বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী ধরে নেয়—সিলেবাস শেষ করলেই যথেষ্ট। পরীক্ষায় ভালো ফল করলে ভবিষ্যৎ নিশ্চিন্ত। কিন্তু গবেষণার জগৎ ঠিক উল্টো। এখানে পাঠ্যসূচি কেবল শুরু মাত্র। প্রকৃত শেখাটা শুরু হয় সিলেবাসের বাইরে গিয়ে। ড. বাশার ইমন তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন—“কারিকুলামের বাইরেও অনেক কিছু শিখতে হবে।”
গবেষণা মানে কেবল ক্লাসে শেখানো বিষয় প্রয়োগ করা নয়। গবেষণা মানে অজানাকে জানার চেষ্টা। অনেক সময় দেখা যায়, পাঠ্যবইয়ে যেসব সমস্যা সমাধান করা হয়, সেগুলোর উত্তর আগেই জানা। কিন্তু গবেষণায় এমন প্রশ্ন আসে যার উত্তর কারও জানা নেই। এই জায়গায় শিক্ষার্থীর নিজের উদ্যোগ, আত্মনির্ভর শেখার মানসিকতা এবং কৌতূহলই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
ড. বাশার ইমনের নিজের পথচলায় এই বিষয়টি স্পষ্ট। বুয়েটে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করার সময় তিনি কেবল ক্লাসের পাঠ্যসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। থিসিস করতে গিয়ে গবেষণার স্বাদ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে তাঁকে নতুন নতুন বিষয় শিখতে হয়েছে—জীববিজ্ঞান, বায়োফিজিক্স, মাইক্রোফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি—যেগুলো তাঁর প্রাথমিক বিষয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল না। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় বিষয়ভিত্তিক দেয়াল অনেকটাই ভেঙে গেছে।
আজকের দিনে গবেষণা একটি বহুমাত্রিক ক্ষেত্র। ক্যান্সার গবেষণায় যেমন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, পদার্থবিদ্যা, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান—সব শাখার অবদান দরকার হয়। তাই শিক্ষার্থীদেরও শুরু থেকেই নিজেদের বিষয় ছাড়িয়ে অন্য ক্ষেত্রের মৌলিক ধারণা নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী যদি ডেটা বিশ্লেষণের প্রাথমিক ধারণা রাখেন, তাহলে তাঁর গবেষণার সুযোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।
ড. বাশার ইমন তরুণদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন—নিজের সুযোগ নিজেই তৈরি করতে হবে। দেশে সুযোগ সীমিত হলেও এখন অনলাইনে অসংখ্য ওপেন কোর্স, গবেষণাপত্র ও ল্যাব টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এসব ব্যবহার করে আগ্রহের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের খোঁজ আগেভাগেই শুরু করা জরুরি। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে গিয়ে সুযোগ হাতছাড়া করে।
গবেষণার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধৈর্য। দ্রুত ফল পাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকের মধ্যেই আছে। কিন্তু গবেষণায় ফল আসতে সময় লাগে। একাধিকবার ব্যর্থ হতে হয়। এই ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে নিতে পারলেই একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পরিণত গবেষকে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ড. বাশার ইমনের বার্তা স্পষ্ট—নিজেকে কেবল সনদধারী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ভাবলে চলবে না; নিজেকে ভাবতে হবে একজন অনুসন্ধানী মানুষ হিসেবে। ক্লাসের বাইরের জগতে চোখ খুলে দিতে হবে। নতুন প্রশ্ন করতে হবে, নতুন বিষয় শিখতে হবে। এই মানসিকতা গড়ে উঠলেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও আরও বেশি বিশ্বমানের গবেষক বেরিয়ে আসবে।
🔗 পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার পড়ুন:

Leave a comment