বর্তমান কর্মস্থল :
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথমেই তার সম্বন্ধে জানতে চাই
মুহাম্মদ রাফসান কবির সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক (BSc) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের Machine Intelligence Lab (MILab)-এ কর্মরত আছেন। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং পূর্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও মানবমূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মডেল উন্নয়নে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে, এই ক্ষেত্রেই উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বৈশ্বিক গবেষণায় অবদান রাখতে চান।
তার গবেষণার বিষয় কি?
তার গবেষণার মূল বিষয় হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিশেষ করে কম্পিউটার ভিশন (CV) ও ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP)। তিনি প্রধানত বৃহৎ ভাষা মডেল (Large Language Model – LLM) এবং সেগুলোকে মানুষের মতো যুক্তিবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার (AI Alignment and Reasoning) ওপর কাজ করেন। তার গবেষণার অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বহুভাষিক (Multilingual) NLP, যেখানে তিনি স্বল্প রিসোর্সের ভাষার, যেমন বাংলার, জন্য মডেল উন্নয়ন এবং বহুভাষিক তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য RAG সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করেছেন। এছাড়া, মাল্টিমোডাল ডেটা (টেক্সট ও ছবি) ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, যেমন রোগ নির্ণয়, তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তার গবেষণার কাজগুলি কিভাবে আমাদের উপকৃত করছে কিংবা করবে?
তার গবেষণার কাজগুলি সমাজ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিককে উন্নত করার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাঃ পূর্বে তিনি AI মডেলগুলোর নৈতিকতা ও মানবমূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার উপর কাজ করেছেন, যা AI সিস্টেমগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরাপদ করে তোলে। এই ধরনের গবেষণা নিশ্চিত করে যে, AI সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, পক্ষপাতহীন এবং মানব কল্যাণমুখী থাকবে, যা সমাজের প্রতি AI প্রযুক্তির আস্থা বাড়াবে।
২। স্বাস্থ্যসেবাঃ মাল্টিমোডাল ডেটা ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য তার গবেষণা স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, চিকিৎসা চিত্র এবং রিপোর্টের সম্মিলিত বিশ্লেষণ রোগ নির্ণয়ের সঠিকতা ও দ্রুততা বাড়ায়, যা রোগীদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করে।
৩। কম্পিউটেশনাল দক্ষতা (Computational efficiency): বৃহৎ ভাষা মডেল এবং অন্যান্য AI সিস্টেমের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তিনি কার্যকর অ্যালগরিদম ও মডেল ডিজাইন করছেন, যা কম সময় ও কম সম্পদের মধ্যে কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। এর ফলে কম্পিউটিং খরচ কমে এবং AI প্রযুক্তি আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে কম রিসোর্স সম্পন্ন পরিবেশে।
একজন বিজ্ঞানীর কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন?
একজন বিজ্ঞানীর যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে জিজ্ঞাসু মনোভাব। বিজ্ঞানী হতে হলে সবসময় প্রশ্ন করতে হবে, নতুন কিছু জানার আগ্রহ থাকতে হবে। “কেন?”, “কিভাবে?” এমন প্রশ্ন করতে হবে যেগুলো নতুন চিন্তা ও আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়।
দ্বিতীয়ত, ধৈর্য ও অধ্যবসায় থাকতে হবে। গবেষণায় ফলাফল পাওয়া সহজ নয়। অনেক সময় ব্যর্থতা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া খুব জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব। সমস্যার নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে এবং অজানা দিক আবিষ্কার করতে সৃজনশীল চিন্তা প্রয়োজন।
বিজ্ঞান সবসময় বদলাচ্ছে, তাই নতুন প্রযুক্তি, তথ্য ও পদ্ধতি শেখার ইচ্ছা ও ক্ষমতা থাকতে হবে। সর্বশেষ, বিজ্ঞানী হিসেবে সব তথ্য সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। ফলাফল নিজের মত করে পরিবর্তন করা বা তথ্য গোপন করা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য তার বার্তা
বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, আপনাদেরকে তিনি জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা!
বিজ্ঞানের পথ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হলেও এতে যে শক্তি ও সাফল্যের সুযোগ রয়েছে, তা অনন্য। নতুন কিছু শেখার জন্য কৌতূহল বজায় রাখো, ভুল থেকে ভয় পেও না, বরং সেগুলো থেকে শিখে এগিয়ে যাও। ধৈর্য ও অধ্যবসায় তোমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে। বিশ্বমানের গবেষণায় অবদান রাখতে তোমাদের প্রয়োজন হবে সততা, সৃজনশীলতা এবং একতা। নিজেকে নিয়মিত আপডেট রাখো। বিশ্বাস রাখো, তোমাদের পরিশ্রম ও উদ্ভাবন বাংলাদেশকে এবং গোটা পৃথিবীকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাহস নিয়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে এগিয়ে যাও — তোমরা পারবে!
📩 যোগাযোগের তথ্য
- Email: [email protected]
- LinkedIn: Muhammad Rafsan Kabir
- Website: sites.google.com/view/rafsankabir
- Google Scholar: Scholar Profile
Leave a comment