biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডে গবেষণা করার অভিজ্ঞতার তুলনামূলক বর্ণনা দেন। তাঁর কথায়, দুই দেশের গবেষণা পরিবেশ ও কাঠামোতে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা একজন গবেষকের কাজের ধরণ, গবেষণার গতি এবং বাস্তব প্রয়োগের সুযোগকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোরিয়ায় গবেষণা সাধারণত একটি সমন্বিত কাঠামোর ভেতর দিয়ে এগোয়, যেখানে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়—এই তিন পক্ষ একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। শিল্পখাত থেকে নির্দিষ্ট সমস্যার প্রস্তাব আসে, বিশ্ববিদ্যালয় সেই সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে দেখে, আর সরকার এই দুই পক্ষের মধ্যে সময়সীমা ও প্রত্যাশা নিয়ে সমন্বয় করে। ফলে গবেষণার লক্ষ্য অনেক সময় শুরু থেকেই নির্দিষ্ট থাকে এবং তার বাস্তব প্রয়োগের দিকটি আগেভাগেই ভাবা হয়।
ড. সাগর হোসেনের বর্ণনায়, এই কাঠামোর একটি ফল হলো গবেষণার গতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত হওয়া। শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা এগোনোর কারণে সময়সীমা চাপ তৈরি করে, এবং গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি বা কারিগরি সমস্যার সমাধানও তুলনামূলক দ্রুত হয়ে যায়। তবে একই সঙ্গে শিল্পের চাহিদার কারণে গবেষণার ওপর নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের চাপও থাকে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। সেখানে গবেষণা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। গবেষক নিজেই গবেষণার প্রশ্ন নির্ধারণ করেন, কোন পথে এগোবেন তা নিজেই ঠিক করেন। শিল্পখাতের সরাসরি চাপ তুলনামূলক কম থাকে। এর ফলে গবেষণার বিষয় বাছাইয়ে স্বাধীনতা বেশি, কিন্তু একই সঙ্গে গবেষণার গতি ও বাস্তব প্রয়োগের প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়ে পড়ে। যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো বিষয়েও সময় বেশি লাগে।
এই দুই অভিজ্ঞতার তুলনা টেনে ড. সাগর হোসেন দেখান, গবেষণার সংস্কৃতি কেবল গবেষণার ফলের ওপর নয়, গবেষকের মানসিকতা ও কাজের ধরনকেও প্রভাবিত করে। একদিকে কোরিয়ার মডেলে গবেষণা দ্রুত বাস্তব প্রয়োগের দিকে এগোয়, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের মডেলে গবেষকের স্বাধীন চিন্তাভাবনার সুযোগ বেশি থাকে। কোনটি ভালো বা খারাপ—এই প্রশ্নের একক উত্তর নেই। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একটি দেশের গবেষণা ব্যবস্থায় শিল্পখাতের সঙ্গে যোগাযোগ ও গবেষকের স্বাধীনতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি।
এই আলোচনার বিস্তারিত জানতে পাঠকরা biggani.org–এ প্রকাশিত ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন।:

Leave a comment