জার্মানির রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ কিংবা ভক্সওয়াগনের মতো বিলাসবহুল গাড়ির আভিজাত্যের ভেতরে যে বাংলাদেশের পাটের ছোঁয়া থাকতে পারে, তা হয়তো অনেক সাধারণ মানুষেরই অজানা। কিন্তু এই অসম্ভবকে বিজ্ঞানের জাদুতে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান, খ্যাতনামা পলিমার বিজ্ঞানী ডক্টর ওমর ফারুক। ২০০৬ সালের ২৪ মে, বিজ্ঞানী অর্গ (biggani.org)-এর ড. মশিউর রহমান সুদূর আমেরিকা থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে ড. ফারুকের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। ৫০ মিনিটের সেই দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে আসে পাটের বহুমুখী সম্ভাবনা এবং এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর বিশ্বজয়ের গল্প।
চট্টগ্রাম থেকে জার্মানি: এক বিজ্ঞানীর দীর্ঘ যাত্রা
ডক্টর ওমর ফারুকের উচ্চশিক্ষার হাতেখড়ি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এমফিল প্রোগ্রামে অংশ নেন এবং সেখানে শিক্ষক সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৯৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাড’ (DAAD) স্কলারশিপ নিয়ে তিনি জার্মানি যান। ২০০২ সালে গবেষণায় অনন্য কৃতিত্বের জন্য তিনি জার্মানিতে ‘তরুণ গবেষক পুরস্কার’ (Young Scientist Award) অর্জন করেন। ২০০৫ সালে জার্মানির কাসেল (Kassel) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ন্যাচারাল ফাইবার অ্যান্ড উড রিইনফোর্সড কম্পোজিটস’ বিষয়ে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ‘ভিজিটিং রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই দীর্ঘ গবেষণা জীবনে ৪৫টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং একটি বইয়ের অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
গাড়ির অঙ্গসজ্জায় পাট ও পরিবেশের সুরক্ষা
ডক্টর ওমর ফারুকের গবেষণার মূল বিষয় হলো ‘বায়ো-ফাইবার’ বা প্রাকৃতিক তন্তু। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে একে বলা যায় এক ধরনের মিশ্র উপাদান বা ‘বায়ো-কম্পোজিট’। যখন প্রাকৃতিক আঁশ (যেমন পাট, কেনাফ, হেম্প, ফ্ল্যাক্স, সিসাল বা কলার আঁশ) কোনো প্লাস্টিকের সাথে মেশানো হয়, তখন সেটি গ্লাস ফাইবারের চেয়েও হালকা এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারের সাথে সংযুক্ত প্রবন্ধে কিছু চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এই আঁশগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী, গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো অবশ্যই রিসাইকেলেবল বা পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। ড. ফারুক প্রমাণ করেছেন যে, এই বায়ো-ফাইবারগুলো গ্লাস ফাইবারের তুলনায় অনেক হালকা, যা গাড়ির ওজন কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করে। অডি, ফোর্ড কিংবা মার্সিডিজের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন পাটের কম্পোজিট ব্যবহার করে গাড়ির ভেতরের দরজা, ড্যাশবোর্ড কিংবা সিট ব্যাক তৈরি করছে। এমনকি বাসের বাইরের অংশেও এখন এর সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে পাটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: কাঠের বিকল্প ও রপ্তানি বাজার
পাটের ব্যবহার কেবল চটের বস্তা বা ব্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ড. ফারুকের মতে, বাংলাদেশে যেহেতু গাড়ির বড় শিল্প নেই, তাই আমাদের উচিত পাট ও প্লাস্টিকের কম্পোজিট দিয়ে উন্নত মানের আসবাবপত্র তৈরি করা। এটি হতে পারে সাধারণ কাঠের এক চমৎকার বিকল্প।
ড. ফারুক জানান, মালয়েশিয়ান কাঠ বা পারটেক্সের তুলনায় পাটের এই কম্পোজিট অনেক বেশি টেকসই। সাধারণ কাঠ যেখানে আর্দ্রতা বা পানির সংস্পর্শে কয়েক বছরেই নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে জুট-প্লাস্টিক কম্পোজিট ১০-১৫ বছরেও একই রকম থাকে। দীর্ঘমেয়াদী মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হিসেবে এটি সেগুন কাঠের চেয়েও সাশ্রয়ী। বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রাকৃতিক আঁশের তৈরি পণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারে, তবে এই বিশাল বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে দেশি পাট রপ্তানির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ন্যানোটেকনোলজি ও মাইক্রো সেলুলার ফমিং: বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত
বর্তমানে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ড. ফারুক কাজ করছেন ‘মাইক্রো সেলুলার ফমিং’ (Microcellular foaming) নিয়ে। সহজ উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, কেক বানানোর সময় যেমন বেকিং পাউডার দিলে সেটি ফুলে ওঠে এবং ওজন কমিয়ে দেয়, প্লাস্টিকের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনিভাবে ওজন কমানোর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন ‘ন্যানোটেকনোলজি’ নিয়ে, যেখানে অতি ক্ষুদ্র ন্যানো কণা ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ‘ন্যানো-কম্পোজিট’। যারা পাট নিয়ে নতুন কোনো বাণিজ্যিক সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য ড. ফারুকের এই গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো অত্যন্ত মূল্যবান।
আগামীর বিজ্ঞানীদের জন্য সহায়তার হাত
ডক্টর ওমর ফারুক কেবল একজন গবেষকই নন, বরং তিনি বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষার পথে একজন পথপ্রদর্শক। যারা বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ভাষাগত দক্ষতা: বিদেশে গবেষণার জন্য ইংরেজি ভাষায় ভালো দখল থাকা অপরিহার্য।
২. রিপোর্ট রাইটিং: নিজে থেকে গবেষণার প্রস্তাবনা বা ‘রিসার্চ প্রপোজাল’ লেখার সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. দলগত কাজ: ল্যাবরেটরিতে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা বা ‘টিম ওয়ার্ক’ থাকা প্রয়োজন।
ড. ফারুক ঘোষণা করেছেন যে, যদি কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পলিমার সায়েন্স বা বায়ো-ফাইবার নিয়ে উচ্চতর গবেষণায় আগ্রহী হন, তবে তিনি তাদের প্রসেসর খুঁজে পেতে বা আবেদনের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করবেন।
উপসংহার
ডক্টর ওমর ফারুকের মতো বিজ্ঞানীদের হাত ধরেই বাংলাদেশের সোনালি আঁশ আজ বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরিচয়ে উদ্ভাসিত। ২০০৬ সালের সেই সাক্ষাৎকারটি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মেধা আর পরিশ্রম থাকলে বিশ্বজয়ী হওয়া সম্ভব। তাঁর এই দীর্ঘ পদযাত্রা কেবল একজন বিজ্ঞানীর সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অফুরন্ত প্রেরণা। আমরা ডক্টর ওমর ফারুকের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। তাঁর হাত ধরে বিজ্ঞানের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে আরও গৌরবান্বিত হোক—এই আমাদের প্রত্যাশা।
সাক্ষাৎকারটি ২৪ মে ২০০৬ এ টেলিফোনে অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন বিজ্ঞানী অর্গ এর ড. মশিউর রহমান।
সম্পুর্ণ সাক্ষাৎকারটি ইউটিউবের নিম্নের লিংকে শুনুন।
https://youtu.be/Cc2tyMBjqJ8

আমার দেশের বাড়ি পাবনা এখানে ভাল নিট হয় যেমন টি শার্ট, পল শার্ট ইত্তাদি আপনি চাইলে আমার সংজ্ঞে যগাযগ করুন । কলা, নারিকেল এর আশ দরকার হলে বলেন রপ্তানি করতে চাই…
I am working with enzymatic treatment of jute cotton blend fabric for eco friendly processing in our university lab.
I have a question ,did its (jute fiber) opportunity find in bangladesh specially in Jute Research Institute ? Or share it with them!
Shamim,
Thanks for your comments and interests. We will contact you if there is any lead.
Shuvarthee,
Shafiul.
Azhar,
Thanks for your comments and interests on eco-friendly enzymatic treatment of jute cotton blend fabric. Feel free to share with our readers your research findings.
Good luck to your research endeavour!
Shuvarthee,
Shafiul
Salma,
Thanks for your comments and interests in jute fiber and its prospective applications. Aapnar prosnota thhik bujhte parini? Asha kori prosnota bujhte sahajjyo korben.
Shuvarthee,
Shafiul
Bangladesh Jute Research Institute বিষয়টি অবগত আছে কি?আপনারা তাদের (BJRI)সাথে আলোচনা করেছেন কি?
Dear Sir
Have a nice day.please note that I want to invest this amount of money in our textile industry in bangladesh but I can’t find any suitable field to invest this.As you know in bangladesh every entreprenuer invested their money in traditional business like garments,dyeing,printing ,spinning etc .
So would you please suggest me where i can invest the money like technical textile or other speciality in a small scale .
wait for your suggestion.please keep it hidden .don’t publish it here.
Thanks
M.M.Hossen khokon