গবেষণার জগতে অনেক সময় একটি কাজ শুরু হয় নির্দিষ্ট একটি সমস্যাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু গভীরভাবে এগোতে থাকলে দেখা যায়—সেই গবেষণার ফলাফল কেবল একটি সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে। ড. বাশার ইমনের গবেষণার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটছে। ক্যান্সার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি যে প্রযুক্তি ও ধারণাগুলো তৈরি করেছেন, সেগুলো ভবিষ্যতে কেবল ক্যান্সার চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ড. ইমন বলেন, তাঁর উদ্ভাবিত সেন্সর ও গবেষণা পদ্ধতি সুস্থ টিস্যু কীভাবে কাজ করে তা বোঝার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। আমাদের শরীরের প্রতিটি টিস্যু নির্দিষ্ট যান্ত্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। পেশি, হাড় বা ত্বকের কোষ—প্রতিটির জন্য আলাদা ধরনের নরম বা শক্ত পরিবেশ দরকার। এই যান্ত্রিক পরিবেশে সামান্য পরিবর্তন ঘটলেই কোষের আচরণ বদলে যায়। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা গেলে টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির মতো ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি হতে পারে।
এ ছাড়া তিনি সম্ভাবনার কথা বলছেন বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক সংকেত ব্যবহার করে টিস্যুর আচরণ বিশ্লেষণের। আমাদের স্নায়ুতন্ত্র মূলত বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে। যদি টিস্যুর ওপর দেখানো এই সংকেতগুলোর প্রভাব বোঝা যায়, তাহলে স্নায়বিক রোগ বা পেশিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় নতুন পথ খুলতে পারে। অর্থাৎ আজ যে গবেষণা ক্যান্সারকে কেন্দ্র করে চলছে, তা ভবিষ্যতে আরও বহু রোগ বোঝার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ড. বাশার ইমনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হলো মৌলিক গবেষণাকে ধীরে ধীরে ক্লিনিক্যাল প্রয়োগের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। ল্যাবরেটরিতে পাওয়া ফলাফল কীভাবে বাস্তব চিকিৎসায় কাজে লাগানো যায়—এই সেতুবন্ধনটাই আধুনিক বায়োমেডিক্যাল গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি চান, তাঁর কাজের মাধ্যমে গবেষক ও চিকিৎসকদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা তৈরি হোক। যাতে নতুন ধারণাগুলো কেবল গবেষণাপত্রে আটকে না থেকে রোগীর সেবায় কাজে আসে।
এই স্বপ্নের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও ধৈর্য। গবেষণার ফল দ্রুত চিকিৎসায় রূপ নেয় না। কখনো কখনো একটি মৌলিক আবিষ্কারের ক্লিনিক্যাল প্রয়োগে পৌঁছাতে দশকের পর দশক লেগে যায়। তবু এই দীর্ঘ পথচলার আশা নিয়েই বিজ্ঞানীরা কাজ করে যান। ড. ইমনের ক্ষেত্রেও তাঁর গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হলো—মানুষের উপকার করার সুযোগ।
বাংলাদেশি তরুণদের জন্য তাঁর পথচলা একটি বড় বার্তা বহন করে। বিজ্ঞান মানে কেবল বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়; বিজ্ঞান মানে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বীজ বপন করা। আজ যে গবেষণা ল্যাবের ছোট্ট একটি যন্ত্রে সীমাবদ্ধ, কাল সেটিই হয়তো হাজারো মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই যদি তরুণরা গবেষণার পথে এগোয়, তবে বাংলাদেশের নামও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
🔗 পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার পড়ুন:

Leave a comment