অন্তর্দৃষ্টি আলাপনউচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ

ভুল করেও শেখা যায়: বিদেশে পড়াশোনার প্রথম ধাক্কা ও মানিয়ে নেওয়ার গল্প

Share
Share

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর মনেই থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ সব সময় রঙিন হয় না। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা—এই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পথটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কাঁটায় ভরা। ড. কাজী হোসেনের অভিজ্ঞতা দেখায়, বিদেশে পড়াশোনার শুরুতে যে ধাক্কা লাগে, সেটিই শেষ পর্যন্ত শেখার শক্ত ভিত গড়ে দেয়।

কানাডায় পৌঁছে প্রথম যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়, তা হলো সাংস্কৃতিক পার্থক্য। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করছে, শিক্ষকের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে শিক্ষককে প্রশ্ন করা অনেক সময় অসম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে এই উন্মুক্ত পরিবেশ তাকে প্রথমে দ্বিধায় ফেলে দেয়। তিনি নিজেও শুরুতে প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করতেন। পরে বুঝতে পারেন, এই প্রশ্ন-আলোচনাই শেখার মূল চালিকাশক্তি।

ভাষাগত চ্যালেঞ্জও ছিল বড় বাধা। ইংরেজিতে সাবলীল হলেও একাডেমিক আলোচনার গতির সঙ্গে তাল মেলানো সহজ ছিল না। কখনো কখনো ক্লাসে আলোচনার পুরোটা ধরতে না পারায় হতাশা কাজ করত। তবে ধীরে ধীরে নোট নেওয়া, সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং শিক্ষকের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে তিনি এই বাধা কাটিয়ে ওঠেন। ড. কাজী হোসেনের মতে, এই ধাক্কাগুলোই তাকে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে।

বিদেশে পড়াশোনার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আত্মবিশ্বাসের সংকট। নতুন পরিবেশে নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। “আমি কি পারব?”—এই প্রশ্ন অনেক সময় শিক্ষার্থীর মনকে দুর্বল করে দেয়। ড. কাজী হোসেন বলেন, শুরুতে তিনিও এই সংকটে ভুগেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে ছোট ছোট সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। একটি ভালো অ্যাসাইনমেন্ট, একটি সফল প্রেজেন্টেশন—এই অর্জনগুলো তাকে সামনে এগোতে সাহস জুগিয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছেন—ভুল মানেই ব্যর্থতা নয়। বরং ভুল মানে শেখার সুযোগ। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে ভুল হবেই; কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারলে পথ সহজ হয়। বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভুলকে শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে নিজের প্রতি সহনশীল হতে শিখিয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. কাজী হোসেনের বার্তা, বিদেশে পড়াশোনার শুরুতে ধাক্কা লাগবে—এটা স্বাভাবিক। এই ধাক্কাকে ভয় না পেয়ে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ধৈর্য ধরে নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে বিদেশের অভিজ্ঞতা শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত বিকাশের পথও খুলে দেয়।

এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. কাজী হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles