বাংলাদেশের কৃষি নিয়ে আমাদের আলোচনা প্রায়ই শহরের ড্রয়িংরুমে সীমাবদ্ধ থাকে। খবরের কাগজে কৃষকের দুর্দশার ছবি দেখি, টেলিভিশনে বন্যা বা খরার খবর শুনি, সামাজিক মাধ্যমে দু-একটি আবেগী পোস্ট দিই—এই পর্যন্তই আমাদের অনেকের সংযোগ শেষ। কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী মনে করেন, গ্রামে না গিয়ে কৃষির বাস্তব সংকট বোঝা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, কৃষির সমস্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এগুলো মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বাস্তবতা।
মাঠের অভিজ্ঞতা না থাকলে নীতি কাগজেই থেকে যায়
ড. আবেদ চৌধুরীর মতে, শহরে বসে কৃষি নিয়ে নীতিমালা বানালে অনেক সময় সেই নীতি মাঠে কার্যকর হয় না। কারণ গ্রামে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে কথা না বললে বোঝা যায় না—বীজের অভাব কীভাবে ফসলের ফলন কমায়, বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকের পরিবার কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিংবা বন্যা-খরার সময় একটি পরিবার কীভাবে টিকে থাকার লড়াই চালায়। এই অভিজ্ঞতাগুলো নীতিনির্ধারণে যুক্ত না হলে পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।
শহুরে শিক্ষিত শ্রেণির মানসিক দূরত্ব
ড. আবেদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষিত ও সচ্ছল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে গ্রামের জীবনের মানসিক দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। শহরের মানুষ কৃষিকে প্রায়ই ‘ওদের সমস্যা’ হিসেবে দেখে। এই মানসিকতা কৃষিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় পিছিয়ে দেয়। অথচ দেশের খাদ্য উৎপাদনের পুরো দায়িত্বই বহন করে এই গ্রাম ও কৃষকসমাজ।
তরুণদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন
ড. আবেদ চৌধুরী বিশেষভাবে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান—গ্রামে গিয়ে প্রকৃতিকে দেখো, কৃষকের সঙ্গে কথা বলো। এই অভিজ্ঞতা কেবল মানবিক সংবেদনশীলতা বাড়ায় না, ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সংযুক্ত করে। যারা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা বা বিজ্ঞানী হবে, তাদের জন্য মাঠের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠশালা হতে পারে।
শেষকথা
“গ্রামে না গেলে কৃষির সংকট বোঝা যায় না”—এই কথাটি আমাদের শহুরে জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে এসে বাস্তব বাংলাদেশকে দেখার আহ্বান। কৃষিকে বোঝা মানে দেশের মানুষকে বোঝা। এই বোঝাপড়া ছাড়া কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা অনেক সময়ই কাগজের গণ্ডি পেরোতে পারে না।
ড. আবেদ চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:

Leave a comment