কমাবে। রোবটিক ল্যাব গবেষণাকে দ্রুত করবে। আর পেটেন্ট উদ্ভাবনকে সুরক্ষা দেবে। এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকবে মানুষ—রোগী, চিকিৎসক, গবেষক ও সমাজ।

শেষকথা: এক বিজ্ঞানীর যাত্রা, বহু তরুণের প্রেরণা

অধ্যাপক ড. মহসিন কাজীর জীবন ও কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান শুধু ল্যাবের যন্ত্রপাতি বা গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়। বিজ্ঞান হলো প্রশ্ন করা, পথ খোঁজা, ভুল থেকে শেখা এবং মানুষের কল্যাণে জ্ঞানকে কাজে লাগানো। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া, সেখান থেকে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে তাঁর যাত্রা দেখায়—সঠিক মেন্টরশিপ, অধ্যবসায়, কৌতূহল ও সততা থাকলে একজন গবেষক বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন।

বাংলাদেশি তরুণদের জন্য তাঁর গল্প বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রমাণ করে, সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্বপ্নকে ছোট করতে হয় না। অবকাঠামোর অভাব থাকতে পারে, সুযোগ কম হতে পারে, রিজেকশন আসতে পারে; কিন্তু জ্ঞানপিপাসা, ধৈর্য, যোগাযোগ দক্ষতা এবং গবেষণার প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে পথ তৈরি হয়।

ড. কাজীর গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসাকে আরও মানবিক, নির্ভুল ও কার্যকর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আর তাঁর পরামর্শ তরুণদের মনে করিয়ে দেয়—নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্বও ভুলে গেলে চলবে না।

বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী যখন বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তখন ড. মহসিন কাজীর মতো গবেষকদের যাত্রা তাদের সামনে এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। এই গল্প শুধু একজন বিজ্ঞানীর নয়; এটি সম্ভাবনাময় এক প্রজন্মের জন্য আহ্বান—বিজ্ঞানকে ভালোবাসো, প্রশ্ন করতে শেখো, ব্যর্থতাকে ভয় পেও না, আর জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করো।

📌 Contact Info

📧 ইমেইল: [email protected]
🎓 গুগল স্কলার: https://scholar.google.com/scholar?q=Mohsin+Kazi
📚 SciProfiles Publications: https://sciprofiles.com/user/publications/594050

ড. মহসিন কাজীর সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি ইউটিউবে নিম্নের লিংক এ দেখুন: 👇👇👇

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org