ডিজিটাল যুগে উদ্যোক্তা হওয়া আর শুধু স্বপ্ন নয়; সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং কিছুটা মনোবল থাকলে আজকের তরুণরা নিজেরাই তৈরি করতে পারে নতুন সম্ভাবনার জগৎ। ঠিক এমন সময়েই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নেস্লে চালু করেছে Nestlé Youth Entrepreneurship Platform (YEP) Academy—একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণরা উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি, নেতৃত্বগুণ এবং ফুডটেক উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
কেন নেস্লে YEP Academy আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সার্টিফিকেশনের অভাবে অনেকেই নিজেদের আইডিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। YEP Academy ঠিক এই সমস্যাটি সমাধান করছে। এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি পাবেন—
- আইডিয়া জেনারেশন সার্টিফিকেট: একটি আইডিয়া কীভাবে সুযোগে রূপান্তরিত হয়, কীভাবে ব্যবসার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়—এসবের উপর ভিত্তি করে গঠিত একটি প্রাথমিক কোর্স।
- সলিউশন ক্রিয়েশন সার্টিফিকেট: বাস্তব সমস্যার গভীরে গিয়ে তার সমাধান বের করা, গ্রাহক যাচাই, প্রোটোটাইপ তৈরি—এই ধাপগুলো শেখানো হয়।
- সাকসেসফুল আন্ত্রেপ্রেনিউর সার্টিফিকেট: নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ, এবং উদ্যোক্তার মানসিক শক্তি তৈরির উপর বিশেষ কোর্স।
- YEP Talks ও FoodTech Certificate: নেস্লে বিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের সরাসরি সেমিনার ও ওয়েবিনার—যা সাধারণত বাণিজ্যিক প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও সহজে পাওয়া যায় না।
সবচেয়ে বড় সুবিধা—এই সকল কোর্স সম্পন্ন করার পর আপনি পাবেন আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট, যা আপনি আপনার সিভি, লিংকডইন প্রোফাইল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়/স্কলারশিপ আবেদনেও যোগ করতে পারবেন।
বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য এর সুফল
বাংলাদেশে উদ্যোক্তা তৈরি এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, এডটেক, পরিবেশ—সব ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সাহসী উদ্যোগ দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। YEP Academy-এর মাধ্যমে আমাদের তরুণরা যেসব সুবিধা পাবেন—
১. বিশ্বমানের প্রশিক্ষণে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার
যে জ্ঞান বা সার্টিফিকেট পেতে সাধারণত হাজার টাকা খরচ হয়, তা এখানে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনামূল্যে শেখা যায়।
২. আন্ত্রেপ্রেনিউরশিপে শক্ত ভিত্তি তৈরি
কেবল ব্যবসা শুরু করাই নয়, বরং সমস্যা চিহ্নিত করা, সমাধান যাচাই, গ্রাহকের আচরণ বোঝা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখার সুযোগ থাকে।
৩. ক্যারিয়ার উন্নয়নে সরাসরি সুবিধা
কোর্স শেষ করলে আপনি YEP Talent Pool-এ যুক্ত হতে পারবেন, যেখানে আপনার সিভি নেস্লের গ্লোবাল HR টিম পর্যালোচনা করতে পারে—একটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দরজা খুলে যায়।
৪. ফুডটেক ও নতুন উদ্ভাবনের জগতে প্রবেশ
বাংলাদেশে ফুডটেক বা খাদ্যউদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্র এখনো খুব গবেষণাধর্মী। নেস্লের বিজ্ঞানীদের সেমিনার থেকে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগগুলো জানা যায়।
৫. ভলান্টিয়ার কাজ, বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন বা স্কলারশিপে বাড়তি সুবিধা
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন দেখে আপনি ক্লাসের বাইরে কী শিখেছেন। এই কোর্সগুলো আপনার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করবে।
বিজ্ঞানী অর্গ-এর পাঠকরা কীভাবে উপকৃত হবেন
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্টার্টআপে আগ্রহী তরুণদের জন্য এটা এক অসাধারণ সুযোগ। আমাদের পাঠক যারা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন কিংবা প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প শুরু করতে চান—তাদের জন্য YEP Academy একটি গাইডলাইন এবং শেখার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
এখানে শেখানো বিষয়গুলো শুধু ব্যবসা শুরু করতেই সাহায্য করবে না, বরং গবেষণা, ডিজিটাল প্রোডাক্ট ডিজাইন, উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার দক্ষতাও উন্নত করবে। দেশের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় বা ল্যাবে আবেদন করার সময়ও এই সার্টিফিকেটগুলো আপনাকে একটি যোগ্য এবং প্রস্তুত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করবে।
কীভাবে শুরু করবেন?
খুব সহজ।
১. এই লিংকে যান: https://www.nestleyouthentrepreneurship.com/academy
২. একটি বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
৩. যেকোনো কোর্সে নাম লিখিয়ে শেখা শুরু করুন।
নেস্লে YEP Academy তরুণদের জন্য কেবল একটি শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম নয়, বরং ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা তৈরির একটি আন্দোলন। বাংলাদেশি তরুণরা যদি এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে নতুন গবেষণা, নতুন স্টার্টআপ এবং নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হবে।
আপনি যদি একজন ছাত্র, গবেষক, ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা বা উদ্ভাবক হন—আজই শুরু করুন। শেখার এই যাত্রায় বিজ্ঞানী অর্গ সবসময় আপনার পাশে রয়েছে।


Leave a comment