উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগসাধারণ বিজ্ঞান

মেটেরিয়াল সায়েন্সে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যে বাস্তবতা জানা জরুরি

Share
Share

biggani.org–এ নেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ সাগর হোসেন বাংলাদেশে উপাদান বিজ্ঞান বা মেটেরিয়াল সায়েন্স পড়াশোনা ও এই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, এই বিষয়টি বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ সীমিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি বা ফিজিক্স বিভাগ থাকলেও মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সমন্বিত বিভাগ এখনো খুব একটা সহজলভ্য নয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, মেটেরিয়াল সায়েন্স এমন একটি বিষয়, যেখানে কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জ্ঞান একসঙ্গে কাজ করে। এই সমন্বিত চরিত্রের কারণে বিষয়টি পড়তে গেলে বিভিন্ন শাখার মৌলিক ধারণা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু এই বিষয়টি আলাদা বিভাগ হিসেবে খুব বেশি প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই এটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ কম পায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বা ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সময় মেটেরিয়াল সায়েন্স অনেকের ভাবনায়ই আসে না।

ড. সাগর হোসেন আরও বলেন, শুধু পড়াশোনার সুযোগ কম থাকাই নয়, এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পর দেশে সরাসরি প্রয়োগের জায়গাও সীমিত। বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় সাধারণত কেমিস্ট্রি বা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্র্যাজুয়েটদের বেশি চাহিদা দেখা যায়। মেটেরিয়াল সায়েন্সের বিশেষজ্ঞদের জন্য আলাদা করে পদ বা গবেষণার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, এই বিষয়ে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে সরাসরি সুযোগ পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই বাস্তবতাও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ।

সাক্ষাৎকারে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, শিল্পকারখানা ও প্রকৌশল খাতে উপাদান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মেটেরিয়াল সায়েন্টিস্টের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি যতদিন না প্রতিষ্ঠানগুলো উপলব্ধি করবে, ততদিন এই বিষয়ের গুরুত্বও বাড়বে না। কোন কাজে কোন ধরনের অ্যালয় বা উপাদান সবচেয়ে উপযোগী হবে—এই সিদ্ধান্ত নিতে হলে উপাদানের গুণাগুণ ও গঠন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দরকার হয়। এই জ্ঞান ছাড়া অনেক সময় কাজের জন্য সঠিক উপাদান নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ড. সাগর হোসেনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশে মেটেরিয়াল সায়েন্সের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে সচেতনতা ও প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরির ওপর। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদেরও এই বিষয়ে আগ্রহী হতে হবে। biggani.org–এ দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকার এই বাস্তবতাগুলো নতুন করে সামনে এনে দেয় এবং তরুণদের ভাবতে শেখায়—উপাদান বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়, বরং শিল্প ও উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি ক্ষেত্র।

ড. মোহাম্মদ আতাউল করিমের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি ইমেইল নিউজলেটারে সাবক্রাইব করে নিন। আমাদের নতুন লেখাগুলি পৌছে যাবে আপনার ইমেইল বক্সে।

বিভাগসমুহ

Related Articles

বিজ্ঞানী অর্গ দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জীবন ও গবেষণার গল্পগুলি নবীন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিচ্ছে।

Contact:

biggani.org@জিমেইল.com

সম্পাদক: ড. মশিউর রহমান

Biggani.org connects young audiences with researchers' stories and insights, cultivating a deep interest in scientific exploration.

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ইমেইল নিউজলেটার, টেলিগ্রাম, টুইটার X, WhatsApp এবং ফেসবুক -এ সাবস্ক্রাইব করে নিন।

Copyright 2024 biggani.org