চিকিৎসা বিদ্যাস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

সংকটের মুহূর্তে গবেষণার ভূমিকা: মাস্ক জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতির পেছনের বিজ্ঞান

Share
Share

biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেই সময় বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসামগ্রী, বিশেষ করে সার্জিক্যাল মাস্কের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশেও পর্যাপ্ত মাস্ক পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। এই সংকটের ভেতর থেকেই একটি গবেষণা উদ্যোগ গড়ে ওঠে, যেখানে ড. সাগর হোসেনও যুক্ত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মহামারির শুরুতে সার্জিক্যাল মাস্ক মূলত একবার ব্যবহারযোগ্য হিসেবেই ধরা হতো। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল, মাস্ক একবার ব্যবহারের পরেও দেখতে ঠিকঠাক থাকে। প্রশ্ন উঠেছিল—বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ উপায়ে এই মাস্কগুলো কি একাধিকবার ব্যবহার করা সম্ভব? তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন জায়গায় পুনঃব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বললেও, সেই সময় পর্যন্ত বিষয়টির পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছিল না। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই গবেষণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ড. সাগর হোসেনের বর্ণনায় জানা যায়, এই গবেষণায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ ছিল। লক্ষ্য ছিল ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্ককে কীভাবে জীবাণুমুক্ত করা যায় এবং জীবাণুমুক্ত করার পর মাস্কটির উপাদানগত গুণাগুণ ঠিক থাকে কি না, তা পরীক্ষা করা। তিনি বলেন, প্রথম ধাপ ছিল নিশ্চিত হওয়া যে মাস্কের ওপর থাকা জীবাণু বা অণুজীব ধ্বংস করা যাচ্ছে। এরপর দেখা দরকার ছিল, এই প্রক্রিয়ায় মাস্কের উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না—অর্থাৎ মাস্কটি আবার ব্যবহারযোগ্য থাকছে কি না।

সাক্ষাৎকারে তিনি যে পদ্ধতির কথা বলেন, তা ছিল ঘরোয়া পরিবেশে প্রয়োগযোগ্য। ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্ক নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে গরম করার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করার একটি প্রোটোকল তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন মাস্কের ওপর থাকা ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস করা সম্ভব হয়, অন্যদিকে উপাদান বিজ্ঞানীদের দায়িত্ব ছিল নিশ্চিত করা যে এই উত্তাপে মাস্কের ভেতরের উপাদানগত গঠন অতিরিক্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

ড. সাগর হোসেন বলেন, এই গবেষণার একটি বড় দিক ছিল বাস্তব প্রয়োগ। গবেষণাগারের ফলাফল দ্রুত হাসপাতালে কাজে লাগানো হয়েছিল, যাতে সংকটের সময়ে সীমিত সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। মহামারির শুরুতে তিনি নিজেকে কিছুটা অসহায় মনে করছিলেন, কারণ প্রত্যক্ষভাবে কোভিড মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারছিলেন না। এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তিনি অনুভব করেন যে গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব সংকটে কিছুটা হলেও অবদান রাখা সম্ভব।

এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একটি বড় বিষয় স্পষ্ট হয়—বিজ্ঞান সব সময় কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকে না। সংকটের মুহূর্তে গবেষণার ফল দ্রুত বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা গেলে তা মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। biggani.org–এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের এই অভিজ্ঞতা মহামারির সময় বিজ্ঞানীর ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

(এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।)

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: ড. মশিউর রহমান

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org