বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক এক সন্ধ্যার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিজ্ঞানী অর্গ (biggani.org)। আসন্ন অনলাইন সাক্ষাৎকার সেশনে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন বাংলাদেশি গবেষক সানজিদা আফরিন—বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (FIU) পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। এই আয়োজনের লক্ষ্য, বৈশ্বিক গবেষণাজগতে বাংলাদেশের তরুণদের যাত্রাপথকে কাছ থেকে দেখা, বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাস্তব দিকনির্দেশনা তৈরি করা।
সানজিদা আফরিনের একাডেমিক যাত্রা শুরু বাংলাদেশে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা দিয়ে। সেখান থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান—হাঙ্গেরিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং চেক প্রজাতন্ত্রে গবেষণা ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে হাতে-কলমে আধুনিক ল্যাব-সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই বহুজাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দলে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে। বর্তমানে তিনি FIU-এর Fierst Lab-এ ড. জ্যানা ফিয়ার্স্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন, যেখানে জিনোমের বিবর্তন, জীবনের সংগঠন ও পরিবর্তনের ধরণ বোঝার জন্য তত্ত্ব, কম্পিউটেশনাল মডেল এবং বায়োইনফরমেটিক্স একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়।
তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র মাতৃ-থেকে-জাইগোটিক ট্রানজিশন (Maternal-to-Zygotic Transition বা MZT)—ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সহজভাবে বললে, জীবনের শুরুতে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রোটিন ও জিনগত নির্দেশনার ওপর ভ্রূণের বিকাশ নির্ভর করে; পরে ধীরে ধীরে ভ্রূণের নিজের জিন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই বদলের সময় কোন প্রোটিন কীভাবে ভাঙে বা নষ্ট হয় এবং প্রজাতিভেদে এই প্রক্রিয়ায় কী পার্থক্য দেখা যায়—এই সূক্ষ্ম প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষভাবে Caenorhabditis প্রজাতির কৃমির বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ প্রজাতি নিয়ে কাজ করে তিনি প্রজাতির সীমারেখা (species boundaries) বোঝার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এই সাক্ষাৎকার সেশনটি কেবল গবেষণার গল্প শোনার আয়োজন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব পথনির্দেশের একটি সুযোগ। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হয়, স্কলারশিপ ও গবেষণাগারের সুযোগ খুঁজে বের করার কৌশল কী, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্কৃতির পার্থক্য কোথায়—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সানজিদার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে। যারা জীববিজ্ঞান, জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি কিংবা বায়োইনফরমেটিক্সে আগ্রহী, তাদের জন্য এই আলাপচারিতা হতে পারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক : https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারিদের মিটিংয়ের লিংক পাঠান হবে)
ইভেন্টের সময়: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, বিকাল ৩ (বাংলাদেশ সময়)
উপস্থাপক: জাকিয়া খাতুন তাকি
সহকারি উপস্থাপক: হাসনা বানু মুমু
বিজ্ঞানী অর্গ বিশ্বাস করে, তরুণদের সামনে বাস্তব রোল মডেলের গল্প তুলে ধরলে “আমি পারি” এই আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। সানজিদা আফরিনের যাত্রা দেখায়—ধাপে ধাপে এগোলে, সঠিক প্রস্তুতি নিলে এবং কৌতূহল ধরে রাখলে আন্তর্জাতিক গবেষণাজগতে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। তাই যারা বিজ্ঞানকে ভালোবাসেন, গবেষণাকে পেশা হিসেবে ভাবছেন কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন—তাদের সবাইকে এই অনলাইন সাক্ষাৎকার সেশনে যোগ দেওয়ার আন্তরিক আমন্ত্রণ। নিজের প্রশ্ন নিয়ে আসুন, অভিজ্ঞ গবেষকের কাছ থেকে শিখুন, আর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা নিয়ে ফিরুন।

Leave a comment