অনেকদিন পর একটা তথ্যবহুল লেখা লিখতে বসলাম। ব্যস্ততার মধ্যে খুব একটা লিখালিখি হয়ে উঠছে না।
কিন্তু আজ একটা প্রশ্ন মাথা ছাড়ছে না—
ঈদ কি বদলে গেছে… নাকি বদলে গেছি আমরা?
কেন ছোটবেলার ঈদের মতো উত্তেজনা এখন আর আসে না?
কেন নতুন জামা গায়ে দিলেও আগের মতো বুক ধড়ফড় করে না?
কেন পরিবারের সবাই একসাথে বসেও কোথাও যেন একটা অদৃশ্য দূরত্ব থেকে যায়?
নাকি আনন্দের সংজ্ঞাটাই চুপচাপ বদলে গেছে আমাদের অজান্তেই?
ছোটবেলার ঈদ: আনন্দের স্পাইক
একটা সময় ছিল, ঈদের আগের রাত মানেই ছিল ঘুমহীন উত্তেজনা।
চাঁদ দেখার পর থেকেই যেন পুরো পৃথিবীটা অন্যরকম হয়ে যেত।
নতুন জামার ঘ্রাণ, সকালে সেমাইয়ের গরম ধোঁয়া, ঈদের নামাজ শেষে সবার সাথে কোলাকুলি—সবকিছুই ছিল তীব্র, গভীর, জীবন্ত।
আর এখন?
সবই আছে। কিন্তু কোথাও যেন intensity কমে গেছে।
একটা “ঠিক আছে” টাইপের অনুভূতি—না খুব খারাপ, না খুব ভালো।
ডোপামিন: আনন্দের অপেক্ষার রাসায়নিক
এই পরিবর্তনটা কি শুধু সময়ের? নাকি আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরেই কিছু বদলে গেছে?
আমাদের আনন্দ, উত্তেজনা, motivation সবকিছুর পেছনে কাজ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার: ডোপামিন।
ডোপামিনকে আমরা সাধারণত “pleasure chemical” বলি, কিন্তু আসলে এটি anticipation chemical।
মানে, আনন্দ পাওয়ার চেয়ে আনন্দের অপেক্ষা করার সময় ডোপামিন বেশি কাজ করে।
ছোটবেলায় ঈদের আগে কেন এত excitement হতো? কারণ তখন প্রতিটি জিনিস ছিল rare:
- বছরে ১–২টা নতুন জামা
- নির্দিষ্ট কিছু মজার খাবার
- সীমিত আনন্দের সুযোগ
এই anticipation-ই ডোপামিনকে বাড়িয়ে দিত।
আধুনিক যুগে ডোপামিনের over-availability
এখন আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে আনন্দ rare না, বরং over-available।
প্রতিদিনই আমরা ছোট ছোট “ডোপামিন হিট” পাই—
- সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল
- reels, shorts
- gaming
- instant entertainment
এই constant stimulation আমাদের brain এর reward system কে একটা নতুন baseline এ নিয়ে গেছে।
আগে যেখানে ঈদ ছিল একটা বড় spike, এখন সেটা হয়ে গেছে:
just another day with slightly better food and clothes.
Brain এমন একটা interesting কাজ করে—যা বারবার পায়, সেটাকে “normal” বানিয়ে ফেলে।
এটাকে বলে dopamine baseline shift।
ফলাফল:
- নতুন জামা = expected
- ঈদের দিন = প্রতিদিনের মধ্যে শুধু একটু better
তুলনা এবং dissatisfaction
আরেকটা বড় ফ্যাক্টর: তুলনা।
আগে আমরা নিজের ঈদ নিয়ে খুশি থাকতাম।
এখন ঈদের দিনেও দেখি—
- কে কোথায় ঘুরতে গেছে
- কার outfit কত দামি
- কার celebration কত grand
এই comparison subtle dissatisfaction তৈরি করে।
আপনি হয়তো ভালো আছেন, কিন্তু অন্য কাউকে “আরও ভালো” দেখতে পেলে আপনার আনন্দ অটোমেটিক কমে যায়।
present moment এ থাকা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো এটা—
আমরা কি সত্যিই ঈদের মুহূর্তগুলোতে present থাকি?
নাকি—ছবি তোলার জন্য খাই? পোস্ট দেওয়ার জন্য হাসি? story দেওয়ার জন্য ঘুরি?
যখন real experience এর চেয়ে documentation-এ বেশি focus করি, emotion এর depth কমে যায়।
আনন্দ ফিরে পাওয়ার কিছু উপায়
যদি আমরা চাই, আনন্দ আবার আগের মতো অনুভব করা সম্ভব। কিছু চেষ্টা করা যেতে পারে—
- ডোপামিন detox: ঈদের আগে social media কমানো
- Anticipation তৈরি করা: নিজেকে কিছু জিনিস থেকে বিরত রাখা
- ছোট ছোট জিনিসকে special বানানো
- Comparison কমিয়ে gratitude বাড়ানো
- মুহূর্তে থাকা (be present)
চূড়ান্ত বার্তা
ঈদ বদলায়নি।
ঈদের চাঁদ এখনো একই রকম ওঠে,
সকালের বাতাস এখনো একই রকম নির্মল,
মানুষের ভালোবাসাও কমে যায়নি।
বদলটা হয়েছে—আমাদের অনুভব করার ক্ষমতায়।
হয়তো আমাদের আবার শিখতে হবে,
- কীভাবে কম জিনিসে বেশি আনন্দ পাওয়া যায়
- কীভাবে একটা মুহূর্তকে সত্যিকারভাবে বাঁচা যায়
তাহলে হয়তো একদিন—
হঠাৎ করে মনে হবে,
“ঈদটা আবার আগের মতো লাগছে…”
মো. ইফতেখার হোসেন
এমবিবিএস ২য় বর্ষ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ
আগ্রহের ক্ষেত্র: আচরণবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, অভ্যাসবিজ্ঞান

Leave a comment