বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহৎ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল এবং শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে । দেশটি ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগ যেমন ‘হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ক্যান্সার’ এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক রোগ যেমন টিউবারকুলোসিসের মত দ্বিগুণ বোঝা’র মুখোমুখি, যা স্বল্প তহবিল ব্যবস্থা, অসম সম্পদ বন্টন ‘বিশেষ করে শহর বনাম গ্রামীণ’ এবং প্রশাসনিক ঘাটতির কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ভোউগলিক বিবেচনায় যদিও জনবহুল দেশটিতে রয়েছে উন্নত প্রবেশাধিকার, কর্মশক্তি যা একটি সমৃদ্ধ জাতির উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক। সম্ভাবনাময় দেশটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য বেবস্থায় শিশু মৃত্যুহার হ্রাস নিরসনে টিকাদান সম্প্রসারণ ‘পোলিও-মুক্ত’ এবং ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে ‘ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপির জন্য যদিও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বাবস্থাপনায় দেশটির দ্রুত অসম নগরায়ন বৃদ্ধি, দূষণ এবং পরিবেশগত চাপ যা স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উপর এক ধরনের ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতা সমুহের মুখমুখি হচ্ছে তার মধ্যে-
সংক্রামক রোগ:
যেমন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জীবাণু (Mycobacterium tuberculosis) টিউবারকুলোসিস বা টিবি নামক সংক্রামক রোগের জন্য দায়ি। পরবর্তীতে টিবি অসংক্রামক রোগ সমুহের (স্ট্রোক, হৃদরোগ, সিওপিডি,ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি) দিকে স্থানান্তরিত করে যা এখন বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ । একিসাথে সমাজের মানুষেরা এ ধরনের রোগ মোকাবেলায় দুর্বল জনস্বাস্থ্যের দুর্ভোগ এবং বাক্তিগত খরচের দ্বিগুণ বোঝা বহন করে চলছে।
মানসিক স্বাস্থ্য:
বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য এবং ক্রমবর্ধমান বোঝার মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১৯% প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন, যা দ্রুত নগরায়ন, দারিদ্র্যতা, পারিবারিক কলহ এবং কিছুটা বংশগত কারণেও ঘটে। এই খাতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর তীব্র ঘাটতি এবং ব্যাপক চিকিৎসা ঘাটতির (৯০% এরও বেশি) বিষয়টা সুস্পষ্ট। এই উপসর্গে নারীরা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, এবং যদিও শহর/গ্রামীণ বৈষম্যের প্রকোপ খুব বেশি নয়, তবুও গ্রামীণ এলাকায় এই সুবিধার অনেক অভাব রয়েছে, যেখানে বিষণ্ণতা (Depression) এবং উদ্বেগের (Anxiety) মতো পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ক্রমবর্ধমান চাপ, বিষণ্ণতা এবং স্নায়বিক ব্যাধি, স্ট্রোক, মৃগীরোগ। মানসিক উদ্বেগজনিত উপসর্গ বা এংজাইটি ডিসঅর্ডার বা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে দ্রুত প্রসারিত এক ধরনের মানসিক রোগ যা অন্তত পক্ষে ৪.১% শিশু এবং তরুণদের মানসিক বিকাশে প্রবল প্রভাব বিস্তার করে। ১১ থেকে ১৯ বছরের শিশু এবং তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনিত যে উপসর্গগুলো সবচেয়ে ঘন ঘন নির্ণয় করা হয় তার মধ্যে ১। সেপারেশন এংজাইটি বা বিচ্ছেদজনিত ব্যাধি ২। নির্দিষ্ট ফোবিয়াঃ কোন বিষয়ে অযৌক্তিক ভয়। ৩। সামাজিক উদ্বেগজনিত ব্যাধি ৪। সাধারণ উদ্বেগজনিত ব্যাধি ৫। প্যানিক ডিসঅর্ডার এবং অ্যাগোরাফোবিয়া । গত তিন দশক ধরে,উদ্বেগজনিত এই ব্যাধির প্রকোপ তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে সাম্প্রতি কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব বিবেচনা করে,এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা আর বেরে গিয়েছে। মানসিক উদ্বেগজনিত এই ব্যাধিগুলি সাধারণত শৈশব/কৈশোরে প্রাথমিকভাবে শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে এই উপসর্গগুলো অন্যান্য উদ্বেগজনিত ব্যাধির সাথে এক ধরনের যোগাযোগ সম্পন্ন করার প্রবনতা লক্ষ কর যায় ।
স্বল্প বাজেটএবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থা:
বিশ্বব্যাপী সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয়ের সর্বনিম্ন স্তরের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, যা প্রায়শই জিডিপির প্রায় ০.৭% থেকে ১.১% পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়। কম সরকারি তহবিলের কারণে, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৩% থেকে ৭৩% সরাসরি রোগীদের দ্বারা বহন করা হয়। এই বিপর্যয়কর ব্যয় বার্ষিক লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। সাধারণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রায় অস্তিত্বহীন, যার ফলে জরুরি চিকিৎসার সময় ব্যক্তিরা আর্থিক সুরক্ষার বাইরে থাকেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সম্পদের অভাব, কর্মীদের অনুপস্থিতি, দুর্বল শাসনব্যবস্থা অনুন্নয়নের একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে, যেখানে সম্পদ এবং জবাবদিহিতার অভাব ব্যাপক নেতিবাচক পরিণতির দিকে পরিচালিত করে, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দুর্বল জনসেবা সরবরাহ। শহর এবং গ্রামীণ এলাকার মধ্যে পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের বিশেষ করে বিশেষজ্ঞদের অসম বন্টন উদীয়মান ঝুঁকি এবং অসুস্থতার কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় পদ্ধতিগত ব্যর্থতা :
বাংলাদেশে রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার পদ্ধতিগত ব্যর্থতা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা জুড়ে একাধিক আন্তঃসম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ দ্বারা চালিত হয়। একটি প্রধান বাধা হ’ল প্রতিরোধমূলক এবং স্বাস্থ্য প্রচার কার্যক্রমের উপর অপর্যাপ্ত ফোকাস।
বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অত্যধিক কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত পদ্ধতিটি অনুপযুক্ত, যা প্রায়শই Top-Down বা শীর্ষ-নিচের পরিকল্পনা এবং স্থানীয় গ্রামীণ বাস্তবতার মধ্যে অমিলের দিকে পরিচালিত করে। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতাগুলি অপর্যাপ্ত জনস্বাস্থ্য যোগাযোগের দ্বারা জটিল হয়, বিশেষ করে COVID-19 মহামারীর মতো সংকটের সময়, যখন দুর্বল তথ্য প্রবাহ এবং দুর্বল জনস্বাস্থ্য বার্তার কারণে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক রোগ টিউবারকুলোসিসের বা যক্ষ্মা রোগের পুনঃ উত্থান পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ যেমন অপর্যাপ্ত রোগীর সহায়তা, উচ্চ চিকিত্সার খরচ এবং যত্নের দুর্বল অ্যাক্সেস, যা অসম্পূর্ণ চিকিত্সা কোর্স এবং প্রতিরোধী ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জীবাণু (Mycobacterium tuberculosis ) দিকে পরিচালিত করে এবং এর পুনঃবিকাশ ঘটায়। যদিও সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ, প্রক্রিয়া এবং তাদের লোকাল ইমার্জেন্সি কেয়ার নেটওয়ারকের মাধ্যমে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কিন্তু সর্ব সাধারণ ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষদের উদ্দেশে বিকেন্দ্রীকরণ এবং আধুনিকীকরণের লক্ষে এখনও পূর্ণ স্কেলে প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কাঠামোগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি খাত:
বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত দুর্বল সরকারি ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রন হারাচ্ছে , যার বৈশিষ্ট্য দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণ এবং উচ্চ পকেট ব্যয়, গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ এবং অনেকের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক কষ্টের সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিকীকরণ এবং গুণমানের চেয়ে মুনাফার উপর জোর দিয়ে চিহ্নিত এই অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ অনেককে ঋণের মধ্যে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক পরিষেবা প্রদানকারীদের প্রায়শই সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব থাকে, যা প্রধান প্রশাসনিক ফাঁকগুলি তুলে ধরে।
প্রস্তাবনা সমুহ
বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও উন্নত জাতি গঠনের জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলির বিবেচনায় একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত কাঠামোর বাস্তবায়ন জরুরি যার মধ্যে যুব স্বাস্থ্য, প্রজনন অধিকার দেশের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কাঠামোর কার্যকরী পদক্ষেপ স্থান পেতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য, ন্যায্য অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা। একটি আধুনিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য স্বাস্থ্য বাবস্থা,মানব পুঁজি,ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে নিচের সম্ভাব্য পরিকল্পনার সমুহকে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হল যা বর্তমান স্বাস্থ্যগত পদ্ধতি, সমস্যা চিহ্নিত করন, করনীয় উদ্যোগ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
১।স্বাস্থ্যখাতের রূপান্তর:
মা ও শিশুর সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (Universal Heal Coverage): ২০৩০ সালের মধ্যে জনসংখ্যার ৭৫ %-এ পৌঁছানোর আগেই UHC সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, উন্নত বিসশের স্বাস্থ্য বাবস্থাপনার আলোকে এটি একটি প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্যাকেজ (Essential Health Packages) যার মধ্যে জীবনযাত্রার হস্তক্ষেপ এবং নারী ও শিশুদের জন্য সার্বজনিন স্বাস্থ্য বাবস্থা ও পুষ্টির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুর্নীতি মুক্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্য পদ্ধতির বাস্তবায়ন: সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে টেলি-মেডিসিন, ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং ডেটা বিশ্লেষণকে একীভূত করার জন্য বাংলাদেশ ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশল বাস্তবায়ন জরুরি।
কার্যকরী স্বাস্থ্য বাজেটঃ বাংলাদেশের বর্তমান ‘২০২৫-২৬’ সালের প্রাথমিক স্বাস্থ্য বাজেট ৪৩৪.৮৩ বিলিয়ন টাকা , যা গত অর্থবছরের ৪১৪.০৮ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দের চেয়ে শুধুমাত্র ৫ শতাংশ বেশি । এই বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ৫.৩ শতাংশ এবং জিডিপির ০.৭৪ শতাংশ, যা স্বাস্থ্য ব্যয়ের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত জিডিপির ৫ শতাংশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম । দুঃখজনক ভাবে জনস্বাস্থ্য বরাদ্দ বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশই রয়ে গেছে এমনকি জিডিপির অংশ ২০২৪ অর্থবছরের ০.৭৫ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ২০২৫ অর্থবছরে ০.৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যেটা প্রশাসনিক ঘাটতি এবং বিচক্ষনতার একটা সুনিৎদ্রিট কারন হিসাবে চিহ্নিত করা যায় ।
২। প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তর এবং সেক্টর জুড়ে শক্তিশালী সমন্বয়করন:
দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে অবশ্যই বহুক্ষেত্রীয় (Multiple) সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, এর মধ্যে সঠিক তথ্য আদান-প্রদান এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকতে হবে । প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক বাবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অধিকন্তু, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও এর সাথে জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশলগুলি সারিবদ্ধ করার জন্য সরকারী সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা এবং সুশীল সমাজের মধ্যে টেকসই সমন্বয় থাকবে।
৩। আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা:
সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং সরকারি তহবিল বৃদ্ধি করে পরিবারের পকেটের বাইরের স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে একটা (Blended) মিশ্রিত অর্থ দক্ষ ব্যবস্থা যা সরকারী ও বেসরকারী পুঁজির সমন্বয়ে, বিশেষ করে রোগের ডায়াগনস্টিকস খাতের সক্ষমতা এবং চিকিৎসা সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উদ্যোগকে আরও দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই, দক্ষ সম্পদের ব্যবহার এবং সামাজিক নিরাপত্তার মাত্রাকে নিশ্চিত করতে পারে।
৪। রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা:
টেকসই স্বাস্থ্য বাবস্থার অগ্রগতি নির্ভর করে তহবিলের উৎসের বৈচিত্র্যকরণ, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন হস্তক্ষেপ, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা (Cross-Border Collaboration) এবং সমন্বিত রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর। রোগ প্রতিরোধমূলক পরিষেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক, স্থিতিশীল এবং স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
৫। প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ:
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব একটি ভিত্তিপ্রস্তর কৌশল হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া যা স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে একটি ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি পরিমাপযোগ্য এবং টেকসই মডেল অতীব জরুরী । সরকার, বেসরকারী খাত, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক দাতারা সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (Universal Heal Coverage) এর জন্য স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো নির্মাণের সাথে সাথে যক্ষ্মা (টিবি), এইচআইভি/এইডস এবং ম্যালেরিয়ার মতো জীবন-হুমকির রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টাকে একত্রিত করার প্রয়গিগ পদ্দতি ।
লেখক: সরকার এম শাহীন,
গবেষক, নিউরোজেনেটিকস অ্যান্ড প্রিসিশন মেডিসিন, ডিপার্টমেন্ট অব সাইকাইয়াট্রি, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড মেডিকেল জেনেটিকস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরি, কানাডা।
সদস্য, বাংলাদেশ ডায়াসপোরা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ফোরাম।
গুগল স্কলার: https://scholar.google.com/citations?user=lRaMZlsAAAAJ&hl=en
লিংকডইন: https://www.linkedin.com/in/sarker-m-shaheen-a656b56

Leave a comment