উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগগবেষণার প্রথম পদক্ষেপ

অনেকে বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে নেয়, প্যাশন হিসেবে নয়” — ড. আবুল হুস্সাম

Share
Share

আজকের বাংলাদেশে বিজ্ঞান পড়া অনেক শিক্ষার্থীর কাছে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ভালো রেজাল্ট করলে প্রকৌশল বা মেডিকেলে সুযোগ মিলবে, বিদেশে পড়ার দরজা খুলবে, কিংবা একটি সম্মানজনক চাকরি পাওয়া যাবে—এই হিসাব-নিকাশ থেকেই অনেকে বিজ্ঞানকে বেছে নেয়। কিন্তু ড. আবুল হুস্সামের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তাঁর কথায়, “অনেকে বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে নেয়, প্যাশন হিসেবে নয়।” এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের বিজ্ঞানশিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা।

বিজ্ঞানকে কেবল পেশার সিঁড়ি হিসেবে দেখার ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় ভালো ফল করলেও প্রকৃত গবেষণায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা, কোচিংনির্ভর প্রস্তুতি এবং পরীক্ষামুখী মূল্যায়নের কারণে বিজ্ঞান অনেক সময় হয়ে ওঠে নম্বর তোলার একটি মাধ্যম। অথচ বিজ্ঞানচর্চার মূল চালিকাশক্তি হওয়া উচিত কৌতূহল—কেন এমন হলো, কীভাবে হলো, আর হলে কী হতে পারে। এই প্রশ্নগুলো না থাকলে বিজ্ঞানচর্চা ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ে।

ড. হুস্সামের জীবন এই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত একটি উদাহরণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ অনুভব করেছেন—নিজের হাতে কিছু বানানোর আনন্দ, যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কৌতূহলই তাঁকে বিজ্ঞানী হওয়ার পথে নিয়ে গেছে। তাঁর কাছে বিজ্ঞান কখনোই শুধু একটি চাকরির রাস্তা ছিল না; বরং এটি ছিল ভাবার, তৈরি করার এবং সমাজের সমস্যার সমাধান খোঁজার একটি উপায়। এই প্যাশনই তাঁকে আর্সেনিক দূষণের মতো জটিল সমস্যার সমাধানে নামতে অনুপ্রাণিত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—আমি কি বিজ্ঞান পড়ছি শুধুই ক্যারিয়ার বানানোর জন্য, নাকি সত্যিই জানতে ও তৈরি করতে ভালোবাসি? যদি উত্তর হয় প্রথমটি, তাহলে হয়তো ভালো চাকরি পাওয়া যাবে, কিন্তু সমাজের বড় সমস্যাগুলোর সমাধানে ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। আর যদি উত্তর হয় দ্বিতীয়টি, তাহলে বিজ্ঞান হয়ে উঠতে পারে সমাজ বদলের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণাভিত্তিক শেখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। ল্যাবরেটরির সীমাবদ্ধতা, প্রকল্পভিত্তিক কাজের অভাব এবং ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে না দেখা—এই সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্যাশন গড়ে ওঠার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। ড. হুস্সামের অভিজ্ঞতা দেখায়, বিজ্ঞানচর্চায় ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়; বরং ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই নতুন ধারণার জন্ম হয়। এই মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলেই বিজ্ঞানকে পেশা নয়, প্যাশন হিসেবে নেওয়া সম্ভব।

ড. হুস্সামের উক্তিটি তাই কেবল একটি মন্তব্য নয়; এটি আমাদের বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণা সংস্কৃতি নিয়ে ভাবার একটি আহ্বান। যদি আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু ভালো রেজাল্টই করবে না, বরং নতুন কিছু তৈরি করবে, তবে বিজ্ঞানকে ভালোবাসার সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই হবে।

ড. আবুল হুস্সাম এর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:


আপনি চাইলে আমি এই পাঁচটি লেখা নিয়ে একটি “ড. আবুল হুস্সাম: কোট থেকে শিক্ষা” সিরিজ প্যাকেজ বানিয়ে দিতে পারি—

যেখানে থাকবে:

  • প্রতিটি লেখার সংক্ষিপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন
  • ফেসবুক/লিঙ্কডইন পোস্ট
  • কভার টেক্সট/হেডলাইন ডিজাইনের আইডিয়া
Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: ড. মশিউর রহমান

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org