পদার্থবিদ্যাসাধারণ বিজ্ঞান

উপাদানের ভেতরের গল্প: মাইক্রোস্ট্রাকচার কীভাবে বদলে দেয় ব্যবহারযোগ্যতা

Share
Share

biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন উপাদান বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—প্রসেসিং–স্ট্রাকচার–প্রপার্টি সম্পর্ক। কথাটি শুনতে জটিল মনে হলেও তিনি দেখিয়েছেন, বিষয়টি আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি একটি সাধারণ পানির বোতলের উদাহরণ দেন। একই ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বোতল কখনো খুব স্বচ্ছ ও চকচকে হয়, আবার কখনো হালকা ঘোলা বা ধোঁয়াটে দেখায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, উপাদান তো একই—তবু এমন পার্থক্য কেন? ড. সাগর হোসেনের ব্যাখ্যায় এই পার্থক্যের মূল কারণ লুকিয়ে আছে উপাদানটি কীভাবে প্রসেস করা হয়েছে, তার ভেতরের গঠন কেমন হয়েছে এবং সেই গঠনের ফলেই বাহ্যিক গুণাগুণ কেমন দাঁড়িয়েছে—এই তিনটির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্লাস্টিককে যখন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে বোতল তৈরি করা হয়, তখন সেটিকে যদি খুব দ্রুত ঠান্ডা করা হয়, তাহলে বোতলটি বেশি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার দেখা যায়। ভেতরের পানীয় বা তরলও সহজে চোখে পড়ে। কিন্তু একই উপাদান যদি গলানোর পর ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হয়, তাহলে বোতলটি আর ততটা স্বচ্ছ থাকে না; কিছুটা ঘোলা ভাব চলে আসে। অর্থাৎ একই প্লাস্টিক, কিন্তু ভিন্নভাবে ঠান্ডা করার কারণে ভেতরের গঠন বদলে যায়, আর সেই বদলে যাওয়া গঠনের ফলেই বাহ্যিক গুণাগুণও বদলে যায়।

ড. সাগর হোসেন এই উদাহরণ দিয়ে বোঝান, উপাদান বিজ্ঞান শুধু “কী দিয়ে তৈরি” এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়, বরং “কীভাবে তৈরি করা হলো” সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উপাদান কোন তাপে গলানো হলো, কত দ্রুত ঠান্ডা করা হলো—এই প্রক্রিয়াগত পার্থক্য ভেতরের মাইক্রোস্ট্রাকচারকে বদলে দেয়। আর সেই মাইক্রোস্ট্রাকচারই নির্ধারণ করে উপাদানটি শক্ত হবে না দুর্বল হবে, স্বচ্ছ হবে না ঘোলা হবে, বা নির্দিষ্ট কাজে কতটা উপযোগী হবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানায় যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপাদান বাছাই করা হয়, তখন শুধু উপাদানের নাম জানা যথেষ্ট নয়। কোন কাজে কতটা শক্ত দরকার, কতটা নমনীয়তা দরকার, কিংবা উপাদানটি দেখতে কেমন হওয়া দরকার—এই সব চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে প্রসেসিং পদ্ধতিও ঠিক করতে হয়। একই উপাদান ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রসেস করলে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন উপাদান বিজ্ঞানের একটি মৌলিক সত্য তুলে ধরেন—প্রসেসিং, ভেতরের গঠন এবং বাহ্যিক গুণাগুণ—এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। উপাদানকে কীভাবে তৈরি করা হলো, সেটাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে আমরা সেই উপাদানটি দিয়ে কী করতে পারব। biggani.org–এর এই সাক্ষাৎকারে তাঁর দেওয়া সহজ উদাহরণ সাধারণ পাঠকের কাছেও উপাদান বিজ্ঞানের জটিল ধারণাকে বোধগম্য করে তোলে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: ড. মশিউর রহমান

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org