উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ

“বাইপাস নয়, প্রস্তুতি”—GRE/IELTS ও দক্ষতা গঠনে ড. জুবায়ের শামীমের সতর্কবার্তা

Share
Share

“GRE বা IELTS-কে এড়িয়ে গেলে সুযোগ সীমিত হয়; প্রকৃত সুযোগ পেতে হলে প্রস্তুতির পথে বাঁধানো যাবে।”

ড. জুবায়ের শামীমের এই কথাটি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থীর একটি সাধারণ প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে। বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, কিন্তু প্রস্তুতির সময় অনেকেই এমন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রাম খোঁজেন যেখানে GRE বা IELTS-এর মতো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। এই মানসিকতাকে তিনি ‘বাইপাস মেন্টালিটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন—যেখানে মূল প্রস্তুতির পথ এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তা খোঁজার প্রবণতা কাজ করে।

বাস্তবে, এই ধরনের সংক্ষিপ্ত রাস্তা অনেক সময় সুযোগকে সংকুচিত করে দেয়। GRE বা IELTS কেবল একটি পরীক্ষার নাম নয়; এগুলো একদিকে ভাষাগত দক্ষতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার মানদণ্ড, অন্যদিকে নিজের প্রস্তুতির পরিমাপ। ড. জুবায়ের শামীম বলেন, এই পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফল করলে শিক্ষার্থীর নিজের মধ্যেই একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়—সে বুঝতে পারে যে আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক পরিবেশে কাজ করার মতো প্রস্তুতি তার আছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সুপারভাইজার বা ভর্তি কমিটিও শিক্ষার্থীর এই সক্ষমতাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থীরই প্রস্তুতির সুযোগ সীমিত। ভালো কোচিং সেন্টার পাওয়া কঠিন, সময়ের চাপ থাকে, আর্থিক সীমাবদ্ধতাও থাকে। কিন্তু ড. জুবায়ের শামীমের বক্তব্য হলো—এই সীমাবদ্ধতাগুলো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে ধীরে ধীরে প্রস্তুতির পথ তৈরি করতে হবে। আজকের দিনে অনলাইনে অসংখ্য ফ্রি রিসোর্স আছে—মক টেস্ট, ইউটিউব লেকচার, ওপেন কোর্সওয়্যার। পরিকল্পিতভাবে সময় দিলে GRE বা IELTS-এর মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

শুধু পরীক্ষাই নয়—তিনি জোর দেন দক্ষতা গঠনের ওপরও। বিদেশি প্রফেসররা যখন গবেষণা সহকারী বা পিএইচডি শিক্ষার্থী বাছাই করেন, তখন তারা কেবল নম্বর নয়—দেখেন আবেদনকারীর কী ধরনের স্কিল আছে। সফটওয়্যার ব্যবহার জানা, ডেটা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা, ল্যাবের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজের অভ্যাস, বা তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা—এসবই একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইলকে শক্তিশালী করে। GRE/IELTS প্রস্তুতির প্রক্রিয়াও পরোক্ষভাবে এই দক্ষতাগুলো গড়ে তুলতে সাহায্য করে, কারণ এতে নিয়মিত পড়াশোনা, সময় ব্যবস্থাপনা ও আত্মশৃঙ্খলার অভ্যাস তৈরি হয়।

ড. জুবায়ের শামীম আরও একটি বাস্তব দিক তুলে ধরেন—GRE বা IELTS ছাড়াই ভর্তি হওয়া সম্ভব এমন কিছু প্রোগ্রাম থাকলেও, সেগুলোতে প্রতিযোগিতা সীমিত নয়। বরং সুযোগের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়। ফলে বাইপাসের চেষ্টা অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। প্রস্তুতির পথ যত কঠিনই হোক, সেটিই শেষ পর্যন্ত বেশি দরজা খুলে দেয়।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই বার্তাটি তাই একটি সতর্কতা এবং একই সঙ্গে অনুপ্রেরণা। বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে প্রস্তুতি কোনো আনুষ্ঠানিক বাধা নয়; এটি নিজের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি ধাপ। GRE বা IELTS-এর মতো পরীক্ষাকে ভয় না পেয়ে এগুলোকে নিজের দুর্বলতা ও শক্তি বোঝার সুযোগ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। এই প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য নিজেকে তৈরি করে।

ড. জুবায়ের শামীমের কথায় স্পষ্ট—সুযোগ পেতে হলে সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়, বরং প্রস্তুতির পথেই হাঁটতে হবে। এই পথ সময় নেয়, পরিশ্রম নেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পথই একজন শিক্ষার্থীকে বৃহত্তর সুযোগের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

🔗 মূল সাক্ষাৎকার পড়ুন:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: ড. মশিউর রহমান

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org