— গবেষণা, বৃত্তি ও বিজ্ঞানীর জীবনের গল্প শুনবেন সরাসরি একজন বিশ্বমানের বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর কাছ থেকে
বাংলাদেশি তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষণাপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ আসছে। বিজ্ঞানী ডট অর্গ আয়োজন করতে যাচ্ছে একটি অনন্য সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান, যেখানে সরাসরি কথা বলবেন দেশের অন্যতম সেরা কৃষিবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা গবেষক, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর্জা হাছানুজ্জামান। যিনি কেবল বাংলাদেশে নন, গোটা বিশ্বের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কৃষি গবেষণার অঙ্গনে একটি পরিচিত ও সম্মানিত নাম।
একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে বিশ্বমানের বিজ্ঞানী
অধ্যাপক ড. মীর্জা হাছানুজ্জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই, যেখানে তিনি কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। এরপর জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মনবুকাগাকুশো (MEXT) বৃত্তি নিয়ে তিনি জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ২০১২ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘উদ্ভিদের পরিবেশগত চাপ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিপাক’।
পিএইচডির পর তিনি থেমে থাকেননি। জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্স (JSPS)-এর পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ নিয়ে কাজ করেছেন ওকিনাওয়ার রিউকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এন্ডেভার রিসার্চ ফেলোশিপে ট্যাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। দেশে ফিরে ২০০৬ সালে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং মাত্র ১১ বছরের মধ্যে একাধিক দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে ২০১৭ সালে পূর্ণ অধ্যাপক হন — সবই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে।
গবেষণার জগতে যাঁর পদচিহ্ন বিশ্বজুড়ে
অধ্যাপক হাছানুজ্জামানের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও ভারী ধাতুর বিষক্রিয়ার মতো ভয়াবহ পরিবেশগত চাপের মুখে কৃষি ফসল কীভাবে টিকে থাকতে পারে? উদ্ভিদের ভেতরে কোন রাসায়নিক রক্ষা ব্যবস্থা কাজ করে? কীভাবে বাইরে থেকে কিছু প্রয়োগ করে ফসলের প্রতিরোধশক্তি বাড়ানো সম্ভব?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মৌলিক আবিষ্কার করেছেন, যা আজ বিশ্বজুড়ে উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন। তিনি প্রথমদিকের গবেষকদের মধ্যে একজন, যিনি প্রমাণ করেছেন যে উদ্ভিদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ষাব্যবস্থা ও গ্লাইঅক্সালেজ সিস্টেম একসাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে পরিবেশগত চাপ মোকাবিলায়।
তাঁর গবেষণার ফলাফল এখন কেবল গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ নেই — কানাডার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাকাডিয়ান প্ল্যান্ট হেলথ-এর সাথে চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, FAO, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ নানা সংস্থা তাঁর গবেষণায় অর্থায়ন করেছে।
তাঁর প্রকাশনার পরিসংখ্যান বলে দেয় এই মানুষটির বৈশ্বিক অবদান কতটা গভীর। স্কোপাসে তাঁর ৪৪৩টিরও বেশি প্রকাশনা রয়েছে, এবং সেগুলো উদ্ধৃত হয়েছে ৩৮,০০০-এরও বেশি বার। তাঁর h-index ৯৮, যা বিশ্বমানের গবেষকদের মধ্যেও বিরল। ২০টিরও বেশি বই সম্পাদনা করেছেন, লিখেছেন ৩০টিরও বেশি বই অধ্যায়। ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক জার্নালে তিনি সম্পাদক বা পর্যালোচক হিসেবে কাজ করছেন।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, তিনি ছিলেন ২০২১ ও ২০২২ সালে ক্লারিভেটের “Highly Cited Researcher” তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি-অ্যাফিলিয়েটেড বিজ্ঞানী — অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের একজন।
কেন এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের লাখো তরুণ স্বপ্ন দেখেন বিজ্ঞানী হওয়ার, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার, বৃত্তি পাওয়ার। কিন্তু প্রায়ই প্রশ্ন আসে — কোথা থেকে শুরু করব? কীভাবে বৃত্তির জন্য আবেদন করব? গবেষণা কীভাবে করতে হয়? কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র লিখতে হয়?
অধ্যাপক হাছানুজ্জামান নিজে এই পথ পার করেছেন — বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে, জাপান সরকারের বৃত্তিতে পিএইচডি করে, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণা করে, এবং দেশে ফিরে আবার বিশ্বমানের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ৩০টিরও বেশি দেশের গবেষকদের সাথে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন এবং তাঁর পরিচালনায় ৫০-এর বেশি মাস্টার্স শিক্ষার্থী ও পাঁচজন পিএইচডি শিক্ষার্থী গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
তাঁর কাছ থেকে সরাসরি শেখার এই সুযোগ সত্যিকারের মূল্যবান। কারণ তিনি কেবল একজন সফল বিজ্ঞানী নন — তিনি একজন শিক্ষক, একজন পথপ্রদর্শক, যিনি বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে সামনে রেখে কাজ করছেন।
তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার সুযোগ
তুমি কি কৃষিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে পড়তে বা গবেষণা করতে আগ্রহী? তুমি কি জাপান, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির কথা ভাবছ? তুমি কি জানতে চাও কীভাবে একটি গবেষণাগার গড়ে তোলা যায়, কীভাবে আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা ছাপানো যায়, কিংবা কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সাথে কাজ করা যায়?
এই সাক্ষাৎকারে সেই সুযোগ তোমার সামনে খোলা থাকবে। একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনে এই সবকিছু করে দেখিয়েছেন, তিনি তোমার মতো তরুণদের সাথে ভাগ করে নেবেন তাঁর অভিজ্ঞতা, তাঁর পথের বাঁকের গল্প এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর অদম্য ভালোবাসার কথা।
বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির (TWAS) ইয়াং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের স্বর্ণপদকসহ দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত এই বিজ্ঞানীর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার এই মুহূর্তটি মিস করার নয়।
আমন্ত্রণ: যোগ দিন এই বিশেষ আয়োজনে
বিজ্ঞানী ডট অর্গ সবসময় বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশের তরুণরা বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক। অধ্যাপক ড. মীর্জা হাছানুজ্জামানের সাথে এই সাক্ষাৎকার সেই আলোর একটি নতুন উৎস হয়ে উঠবে — যা হয়তো তোমার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থী, যিনি বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী, তাঁদের সবাইকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বিজ্ঞানী ডট অর্গ।
অনুষ্ঠানের তথ্য
📌 রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/CtZfLDDr5tGcKRCn6
(শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনকারীদের কাছে মিটিং লিঙ্ক পাঠানো হবে)
ইভেন্টের সময়: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (শুক্রবার), সকাল ১০টা বাংলাদেশ সময়
উপস্থাপক: জাকিয়া খাতুন তাকি
সহকারী উপস্থাপক: হাসনা বানু মুমু
বিজ্ঞানী অর্গ-এর সঙ্গে থাকুন, শিখুন, প্রশ্ন করুন, আর জানুন গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।

Leave a comment