biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি পরিচিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন—থিসিস বা গবেষণার বিষয় অনেক সময় শিক্ষার্থীর আগ্রহ অনুযায়ী নয়, বরং লটারির মাধ্যমে বা পরিস্থিতির চাপে নির্ধারিত হয়ে যায়। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিটি গবেষণার মান ও শিক্ষার্থীর দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ—দুটোর ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গবেষণা এমন একটি কাজ, যা জোর করে করানো যায় না। একজন শিক্ষার্থীর ভেতর থেকে আগ্রহ ও কৌতূহল না এলে গবেষণার গভীরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থী কোনো একটি বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী, কিন্তু সুযোগের অভাবে তাকে অন্য একটি বিষয়ের থিসিস করতে হয়। এতে করে গবেষণার কাজটি কেবল একটি একাডেমিক শর্ত পূরণের কাজে পরিণত হয়, প্রকৃত অনুসন্ধান বা নতুন কিছু শেখার জায়গা কমে যায়।
ড. সাগর হোসেন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। যদিও তাঁর ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে পাওয়া গবেষণা বিষয়টি পরবর্তীতে ভালো অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল, তবু তিনি এটিকে একটি পদ্ধতিগত সমাধান হিসেবে সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, গবেষণার বিষয় নির্ধারণে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, প্রস্তাবনা ও সুপারভাইজারের দক্ষতার মধ্যে মিল থাকা জরুরি। এলোমেলোভাবে বিষয় বণ্টন করলে অনেক সময় শিক্ষার্থী ও গবেষণার বিষয়—দুটোর মধ্যেই দূরত্ব তৈরি হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি একটি বিকল্প পথের কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের উচিত সুযোগ পেলে নিজস্ব আগ্রহ অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা এবং সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা। সুপারভাইজার চাইলে সেই প্রস্তাবনাকে কিছুটা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীর আগ্রহ বজায় থাকে, আবার শিক্ষকের অভিজ্ঞতার আলোকে গবেষণার দিকটিও পরিণত হয়।
biggani.org–এ দেওয়া এই সাক্ষাৎকার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। গবেষণাকে যদি সত্যিকার অর্থে শেখার ও অনুসন্ধানের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে বিষয় বাছাইয়ের প্রক্রিয়াতেও শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর থাকা জরুরি—এই বার্তাই ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

Leave a comment