কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাপ্রযুক্তি বিষয়ক খবর

ব্যবসার গবেষণায় নতুন যুগ: AI এখন আপনার রিসার্চ পার্টনার!

Share
Share

গল্পের শুরু: রহিমের অনুসন্ধান


রহিম একজন তরুণ উদ্যোক্তা, যিনি প্রতিদিন নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। ব্যবসার উন্নয়নের জন্য তাকে সারাক্ষণ নানাবিধ গবেষণা করতে হয়—কখনও প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাজার বিশ্লেষণ, কখনও আবার গ্রাহকদের চাহিদার ধরন বুঝতে গিয়ে বিশাল তথ্যভান্ডার খুঁজে দেখতে হয়। এ রকম এক সন্ধ্যায় তিনি শুনলেন Perplexity নামের একটি AI চ্যাটবটের কথা, যার নতুন ফিচার বা টুল “Deep Research” বেশ সাড়া ফেলেছে প্রযুক্তি মহলে। শুধু রহিম নয়, তার আশপাশের পরিচিত অনেকেই বলতে শুরু করল, “Perplexity নাকি এখন এমন সব রিপোর্ট বানাতে পারে যা আগে শুধু বিশেষায়িত দল দিয়েই করা যেত!”

রহিম এর আগে ChatGPT ব্যবহার করেছেন; জানেন, গত মাসেই ChatGPT-এর একটি উন্নত রিসার্চ টুল চালু হয়েছে। আবার শুনেছেন, Google-এর Gemini গত ডিসেম্বরে এ ধরনের টুল নিয়ে এসেছে। কিন্তু নতুন এই “Deep Research” কেমন? কীভাবে কাজ করে? এসব প্রশ্নই রহিমকে তাড়িত করতে লাগল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ব্যস্ততার মধ্যেও এক সন্ধ্যায় সময় বের করে Perplexity.ai ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারবেন এবং পরীক্ষা করে দেখবেন, আদৌ টুলটি তার কাজে কতটা সহায়ক হতে পারে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা: Deep Research টুলের সাথে প্রথম পরিচয়


রহিম প্রায়ই ঘরে বসে ল্যাপটপে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ঘেঁটে দেখেন। সেদিনও তিনি এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি নিয়ে বসলেন। প্রথমেই গেলেন Perplexity.ai ওয়েবসাইটে। দেখলেন, ওখানে চ্যাটবক্সে একটা ড্রপ-ডাউন মেনু আছে, যেখানে লেখা “Deep Research”। রহিম সেই অপশনটি বেছে নিলেন। বাছাই করার পরই দেখতে পেলেন, সেখানে যে-কোনো বিষয়ে সার্চ করার বিকল্প রয়েছে। কিন্তু কেবল সার্চ নয়, Deep Research টুলটি মূলত একটা পরিকল্পিত গবেষণা-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

জানা গেল, যেকোনো প্রশ্ন বা কিওয়ারি দেওয়ার পর টুলটি আগে বিভিন্ন উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, তারপর একটা গবেষণামূলক রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টটি নাকি ২-৪ মিনিটের মধ্যে প্রস্তুত হয়। তার মানে, আগে যেসব বিশ্লেষণ করতে একজন মানুষকে ঘন্টার পর ঘণ্টা, কখনওবা দিনের পর দিন সময় ব্যয় করতে হতো, সেই পুরো কাজ যেন কোনো যাদুমন্ত্রের মতো কয়েক মিনিটেই করা সম্ভব।

রহিমের প্রথম কিওয়ারি: বাজার বিশ্লেষণ


রহিম প্রথমেই একটা সহজ বিষয় দিয়ে পরীক্ষা শুরু করতে চাইলেন: “বাংলাদেশের মোবাইল ফোন মার্কেটের সাম্প্রতিক প্রবণতা” (Recent trends of the mobile phone market in Bangladesh)। তিনি Deep Research অপশনে এই কিওয়ারিটি টাইপ করলেন। তারপর ইনপুট দিলেন। টুলটি সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন উৎস পর্যালোচনা শুরু করল—গবেষণাপত্র, পত্রিকার রিপোর্ট, শিল্প বিশ্লেষকদের ব্লগপোস্ট, এমনকি সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে পাওয়া তথ্যও খুঁজতে লাগল।

প্রায় তিন মিনিটের মধ্যে রহিমের সামনে একটা সুসংগঠিত প্রতিবেদন হাজির হল। তাতে বলা ছিল বিগত পাঁচ বছরে স্মার্টফোনের ব্যবহার কীভাবে বেড়েছে, ঠিক কোন সেগমেন্টের মোবাইল বেশি বিক্রি হচ্ছে, গ্রাহকদের বয়সভেদে ব্যবহারিক প্রবণতা কী রকম, এবং বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী। প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্রও দেয়া ছিল, যাতে রহিম ইচ্ছা করলে মূল উৎসে গিয়ে তথ্য যাচাই করতে পারেন।

তুলনামূলক পর্যালোচনা: ChatGPT ও Google Gemini


রহিম এমনিতে ChatGPT ব্যবহার করেন প্রায়ই। ChatGPT-এরও একটা “Advanced Data Analysis” বা অনুরূপ রিসার্চ টুল আছে, যা গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। Google-এর পক্ষ থেকে ডিসেম্বরে Gemini চালু হওয়ার পর সেটিও একই রকমের সেবা দিচ্ছে। বড় বড় AI প্ল্যাটফর্মগুলো এখন যে দিকে এগোচ্ছে তা হলো, কেবল সাধারণ চ্যাট নয়—বরং গবেষণা, বিশ্লেষণ, এমনকি এক্সপার্ট লেভেলে তথ্যসমৃদ্ধ রিপোর্ট তৈরির মতো কাজ।

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৭৫% ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব AI সল্যুশন তৈরি বা অন্য কোনো AI প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করবে। McKinsey-র এক প্রতিবেদনে বলা আছে, গড়ে ৪০% বড় বড় সংস্থা এখন গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)-এ AI ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ChatGPT, Google Gemini, Perplexity—এরা প্রত্যেকেই এই প্রবণতার অংশ। Perplexity-এর “Deep Research” টুলটি ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট সবারই সাহায্য করতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Perplexity-এর বিশেষত্ব: কেন আলাদা


রহিম লক্ষ্য করলেন, Perplexity Deep Research টুলটি অন্যান্য চ্যাটবটের চেয়ে কিছু দিক থেকে আলাদা। প্রথমত, এটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” বহুসংখ্যক উৎসে যান, তথ্য সংগ্রহ করে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার পরিধি বিস্তৃত বা সংকীর্ণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, রিপোর্ট তৈরির জন্য এটি একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে—উদাহরণস্বরূপ, বাজার বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমে বর্তমান প্রবণতা খুঁজবে, পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ডেটা দেখবে, পরEventually গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করবে। তৃতীয়ত, রিপোর্টটি পাওয়া মাত্র ব্যবহারকারী তা সহজে পিডিএফ বা ডকুমেন্ট আকারে নামিয়ে নিতে পারেন, অথবা শেয়ারেবল #Perplexity পেজে রূপান্তরিত করতে পারেন।

অন্যদিকে, ChatGPT বা Google Gemini প্রায় একই রকম ফলাফল দিলেও, Perplexity-এর ইউজার ইন্টারফেস রহিমের কাছে সহজ এবং রিয়েল-টাইম সোর্স ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা বেশ পরিষ্কার মনে হয়েছে। এ ছাড়া, লোড টাইমও তুলনামূলকভাবে দ্রুত বলে তার ধারণা। তবে Deep Research টুল আপাতত ওয়েব ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি রাখা হয়েছে, কিন্তু আনলিমিটেড কিওয়ারি করতে গেলে Perplexity Pro সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

ব্যবহারিক মূল্য ও সম্ভাবনা


একটি AI টুলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এটি যতটা সময় বাঁচাতে পারে। ধরুন, রহিমকে যদি নিজে হাতে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন বাজার নিয়ে বিশদ গবেষণা করতে হত, তাহলে তাকে প্রথমে সরকারী ওয়েবসাইট, স্থানীয় গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এবং বাজার বিশ্লেষণ সংস্থার রিপোর্ট ঘাঁটতে হত। তারপর সেই তথ্য একত্র করে একটা রিপোর্ট তৈরি করতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারতো। অথচ Deep Research টুল ২-৪ মিনিটে সেই কাজ সেরে ফেলে।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান Gartner-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে AI-ভিত্তিক রিসার্চ টুলগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪০-৬০% পর্যন্ত গবেষণা ও ডেটা বিশ্লেষণ-সংক্রান্ত সময় বাঁচাতে পারে। এ ছাড়া মার্কেটিং ও ফাইনান্সের মতো ক্ষেত্রে, যেখানে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দ্রুত সময়ে ডেটা পাওয়া মানে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত অনেক সহজ ও সঠিক হয়ে ওঠা।

অভিজ্ঞতার গল্প: স্নেহার স্টার্টআপ


রহিমের কলেজের বান্ধবী স্নেহা কিছুদিন আগে একটা অনলাইন স্টার্টআপ শুরু করেছেন—বিভিন্ন হোম ডেকোর পণ্য বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করেন তিনি। বাজেট সীমিত, তাই বড় বড় মার্কেট রিসার্চ কোম্পানির কাছ থেকে বিশদ রিপোর্ট কেনার সামর্থ্য তার নেই। স্টার্টআপের শুরুতেই তাকে বুঝতে হবে, কোন ধরনের পণ্য সবচেয়ে বেশি চলছে, কোন দেশে বা কোন শহরে সেগুলোর চাহিদা বেশি, গ্রাহকদের বয়স-লিঙ্গ-বিত্তভেদে চাহিদার ফারাক কেমন ইত্যাদি।

কয়েকদিন আগে রহিম তাকে জানাল, Perplexity Deep Research ব্যবহার করে দেখো। স্নেহা সেটাই করলেন। “বেস্ট সেলিং হোম ডেকোর প্রোডাক্টস ইন সাউথ এশিয়া” এই কিওয়ারি দিলেন, সাথে যোগ করলেন “অনলাইন ব্যবসায়িক ট্রেন্ড” শব্দগুচ্ছ। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্নেহার সামনে একটা বিস্তারিত বাজার বিশ্লেষণ হাজির হলো—সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য, বিভিন্ন দেশে বিক্রির পরিসংখ্যান, গ্রাহকের গড় বয়স, অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা ইত্যাদি। এমন এক রিপোর্ট পেয়ে স্নেহা রীতিমতো অবাক হয়ে গেলেন, কারণ এর আগে এই ডেটা পেতে গেলে তাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঘুরে ঘুরে প্রায় এক সপ্তাহ সময় ব্যয় করতে হত।

ফ্রি বনাম প্রো সাবস্ক্রিপশন


বর্তমানে Deep Research টুলটি ফ্রি সংস্করণে পরীক্ষা করা যাচ্ছে। যেকোনো ব্যবহারকারী, যারা Perplexity.ai তে লগইন করেন, তারা কয়েকটি কোয়েরি দিতে পারবেন। কিন্তু অনেক বেশি সংখ্যায় সার্চ করতে হলে, বিশেষ করে বড় পরিসরে গবেষণা চালাতে হলে, একসময় “কোয়েরি লিমিট” শেষ হয়ে যেতে পারে। এই পর্যায়ে এসে Pro সাবস্ক্রিপশন কাজে লাগবে।

Perplexity Pro সাবস্ক্রিপশনের অধীনে ব্যবহারকারীরা আনলিমিটেড কিওয়ারির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কিছু এক্সক্লুসিভ ফিচার থাকতে পারে যা ভবিষ্যতে চালু হবে। রহিম ইতোমধ্যে ভাবছেন, তাঁর ব্যবসার স্বার্থে হয়তো Pro-তে আপগ্রেড করা দরকার হবে।

রিপোর্ট সংগ্রহের সুবিধা


Deep Research টুলের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, রিপোর্ট ফাইল আকারে নামিয়ে রাখা যায় অথবা সরাসরি শেয়ারও করা যায়। যদি কোনো টিম মিটিংয়ে মার্কেট ডেটা উপস্থাপন করতে হয়, ব্যবহারকারী সহজে টুলটিতে গিয়ে অনুসন্ধান করবেন, ২-৪ মিনিট সময় নিয়ে একটা প্রস্তুত প্রতিবেদন বানিয়ে ফেলবেন, তারপর পিডিএফ বা ডক আকারে ডাউনলোড করে টিমের অন্য সদস্যদের ইমেল করে দিতে পারবেন।

এতে করে বাজেট এবং সময়—দুটোই বাঁচে। কারণ, একই কাজ করতে আগে হয়তো বিশাল গবেষণাদল লাগত, অথবা প্রথাগত সার্ভে ও তথ্য-সংগ্রহে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হত।

বিশ্বব্যাপী প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ


বিশ্বব্যাপী AI-এর প্রসার এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কর্পোরেট জায়ান্ট সবাই এগুলোর দিকে ঝুঁকছে। IDC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে AI খাতে বিনিয়োগ প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বড় অংশই যাবে বিভিন্ন গবেষণা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স সল্যুশনে।

ChatGPT, Google Gemini, Perplexity-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতে AI কেবল সরল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়—বরং জটিল গবেষণা, বিশ্লেষণ, এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। “Deep Research” টুল যে ধরণের কাজ করছে, তা হয়তো আরও নতুন নতুন পদ্ধতিতে প্রসারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভবিষ্যতে হয়তো একইসাথে ভিডিও বা অডিও ডেটাও বিশ্লেষণ করে এমন রিপোর্ট তৈরি করতে পারবে।

ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ


রহিম নিজে দেখে বুঝলেন, Deep Research টুলটি দরকারি হলেও, এর ফলাফল সার্বিকভাবে নির্ভর করছে অনলাইনে থাকা তথ্যের ওপর। যদি কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকে, তাহলে টুলটি সীমিত ডেটা দিয়েই কাজ করে—ফলে রিপোর্টটি কম প্রামাণ্য হতে পারে। সুতরাং, যেকোনো AI টুল ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারীর নিজস্ব বিচক্ষণতাও জরুরি।

এ ছাড়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত, কারণ AI কখনও কখনও ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যও দেখাতে পারে। Perplexity Deep Research রিপোর্টে সূত্র (উৎস) দেখানোর সুবিধা আছে বলে ব্যবহারকারীর কাছে স্বাধীনতা থাকে; ইচ্ছা করলে তিনি ক্লিক করে মূল উৎস ঘেঁটে দেখতে পারেন।

গল্পের উপসংহার: রহিমের সাফল্য


কয়েক দিনের মধ্যে রহিম দেখলেন, শুধুমাত্র ওই ফ্রি সংস্করণ ব্যবহার করেই তিনি একটা গোছানো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দাঁড় করাতে পেরেছেন। অ্যানালিটিক্স, গ্রাহকের প্রোফাইলিং, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চাহিদা—সবকিছু নিয়ে একটা খসড়া রিপোর্ট তৈরি করেছেন। ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে তিনি সেটি পিডিএফ আকারে উপস্থাপনও করেছেন। ক্লায়েন্টরা দেখে অবাক হয়েছেন যে, রহিম কীভাবে এত অল্প সময়ে এমন বিশদ ও সুশৃঙ্খল তথ্য পেয়েছেন!

যদিও অবশেষে রহিম ভাবছেন, বড় প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার আগে তিনি Perplexity Pro নেবেন, কারণ আনলিমিটেড কিওয়ারি না থাকলে মাঝপথে গিয়ে থেমে যেতে হবে। অন্যদিকে, স্নেহা তার স্টার্টআপের জন্য যতটুকু তথ্য দরকার তা ফ্রি সংস্করণেই পেয়ে যাচ্ছেন আপাতত। তবে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে গেলে তাকেও হয়তো Pro-তে আপগ্রেড করতে হতে পারে।

শেষ কথা


Perplexity-এর “Deep Research” টুল আসলে আজকের AI যুগের আরেকটি উদাহরণ, যা দেখায় কেমনভাবে প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবন আর কাজে গতিশীলতা নিয়ে আসছে। ChatGPT ও Google Gemini-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে Perplexity নিজের জায়গা করে নিচ্ছে এর স্বতন্ত্র গবেষণা ক্ষমতা, তীব্র গতিতে রিপোর্ট তৈরির দক্ষতা, আর ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ ইন্টারফেসের মাধ্যমে।

যারা নিয়মিতভাবে বিশদ তথ্য নিয়ে কাজ করেন, বাজার বিশ্লেষণে ব্যস্ত থাকেন, কিংবা লেখালেখি ও রিসার্চ-ভিত্তিক পেশায় যুক্ত আছেন—তাদের জন্য Deep Research হতে পারে এক আশীর্বাদ। সামনের দিনে এই টুল আরও পরিপূর্ণ হবে, পাবে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য। রহিম ও স্নেহার মতো ব্যবহারকারীরা হয়তো তখন আরো দ্রুততার সঙ্গে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। শেষমেশ, প্রযুক্তির অগ্রগতি—বিশেষত AI—আমাদের সকলের জীবনকে আরো সহজ ও উজ্জ্বল করবে, এটাই তো কাম্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles
Three Columns Layout

গবেষণার তথ্য ও বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে, বিজ্ঞানী.অর্গ নবীন প্রজন্মকে গবেষণার প্রতি অনুপ্রাণিত করে।

Contact

biggani.org❤️gmail.com

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

বিজ্ঞানী অর্গ (biggani.org) বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে গবেষণা ও বিজ্ঞান নিয়ে বাংলা ভাষায় তথ্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার করে – নবীনদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় প্রেরণা দেয়া হয়।

যোগাযোগ:

biggani.org@জিমেইল.com

biggani.org, a community of Bangladeshi scientists, shares interviews and information about researchers and scientists in Bengali to inspire young people in research and higher education.