বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধারণা নয়—এটি ধীরে ধীরে আমাদের ব্যক্তিগত সহকারী, গবেষণা সহচর এবং তথ্য বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। বিশেষ করে “AI agent” ধারণাটি এখন খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। AI agent বলতে আমরা এমন একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমকে বুঝি, যা নিজে থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে—মানুষের খুব কম হস্তক্ষেপেই।
আমি নিজেও এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একটি ছোট কিন্তু কার্যকর AI agent তৈরি করেছি, যার মূল কাজ হচ্ছে আমার জন্য প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল বা লেখা খুঁজে বের করা। একজন কলাম বা অপ-এড লেখক হিসেবে আমার প্রতিদিনই জানতে হয়—বিশ্বে বা বিশেষ করে বাংলা ভাষায়—কোন কোন বিষয় নিয়ে লেখা হচ্ছে, কোন বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে, এবং অন্যান্য লেখকরা কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে এই তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ক্লান্তিকর।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আমি যে AI agent তৈরি করেছি, সেটি মূলত ইন্টারনেটের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন আর্টিকেল সংগ্রহ করে। এখানে Python ভাষা ব্যবহার করে requests এবং BeautifulSoup (bs4) লাইব্রেরির মাধ্যমে ওয়েবপেজ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যেসব ওয়েবসাইট JavaScript নির্ভর এবং সরাসরি ডাটা পাওয়া যায় না, সেখানে Playwright ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল ব্রাউজারের মাধ্যমে পেজ লোড করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই তো কাজ শেষ হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রাসঙ্গিকতা। আমি সব ধরনের খবর বা লেখা দেখতে চাই না; আমি চাই শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলো, যা আমার আগ্রহের সাথে সম্পর্কিত এবং আমার লেখালেখির কাজে সহায়ক। এখানেই AI-এর ব্যবহার আসে। আমার এই সিস্টেমে একটি classification বা বাছাই করার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে AI মডেল ব্যবহার করে প্রতিটি আর্টিকেল যাচাই করা হয়—এটি আমার নির্ধারিত বিষয়বস্তুর সাথে কতটা সম্পর্কিত। ফলে অপ্রাসঙ্গিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুনরাবৃত্তি এড়ানো। একই আর্টিকেল যেন বারবার না আসে, তার জন্য একটি তালিকা রাখা হয় যেখানে আগে দেখা URL সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে প্রতিবার শুধুমাত্র নতুন এবং অদেখা কনটেন্টই আমার সামনে আসে।
সবশেষে, এই পুরো প্রক্রিয়ার ফলাফল আমাকে জানানো হয় খুব সহজ একটি মাধ্যমে—Telegram। একটি Telegram Bot API ব্যবহার করে আমার AI agent নতুন আর্টিকেলগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সাজিয়ে সরাসরি আমার মোবাইলের Telegram চ্যানেলে পাঠিয়ে দেয়। ফলে আমি যেখানেই থাকি না কেন, মুহূর্তের মধ্যে জানতে পারি নতুন কী লেখা হয়েছে, কোন বিষয়গুলো এখন আলোচনায় রয়েছে।
এই পুরো সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট সময় পরপর চালানোর জন্য Linux-এর cron ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে আমাকে আলাদা করে কিছুই চালাতে হয় না। এটি নিজের মতো করে কাজ করে যায়—একজন নিরব সহকারীর মতো।
সহজভাবে বললে, এই AI agent আমার জন্য এক ধরনের “ডিজিটাল গবেষণা সহকারী”, যে সারাক্ষণ ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়িয়ে আমার পছন্দের বিষয়গুলো খুঁজে বের করে, যাচাই করে এবং আমাকে জানিয়ে দেয়। এর ফলে আমি অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক কনটেন্টে মনোযোগ দিতে পারি।
বর্তমান সময়ে, যেখানে তথ্যের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে, সেখানে এই ধরনের AI agent শুধু সময় বাঁচায় না—এটি আমাদের চিন্তাভাবনাকে আরও ধারালো করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা লেখালেখি, গবেষণা বা বিশ্লেষণমূলক কাজের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য এটি এক অনন্য সহায়ক প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।
গিটহাবে এজেন্টটির বিস্তারিত কোড দেখুন: https://github.com/drmashiur/oped-agent/

Leave a comment