শাহরান রহমান আলভী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানে একাধিক অ্যাকাডেমিক সম্মাননা লাভ করেন। তিনি গবেষণা সহকারী ও শিক্ষক সহকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং ও কম্পিউটার ভিশনভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস-এ কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি করছেন, যেখানে তিনি ডক্টরাল ফেলো ও গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা, বিশেষ করে এআই-নির্ভর সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা উন্নয়ন।
এর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনি ডেঙ্গু শনাক্তকরণে এক্সপ্লেইনেবল এআই এবং মেশিন লার্নিং ভিত্তিক গবেষণায় কাজ করেছেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি পাইথন, সি, সি++, জাভা সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ও আধুনিক এমএল ফ্রেমওয়ার্কে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণা আইইইই কনফারেন্স ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
💬 প্রশ্নোত্তর পর্ব
প্রশ্ন: প্রথমেই আপনার সম্বন্ধে আমরা জানতে চাই।
উত্তর: আমি শাহরান রহমান আলভী। আমি স্নাতক সম্পন্ন করেছি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রেস্টিজিয়াস অ্যাকাডেমিক ডিস্টিঙ্কশনসহ ডিগ্রি অর্জন করি। স্নাতকের পর থেকেই গবেষণায় যুক্ত আছি এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছি। জিআরই ও টোফেলসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করার পর আমি দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস-এ পিএইচডি করতে আসি। আমি যুক্তরাষ্ট্রের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফান্ডেড অফার পেয়েছিলাম, তবে ইউটি ডালাসকে বেছে নিয়েছি।
আমার যাত্রা খুব মসৃণ ছিল না—এসএসসি ও এইচএসসি-তে ফলাফল ভালো না হওয়ায় অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি নিজের চ্যালেঞ্জগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে, আজ সেই পথচলার ফলই আমার বর্তমান অর্জন।
প্রশ্ন: আপনার গবেষণার বিষয় কী?
উত্তর: আমার গবেষণা মূলত মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং-এর প্রয়োগভিত্তিক ক্ষেত্র থেকে শুরু। ত্বকের রোগ শনাক্তকরণে ট্রান্সফার লার্নিং ও Explainable AI (LIME) ব্যবহার করেছি, যেখানে শুধু রোগ শনাক্তই নয়, শনাক্তকরণের কারণও ব্যাখ্যা করা যায়। এছাড়া মুখগহ্বরের ক্যান্সার শনাক্তকরণে ডিপ লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছি।
আরেকটি গবেষণায় IoT ও SDN-ভিত্তিক নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণের ওপর কাজ করেছি, যা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে আমার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র হলো AI Security।
প্রশ্ন: আপনার গবেষণার কাজগুলো আমাদের কীভাবে উপকৃত করতে পারে?
উত্তর: আমি এখন এআই সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছি, যার উদ্দেশ্য হলো এআই-নির্ভর সিস্টেমগুলোকে হ্যাকিং, ভুয়া তথ্য বা কোনো ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা। ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়বে, তাই নিরাপদ এআই গড়ে তোলাই আমার গবেষণার লক্ষ্য। প্রযুক্তি যেন মানুষের জীবনে আস্থা ও নিরাপত্তা তৈরি করে—এটাই আমার উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন: গবেষণাজীবনের বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?
উত্তর: Explainable AI নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমদিকে মডেলের এক্যুরেসি ভালো হলেও চিকিৎসকেরা জানতে চেয়েছিলেন, এআই এই সিদ্ধান্তে কেন এসেছে। তখনই উপলব্ধি করি, শুধুমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী নয়—ব্যাখ্যা দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। সেখান থেকেই Explainable AI-কে গভীরভাবে বুঝতে শুরু করি, যা পরে আমাকে AI Security গবেষণার দিকে নিয়ে আসে।
বর্তমানে এআই দিয়ে ইতিবাচক কাজ যেমন সম্ভব, তেমন অপব্যবহারও বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ থেকেই আমার গবেষণার লক্ষ্য তৈরি হয়েছে—এআই যেন সর্বদা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন: একজন বিজ্ঞানীর কী কী গুণ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
উত্তর: আমার মতে একজন বিজ্ঞানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো কৌতূহল—কেন ঘটছে, কীভাবে ঘটছে, অন্যভাবে হলে কী হতো—এই প্রশ্ন থেকেই বিজ্ঞান শুরু। দ্বিতীয়ত, ধৈর্য ও অধ্যবসায়। গবেষণার পথ সহজ নয়; ব্যর্থতাকেও শেখার অংশ হিসেবে নিতে হয়।
তৃতীয়ত, নৈতিকতা—তথ্যকে কখনো বিকৃত না করে সত্য তুলে ধরা। এছাড়া সহযোগিতা, বিনয় এবং মানবিক মূল্যবোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিজ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য মানবকল্যাণ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বার্তা কী?
উত্তর: বিজ্ঞান শুধুই বইয়ের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়—এটি পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখার একটি উপায়। যারা বিজ্ঞান করতে চাও, তাদের বলব বড় স্বপ্ন দেখো এবং ধৈর্য ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কাজ করো। ব্যর্থতা গবেষণার অংশ—তাই তা নিয়ে ভেঙে পড়বে না।
বাংলাদেশের তরুণরা আজ বিশ্বমানের গবেষণায় অবদান রাখছে। তোমরাও পারবে, যদি নিজের প্রশ্ন করার ক্ষমতা ধরে রাখো। বিজ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করতে হবে—এটাই একজন গবেষকের প্রকৃত সাফল্য।
যোগাযোগের তথ্য:
Email: [email protected]
🔗 প্রোফাইল লিংক
Google Scholar: https://scholar.google.com/citations?user=9-Km0z8AAAAJ&hl=en
LinkedIn: https://www.linkedin.com/in/shahran-rahman-alve
শাহরান রহমান আলভীর গবেষণাপথ এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ত্বকের রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে সাইবার সিকিউরিটিতে এআই-এর প্রয়োগ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কাজ প্রযুক্তিকে আরও মানবকেন্দ্রিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলছে। বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণার উৎস।
বিজ্ঞানী অর্গ টিম তাঁর গবেষণাকর্মের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে এবং আশা করছে, ভবিষ্যতে তাঁর গবেষণা বিশ্বব্যাপী জ্ঞানচর্চায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Building a Safer AI Future: A Bangladeshi Researcher Abroad — Shahran Rahman Alve
Shahran Rahman Alve completed his Bachelor of Science in Computer Science and Engineering from North South University, where he received several academic honors. During his undergraduate years, he served as a teaching assistant and research assistant, contributing to machine learning, deep learning, and computer vision projects across multiple departments.
In 2025, he began his Ph.D. in Computer Science at The University of Texas at Dallas, where he currently serves as a Doctoral Fellow and Graduate Teaching Assistant. His primary research area focuses on Artificial Intelligence Security, particularly the development of AI-driven mechanisms to strengthen cybersecurity.
Before joining UTD, he worked as a Graduate Research Assistant at the Department of Electrical and Computer Engineering at North South University, contributing to dengue detection using explainable AI. He has hands-on experience with Python, C, C++, Java, and modern ML frameworks such as PyTorch, TensorFlow, and Scikit-learn. His research has been published in top IEEE conferences and international journals.
💬 Interview Section
Question: First, tell us about yourself.
Answer: My name is Shahran Rahman Alve. I completed my undergraduate studies at North South University with a prestigious academic distinction in Computer Science and Engineering. Since graduation, I have been actively involved in research and have published in several renowned international conferences. After completing GRE, TOEFL, and other required steps, I joined The University of Texas at Dallas for my Ph.D. in Computer Science. I received funded Ph.D. offers from 16 universities in the United States, but I ultimately chose UTD.
My journey has not been smooth—my SSC and HSC results were not strong, which made higher education challenging in the context of Bangladesh. But I did not give up; I continued working hard, overcoming those challenges step by step. Today, those struggles have become part of my motivation.
Question: What is the main focus of your research?
Answer: My research began with machine learning and deep learning applications. In one project, I used transfer learning and Explainable AI (LIME) to detect skin diseases while also explaining the reasons behind each prediction. I also worked on oral cancer (OSCC) detection using deep learning.
Another project involved intrusion detection in IoT- and SDN-based networks using machine learning. This work has become a useful reference in network security research.
Currently, my primary focus is on AI Security.
Question: How can your research work help people?
Answer: I am now working on AI Security, which aims to protect AI systems from hacking, misinformation, and other malicious threats. As society becomes more dependent on AI, ensuring its safety becomes essential. My goal is to help build a future where AI technology remains safe, trustworthy, and beneficial for people.
Question: Could you share any memorable research experience?
Answer: One of the most significant experiences for me was working with Explainable AI. Initially, our model showed excellent accuracy, but physicians wanted to know why the AI made certain predictions. That made me realize that accuracy alone is not enough—interpretability is equally important. This inspired me to explore deeper into Explainable AI, eventually leading me to AI Security.
Today, AI can generate positive experiences—such as helping someone recreate a memory with a lost loved one—but it can also be misused. Understanding this balance motivated me to work toward ensuring that AI remains beneficial and protected from abuse.
Question: What qualities do you think a scientist should possess?
Answer: Curiosity is the most important quality for any scientist. Asking questions like “Why does this happen?” or “What if we try it differently?” is what drives scientific discovery.
The second essential quality is patience and perseverance; research is often slow, with many failures along the way.
Integrity is also crucial—scientists must remain truthful, regardless of how the results turn out. Collaboration, humility, and human values are equally important because the ultimate goal of science is human welfare.
Question: What message would you give to young students in Bangladesh who want to pursue science?
Answer: Science is not limited to textbooks; it is a way of seeing the world. I would encourage young students to dream big but also work with dedication and patience. Research is full of failures, but every failed experiment brings you closer to the correct answer.
Bangladeshi students are already making remarkable contributions globally. You can achieve the same if you embrace curiosity and keep asking questions. And always remember—the purpose of science is to improve human life. Even a small contribution that helps people is a true scientific achievement.
Contact Information:
Email: [email protected]
🔗 Profile Links
Google Scholar: https://scholar.google.com/citations?user=9-Km0z8AAAAJ&hl=en
LinkedIn: https://www.linkedin.com/in/shahran-rahman-alve
Shahran Rahman Alve’s research represents a meaningful contribution to the development of secure and human-centered AI technologies. From medical diagnostics to cybersecurity applications, his work reflects a thoughtful approach to ensuring that artificial intelligence remains beneficial and trustworthy.
The biggani.org team appreciates his dedication to research and hopes his work continues to inspire young scholars in Bangladesh. We wish him continued success in his academic and scientific journey.

Leave a comment