biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, পরিবেশ রক্ষার জন্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বায়োপ্লাস্টিক বা বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণই সবচেয়ে সহজ সমাধান। কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বায়োডিগ্রেডেবল বা হোম-কম্পোস্টেবল উপকরণ তৈরি করা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব। এমন উপকরণ আছে, যেগুলো ব্যবহারের পর মাটিতে ফেললে ধীরে ধীরে ভেঙে যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন একটি উপকরণ থেকে একসঙ্গে অনেকগুলো গুণাগুণ প্রত্যাশা করা হয়। বাস্তব জীবনের পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে শুধু পরিবেশবান্ধব হলেই চলে না; সেই উপকরণকে টেকসই হতে হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় বা শক্ত হতে হয়, খাবারের সংস্পর্শে এলে নিরাপদ হতে হয় এবং তাপ সহ্য করার ক্ষমতাও থাকতে হয়।
ড. সাগর হোসেনের ভাষায়, একটি উপকরণকে একই সঙ্গে নমনীয়তা, শক্তি, নিরাপত্তা ও তাপ সহনশীলতার মতো একাধিক বৈশিষ্ট্য দিতে গেলে প্রায়ই তাকে পরিবর্তন বা মডিফাই করতে হয়। কিন্তু এই মডিফিকেশনের ফলে অনেক সময় সেই উপকরণের বায়োডিগ্রেডেবল বৈশিষ্ট্য কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব উপকরণ তৈরি করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো—একটি উপকরণের মধ্যে একসঙ্গে অনেকগুলো কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, কিছু বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক আছে, যেগুলো নির্দিষ্ট পরিবেশে ভেঙে যায়। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য উপকরণ হিসেবে এগুলোকে গ্রহণযোগ্য করতে গেলে নানা ধরনের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যোগ করার প্রয়োজন হয়। আর তখনই মূল সমস্যাটি তৈরি হয়। উপকরণ যত বেশি কার্যকর ও বহুমুখী করতে চাওয়া হয়, তত বেশি তার প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই বাস্তবতার কারণে বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক এখনো পুরোপুরি সাধারণ প্লাস্টিকের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। ড. সাগর হোসেনের কথায়, গবেষণা ধীরে ধীরে এই দিকেই এগোচ্ছে—কীভাবে এমন উপকরণ তৈরি করা যায়, যা একদিকে পরিবেশবান্ধব হবে, অন্যদিকে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় গুণাগুণও ধরে রাখতে পারবে। তবে এই পথে পৌঁছাতে সময় লাগবে।
biggani.org–এ দেওয়া তাঁর বক্তব্য আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান শুধু নতুন উপকরণ বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বৈজ্ঞানিকভাবে এমন ভারসাম্য তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—যেখানে একটি উপকরণ পরিবেশের জন্য নিরাপদও হবে, আবার বাস্তব জীবনের ব্যবহারেও কার্যকর থাকবে।
এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Leave a comment