Home / সাক্ষাৎকার / সাক্ষাৎকারঃ ড. ফখরুল আহসান

সাক্ষাৎকারঃ ড. ফখরুল আহসান

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ বিজ্ঞানী.অর্গ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমাদেরকে সাক্ষাতকার দেবার জন্য ধন্যবাদ। প্রথমেই আপনার সম্বন্ধে আমাদের একটু বলুন।

ড. ফখরুল আহসানঃ আমি কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করি। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করে, কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করি। তারপর আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মেসিতে মাস্টার্স করি। মাস্টার্স শেষ করার পরে আমি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এ কিছুদিন কাজ করি। তারপর আমি স্পেন সরকারের একটি স্কলারশিপ নিয়ে কমপ্লোটেন্স ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ থেকে পিএইচডি করেছি। এরপর মাদ্রিদ থেকে আমি চলে যাই আমেরিকায়। সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ আলবামা, ব্রামিংহাম (University of Alabama at Birmingham) থেকে পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ করি। তারপর আমি টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্স সেন্টার (Texas Tech University Health Sciences Center) এ এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদান করি ২০০১ সালে। তারপর পদন্নোতি হয়ে আমি এখন ইউনিভার্সিটির বিশেষ (distinguish) প্রফেসর। আমি নামিদামী কোন স্কুলে পড়াশুনা করিনি, খুবই সাধারণ একটি উপজেলা লেভেল স্কুলে পড়াশুনা করেছি।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ কি আপনাকে মোটিভেট করেছে ফার্মেসি নিয়ে পড়ার ব্যাপারে? 

ড. ফখরুল আহসানঃ আমি আমার অধ্যবসায় এর কারণেই এত দূর আসতে পেরেছি এবং আমার একাডেমিক ফলাফল খুব ভালো ছিল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও পরীক্ষায় ভালো করি। এরপর আমি বিভিন্ন জায়গায় বৃত্তির জন্য চেষ্টা করি এবং পরিশেষে স্পেনে একটা বৃত্তি পাই। আমি সেই সময় বেক্সিমকোতে কর্মরত ছিলাম এবং সেটাও বৃত্তিটা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। আমি যদিও তেমন মেধাবী নই, কিন্তু আমি কঠোর পরিশ্রমী, এবং একজন অধ্যবসায়ী মানুষ, যা আরেক ভাবে বলা যায় যে আমি কোন কিছুর পিছনে উৎসাহ না হারিয়ে লেগে থাকতে পারি। এই লেগে থাকার কারণেই আমি আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।

বিজ্ঞানী.অর্গঃ ফার্মেসি নিয়েই কেন পড়াশুনা করলেন?

ড. ফখরুল আহসানঃ আমি ছাত্র অবস্থাতে বাংলাদেশে ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর পরেই ফার্মেসি একটি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল। সেইসময় শুধুমাত্র ঢাকা ইউনিভার্সিটিতেই ফার্মেসি বিষয়টি ছিল। আমরা শুধুমাত্র ৫০ জন ছাত্র ছিলাম আমাদের ডিপার্টমেন্টে। আমি সেই ৫০ জন ছাত্রের মধ্যে একজন ভাগ্যবান ছাত্র ছিলাম। এটা অনেকটা স্বপ্নের মত ছিল যে সব ভালোর মধ্যেও সব থেকে ভালো বা বেস্ট অফ বেস্ট হওয়ার। মেডিকেল এ ১২০০ জন, ইঞ্জিনিয়ারিং এ ৫০০ জনের মত, কিন্তু ফার্মেসিতে শুধুমাত্র ৫০ জন ছাত্র নেওয়া হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পুরো বাংলাদেশ থেকে। মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়ার উৎসাহ থেকেই আমি ফার্মেসি তে পড়ি।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ আমাদের দেশে ফার্মেসি সেক্টর টা অনেক খানিই অবহেলিত অবস্থাতে রয়েছে। দেখা যায় আমাদের দেশে শুধুমাত্র কেমিস্ট্রি নিয়ে যারা পড়াশুনা করছে তারাই শুধুমাত্র এই সেক্টরে কাজ করছে, কিন্তু বিদেশে দেখা যায় অনেক বড় একটা ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে এই ফার্মেসি বিষয়কে কেন্দ্র করে। আমাদের দেশে শুধুমাত্র জেনেরিক মেডিসিন তৈরি করা হয়। আপনি ত দীর্ঘদিন আমেরিকাতে ফার্মেসি নিয়ে কাজ করছেন, আপনার কাছে আমাদের সাথে অন্যান্য দেশের এই ব্যবধানের কারণ কি?

ড. ফখরুল আহসানঃ আসলে প্রধান কারণ হল আমাদের দেশে ফার্মেসি কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা হয় নি। সাউথ কোরিয়া বা স্পেনে যা দেখি তা হলো একটি ফার্মেসি অবশ্যই একজন ফার্মাসিস্ট দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। অর্থাৎ ফার্মেসি চালানোর জন্য অবশ্যই তার এই সংক্রান্ত ডিগ্রী থাকতে হবে। আমাদের দেশে এই আইনটি না থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে। ফার্মাসিস্ট দেরকে রিটেইল ফার্মেসিতে এট্রাক্ট করা একটা ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টদের মূল ক্ষেত্রে হল ঔষধ প্রস্তুতের শিল্প। কিন্তু প্রায় সব উন্নত দেশেই (সম্ভবত ভারত ছাড়া) আর সব দেশেই এটাই নিয়ম যে একজন ফার্মাসিস্টই শুধুমাত্র ফার্মেসি বা ঔষধের দোকান চালাতে পারবে। যেহেতু বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টরা ফার্মেসি চালায় না, স্বাভাবিকভাবেই কাজের জায়গাটাও ছোট। আমাদের সময়ে আমরা সংখ্যায় খুব কম ছিলাম, তাই আমরা পাশ করার আগেই চাকরি পেয়ে যাই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা কি তা আমি ঠিক জানি না। এছাড়া একজন ফার্মাসিস্টকে রাখতে একজন ফার্মেসির মালিকের জন্য অনেক ব্যয়বহুল, সেটাও একটি অন্যতম কারণ।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ বিদেশে ফার্মেসি তে যারা পড়াশুনা করে তারা আসলে কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরি করতে পারেন?

ড. ফখরুল আহসানঃ চাকুরীর ক্ষেত্রে উন্নত দেশ গুলোতে অর্থাৎ উত্তর আমেরিকা, সাউথ কোরিয়া, ইউরোপ, কিংবা চীনে মূল ক্ষেত্রটি হল রিটেইল ফার্মেসি, যাকে আমরা বাংলাদেশে ড্রাগ স্টোর বা ঔষধের দোকান বলে থাকি। তবে বিদেশের ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিতেও তারা কাজ করেন। আমেরিকাতে যারা ফার্মেসি স্কুলে পড়েন, অর্থাৎ যারা প্রফেশনাল ফার্মাসিস্ট, তারা ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে মনোনিবেশ করেন, কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে যেতে হলে পিএইচডি থাকতে হবে। ফার্মেসিতে সাধারণত সবাই পিএইচডি করে না। কারণ প্রায় ৬ থেকে ৮ বছরের মতন সময় লাগে ফার্মেসি পড়তে। তাই ফার্মেসিতে প্রফেশনাল ডিগ্রী পাওয়ার পর, কেউ পিএইচডি করতে চায় না। একইভাবে গবেষণা ক্ষেত্রে যেতে হলে ও পিএইচডি থাকা লাগে। তাই আসলে আমেরিকাতে ফার্মাসিস্টরা ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এর দিকেই বেশি যায়, ইন্ডাস্ট্রিতে তেমন একটা যায়না।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ ঔষধ তৈরিতে ফার্মাসিস্টরা কিভাবে ভূমিকা রাখেন?

ড. ফখরুল আহসানঃ এটা আসলে শুধুমাত্র বাংলাদেশ, ইন্ডিয়াতে হয় এমনটা। কারণ ঔষধ তৈরির বিষয়টা অনেকটা গবেষণা ভিত্তিক। বাংলাদেশে আমরা যা করি তা হল শুধুমাত্র ফর্মুলা কপি করে ম্যানুফ্যাকচার করি, কিন্তু ঔষধ তৈরিতে আসলে গবেষণা বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঔষধ তৈরি করার বেলায় কেমিষ্ট, স্ট্যাটিস্টিক, ডাক্তার এই পেশার লোকবলের এর সমন্বয়ে আমেরিকার ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে। বাংলাদেশে মনে করা হয়, ফার্মাসিস্টরাই ভালো জানে ঔষধ তৈরির বিষয়টি। এখানে আমরা কোন নতুন কিছু আবিষ্কার করি না। ভারতে যদিও কিছু টা গবেষণা করে। ঔষধ আবিষ্কার বা ড্রাগ ডিসকভারি খুবই জটিল। শুধুমাত্র ফার্মাসিস্ট দ্বারা এটি সম্ভব নয়। এর জন্য আমাদের কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মলিকিউলার বায়োলজিস্ট, ফিজিশিয়ান, স্ট্যাটিসটিকস পেশায় জড়িত সবাইকে প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশে কোন ড্রাগ ডিসকভারি হয় না, তাই আমরা শুধুই ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচার করি। আমাদের কাছে ড্রাগ রয়েছে, যার ফর্মুলা আমরা শুধুই কপি করি। বাংলাদেশ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী ও অনেকটা একই ভাবে কাজ করে। শুধু তাই নয় এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশই (সাউথ কোরিয়া, জাপান এবং চীন ছাড়া), সবাই শুধু ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচার এর সাথে জড়িত। ড্রাগ ডিসকভারির সাথে তারা জড়িত নয়।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ আমেরিকাতে আপনি কি নিয়ে কাজ করেছেন বা গবেষণা করেছেন?

ড. ফখরুল আহসানঃ আমি ১৯৯৯-২০০১ পর্যন্ত আমি পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ করি ইউনিভার্সিটি অফ আলবামা, ব্রামিংহাম (University of Alabama at Birmingham) তে। ওখানে আমি কাজ করি নাক দিয়ে ড্রাগ ডেলিভারি বিষয়ে। ওখানে আমি খুব অল্প সময় কাজ করি। এরপর আমি টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্স সেন্টার (Texas Tech University Health Sciences Center) এ কাজ করি। এখানে আমি ইনহ্যালেশন ড্রাগ ডেলিভারি নিয়ে কাজ করি। ড্রাই পাউডার ইনহেলার, ন্যাবুলাইজার, বা শ্বাস প্রশ্বাস এর সাথে বা এজমার জন্য যেই ঔষধ গুলো ব্যবহার করা হয়, তা নিয়েই আমি কাজ করি। আমার গবেষণা যদি ও এই বিষয়ে ছিলনা, আমি চেয়েছিলাম অন্যান্য ঔষধ গুলো কিভাবে ফুসফুসে পৌঁছান যায়। আমি ইনসুলিন নিয়েও কাজ করি। বর্তমানে আমি যে বিষয়ে গবেষণা করছি তা হল পুলমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশন (PAH) নামের এক রোগ নিয়ে। এই রোগ হলে হার্ট থেকে লাংগস এ ব্লাড যাওয়ার যে নালীটা আছে, যাকে বলে পুলমোনারি আর্টারি, তা ব্লক হয়ে যায়। এতে করে আর্টারিতে প্রেশার বেড়ে যায়, তখন রোগী হার্ট ফেইল হয়ে মারা যায়। আমি এই রোগ নিয়ে গবেষণা করছি প্রায় ১০ বছর। । PAH এর প্রায় সব ড্রাগই ইঞ্জেক্টেবল বা মুখে খাওয়ার, কিন্তু আমাদের যেটা এজাম্পশন তা হল যদি আমরা লাংগস এর মাধ্যমে ড্রাগ ডেলিভারি করতে পারি, তাহলে আমরা ড্রাগ এর পরিমাণ এবং শরীরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কমে আসবে, অর্থাৎ ড্রাগ শুধুমাত্র ফুসফুসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এ নিয়ে কাজ করার জন্য আমি প্রথমে আমেরিকা সরকারের ৩০০ হাজার ডলার। পরে ২ মিলিয়ন ডলার এর ফান্ড পাই। এছাড়া কিছুদিন আগে আমরা একটা চিপ দিয়ে রোগটির মডেল তৈরী করার চেষ্টা করছি। এই চিপ দিয়ে বিভিন্ন রোগের মডেল তৈরি করা যাবে, ড্রাগের এফেক্ট বা প্যাথলজিক্যাল প্রসেসও দেখা যাবে। একে disease-on-a-chip বলে।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ কোন এনিম্যাল মডেল এ কাজ করছেন?

ড. ফখরুল আহসানঃ এনিম্যাল মডেল এ কাজ এখনও করছি। তবে এখন মাইক্রো চিপ এ বিভিন্ন সেল গ্রো করে ডিজিস টা কে শরীরের বাইরে রিপ্রোডিউস করার চেষ্টা করি। দেখি কিভাবে সেল অরিয়েন্টেশন হয়, বা ড্রাগ কিভাবে রেসপন্স করে। এটাকে বলে অর্গান অন চিপ বা ডিজিজ অন চিপ। এটা হল মাইক্রোফ্লুয়িডিক ডিভাইস। অর্থাৎ আমরা রোগ টা ডিভাইস বা চিপ এ গ্রো বা বর্ধিত করেই গবেষণা করছি।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ মাইক্রোফ্রেডিক ডিভাইসে কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় পলিমারে বিভিন্ন সেন্সর বসিয়ে বা বিভিন্ন জায়গায় বাইমলিকিউল বসিয়ে সেন্সিং একাজে ব্যবহার করি বা অর্গান বসাচ্ছি কিন্তু সেল যদি বসাতে যাই তা কিভাবে কাজ করে?

ড. ফখরুল আহসানঃ সেলগুলো আলাদাভাবে বসানো হয় যাতে, তারা একে ওপরের সাথে ইন্ট্যারাক্ট না করে বা সমস্যা না করে। ফলে এই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃএই ডিজিজ মডেল নিয়ে কি আপনি একাই গবেষণা করছেন না কি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে করছেন?

ড ফখরুল আহসানঃ না, এটা আসলে আমেরিকার সরকারের অর্থায়নে চলছে। তারা ৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। আমি গত ৩ বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ বছরেরে শুরুর দিকে আমি ফান্ডটি পাই, তাই এখন এটা আরো উন্নত করার চেষ্টা করছি। 

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ পোলমোনারি আর্টারি ডিজিজ ছাড়া ও কি অন্যান্য ডিজিজ মডেল নিয়ে ও কাজ করা যাবে?

ড. ফখরুল আহসানঃ হ্যাঁ। আমি একজন মাইক্রোফ্লুয়িডিক ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়োগ দিয়েছি। সে এই ধরনের চিপ তৈরীর কাজটি করছে। এছাড়া একজন বায়োলজিস্ট রয়েছে আমার গবেষণার দলে। অন্যান্য অসুখের মডেল নিয়েও আমরা কাজ করছি। আমি বর্তমানে এই প্রজেক্টটি নিয়ে অনেক ব্যস্ত এবং খুব চেষ্টা করছি এটি থেকে ভালো ফলাফল নিয়ে আনতে।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ বাহ! এটি একটি চমৎকার আবিষ্কার। আপনি এর পাশাপাশি অন্যান্য ড্রাগ ডেলিভারি মডেল নিয়ে কিভাবে কাজ করছেন?

ড ফখরুল আহসানঃ ড্রাগ ডেলিভারি বলতে বোঝায় শরীরে কিভাবে ঔষধটি সেই নির্ধারিত জায়গাতে পৌঁছান যায়। মানুষের শরীরে সরাসরি পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই আমরা দুটি পদ্ধতিতে তা যাচাই করি। একটি হল বিভিন্ন জাতিয় প্রাণী দিয়ে তা পরীক্ষা করা, যাকে আমরা এনিম্যাল মডেল বলি। এছাড়া কৃত্রিমভাবে ডিভাইসে সেই রোগটির মডেল তৈলী করে সেইখানে ঔষধ পরিবহনের পরীক্ষাটি করি। আমরা দুই ধরনের পরীক্ষা করেই তার সাথে তুলনা করি। তারপরে যাচাই বাছাই করে ফলাফলগুলি তুলনা করে গবেষণা করি এবং সিদ্ধান্তে পৌছাই।

আমরা সাধারণত এনিম্যাল মডেল এর জন্য ইঁদুর ব্যবহার করি। ড্রাগ টা ইনহ্যাল করার পরে পোলমোনারি আর্টারি প্রেশার টা মেপে দেখি, কতটুকু ফুসফুসে পৌঁছাতে পেরেছে তা আমরা পরিমাপ করি। আবার ফুসফুসটা আমরা বাইরে এনে পরীক্ষা করে দেখি। সাধারণত ফুসফুসকে বের করার পরে ২ ঘন্টা পর্যন্ত কার্যক্ষমতা থাকে, সেই সময় কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করি। এরপরে আমরা পরীক্ষা করে দেখি ফুসফুসে ঔষধটা কতটুকু গ্রহণ করছে। এছাড়া আরো বেশ কিছু প্রযুক্তি ও পদ্ধতি রয়েছে যা আমরা প্রয়োগ করে পরিমাপের কাজটা সারি। এই ধরনের গবেষণা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আমার ল্যাবে রয়েছে।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ ভবিষ্যতে আপনি কোন দিকে আপনার গবেষণা এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন? 

ড. ফখরুল আহসানঃ আমি ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিমভাবে ঔষধ তৈরী করা সম্ভব। যেহেতু আমি ফার্মাসিউটক্যাল কোম্পানিতে কাজ করে এসেছি। তাই আমি জানি ঔষধ তৈরি করা খুবই লম্বা প্রসেস। ড্রাগ এর সাথে পলিমার সংযুক্ত করে যেন ফার্মাসিস্টরা ট্যাবলেট প্রিন্ট করতে পারে। এটা এখনো আমার স্বপ্নের মত। এখন খুব হেভি ম্যনুফ্যাকচারিং ইকুয়েপমেন্ট ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঔষধ উৎপাদন হচ্ছে। আমি চাই এই প্রসেস টা যেন আরো সহজ হয়। আমার লক্ষ্য এখন চিপ মডেল টাকে আরো উন্নত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া আর ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং মডেলটাকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং মডেল ফার্মাসিউটিকালে কিভাবে ব্যবহার করা যাবে?

ড. ফখরুল আহসানঃ প্লাস্টিক ত আসলে পলিমার দিয়েই তৈরি। ঔষধ তৈরী করার ক্ষেত্রে আমাদের এমন কিছু পলিমার ব্যবহার করতে হবে যেটা আমাদের শরীর গ্রহণ করতে পারে। এই পলিমারের বৈশিষ্ট্য, সাধারণ প্লাস্টিক এর মতই। শুধুমাত্র আকার পরিবর্তন করে দিতে হবে। রসায়নিক উপাদান আলাদা হলেও, সব ঔষধ এর কিছু কিছু উপাদান অনেকটা একই। আমাদের শুধুমাত্র যেটা করতে হবে তা হল কঞ্জিউমেবল ফিলামেন্ট তৈরি করে দিতে হবে যা শরীরে গ্রহণ করতে পারে। এটি বিভিন্নভাবে সম্ভব এবং আমি সেটা নিয়ে গবেষণা করছি। শুধুমাত্র একটা পলিমারের মডেল পরিবর্তন করার মাধ্যমে অসংখ্য ঔষধ তৈরি করা যায়।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ আপনি খুবই আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ মডেল যেমন ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং, ড্রাগ ডেলিভারি মডেল আর ডিজিজ মডেল নিয়ে কাজ করছেন। বলা হয় এগুলো আগামী বিশ্বকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ড ফখরুল আহসানঃ পুরোটাই আসলে গবেষণার উপর নির্ভরশীল।

 বিজ্ঞানী.অর্গঃ ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যারা আপনার মত আপনার পথ অনুসরণ করে চলতে চায় তাদের জন্য আপনার কোন উপদেশ বা কোন গাইডলাইন কি দিতে চান?

ড. ফখরুল আহসানঃ প্রথমেই আমি বলব চেষ্টা করে যেতে হবেই। কানেকশন তৈরি করে যেতে হবে। আমি নিজেও পিএইচডি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর। আমার অধীনে ইতিমধ্যেই ২৮ জন গবেষণা করেছে, আমার আন্ডারে দশ জন পিএইচডি করেছে। আমি মনে করি না যে ভালো গবেষক হতে হলে আপনাকে মেধাবী ছাত্র হতেই হবে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে, লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সংকল্প করতে হবে, এবং ধৈর্যশীল হতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে আমরা বন্ধু বানানোর চেষ্টা করব, কিন্তু শত্রু বানা্ব না। আপনি আপনার লক্ষ্যে কত টুকো পৌঁছাতে পারবেন, তা নির্ভর করে আসলে আপনি আপনার সাফল্যের জন্য কতটুকু লেগে ছিলেন। আপনার ভিতরে অন্যজনের কাছ থেকে কিভাবে সাহায্য নিতে হবে সেই গুণাবলী থাকতে হবে। কিভাবে সবার সাথে সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক রাখা যায়, তা আপনার জানতে হবে। আপনি যতই অপছন্দ করেন, কর্মস্থলের মানুষকে আপনি সব সময়ই সম্মান প্রদর্শন করবেন। এটাই আসলে প্রমাণ করে আপনি কতটুকু স্মার্ট। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, স্মার্টনেস হল আপনি কতটুকু পরিশ্রমী, কতটুকু ধৈর্যশীল, কতখানি হেল্প আপনি অন্যের কাছ থেকে পেয়েছেন, কত জন মানুষের সাথে আপনি সুন্দর সম্পর্ক করতে পেরেছেন। যদি আপনি সফল মানুষদের গল্প বলেন তাহলে দেখবেন তাদের ভিতর এই গুণাবলিগুলো বিদ্যমান।

সাক্ষাতকার সম্পর্কিত তথ্যবলি:

 The University of Alabama at Birmingham: https://en.wikipedia.org/wiki/University_of_Alabama_at_Birmingham

The University of Alabama at Birmingham (UAB) is a public research university in Birmingham, Alabama. Developed from an academic extension center established in 1936, the institution became a four-year campus in 1966 and a fully autonomous institution in 1969. Today, it is one of three institutions in the University of Alabama System and, along with the University of Alabama, an R1 research institution. In the fall of 2018, 21,923 students from more than 110 countries were enrolled at UAB pursuing studies in 140 programs of study in 12 academic divisions leading to bachelor’s, master’s, doctoral, and professional degrees in the social and behavioral sciences, the liberal arts, business, education, engineering, and health-related fields such as medicine, dentistry, optometry, nursing, and public health.

The UAB Health System, one of the largest academic medical centers in the United States, is affiliated with the university. UAB Hospital sponsors residency programs in medical specialties, including internal medicine, neurology, surgery, radiology, and anesthesiology. UAB Hospital is the only Level I trauma center in Alabama.

UAB is the state’s largest single employer, with more than 23,000 faculty and staff and over 53,000 jobs at the university and in the health system. An estimated 10 percent of the jobs in the Birmingham-Hoover Metropolitan Area and 1 in 31 jobs in the state of Alabama are directly or indirectly related to UAB. The university’s overall annual economic impact was estimated to be $7.15 billion in 2017.

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো নতুন নতুন সংবাদ জানতে সাবস্ক্রাইব করুন।

About Shamima

Check Also

মাশরুম গবেষক ড. ইকবাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো নতুন নতুন সংবাদ জানতে সাবস্ক্রাইব করুন। সংশ্লিষ্ট লেখা:সাক্ষাৎকারঃ ড. ফখরুল …

ফেসবুক কমেন্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।