বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ইতিহাসে কিছু মানুষের নাম এমনভাবে জড়িয়ে থাকে, যাঁরা কেবল গবেষণাগারে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করেন না, একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের জন্য পথ তৈরি করে দেন। ডক্টর মোহাম্মদ আতাউল করিম তেমনই একজন বিজ্ঞানী ও একাডেমিক নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রভোস্ট ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অপটিক্স, ইলেকট্রনিক্স, নাইট ভিশন ডিসপ্লে ও অপটিক্যাল কম্পিউটিংয়ের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণা করে আসছেন। তাঁর জীবনকথা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি এক ধরনের দিকনির্দেশনা, যেখানে বিজ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব এবং দলগত সাফল্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
বিজ্ঞানের পথে যাত্রা: পদার্থবিজ্ঞান থেকে প্রকৌশলে
ডক্টর করিমের একাডেমিক যাত্রার শুরু পদার্থবিজ্ঞানে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন তিনি। মাস্টার্স পর্যায়ে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বায়োফিজিক্স—বিশেষ করে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা। এখানে “ক্রিস্টাল স্টাডিজ” বলতে বোঝানো হয় অণু-পরমাণুর গঠন কীভাবে সাজানো থাকে এবং সেই গঠনের পরিবর্তনে কোনো বস্তু বা কোষে কী ধরনের প্রভাব পড়ে। সহজভাবে বললে, যেমন লবণের দানার ভেতরের গঠন বদলালে তার ভৌত বৈশিষ্ট্য বদলায়, তেমনি জীবদেহে ক্ষতিকর ক্রিস্টালের গঠন বদলালে রোগ সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই বিষয়গুলো বোঝাই ছিল তাঁর গবেষণার লক্ষ্য।
পরবর্তীতে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চলে যান। সেখানে তাঁর কাজের পরিসর বিস্তৃত হয় ইমেজ প্রসেসিং ও ইনফরমেশন প্রসেসিংয়ে। ইমেজ প্রসেসিং মানে কম্পিউটারের মাধ্যমে ছবি বিশ্লেষণ ও উন্নত করা—যেমন মেডিকেল স্ক্যান বা স্যাটেলাইট ছবিতে ক্ষুদ্র কোনো তথ্য খুঁজে বের করা। আর ইনফরমেশন প্রসেসিং মূলত তথ্যকে কীভাবে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, সেই পদ্ধতি নিয়ে কাজ।
আলোর পথে গবেষণা: অপটিক্যাল কম্পিউটিংয়ের ধারণা
ডক্টর করিমের গবেষণা-জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অপটিক্যাল কম্পিউটিং। প্রচলিত কম্পিউটার ইলেকট্রনিক সিগনালের মাধ্যমে কাজ করে—বিদ্যুতের প্রবাহে তথ্য আদান-প্রদান হয়। কিন্তু ইলেকট্রনিক প্রসেসরের একটি সীমাবদ্ধতা আছে: খুব বেশি দ্রুততায় কাজ করলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং গতির সীমায় পৌঁছাতে হয়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেন, আলোকে ব্যবহার করে কি কম্পিউটিং করা যায় না?
অপটিক্যাল কম্পিউটিং মূলত এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে—আলোকে ব্যবহার করে গণনা করা। আলো একসঙ্গে বহু পথে ছড়িয়ে যেতে পারে; ফলে একে সমান্তরালভাবে ব্যবহার করা যায়। ডক্টর করিমের ভাষায়, আলোকে “টু-ডাইমেনশনাল প্যারালাল প্রসেসর” হিসেবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক প্রসেসরের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগতির কম্পিউটেশন সম্ভব হতে পারে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের “স্টার ওয়ার্স” প্রতিরক্ষা কর্মসূচির মতো বৃহৎ প্রকল্পে অত্যন্ত দ্রুত কম্পিউটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এই গবেষণাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল।
এই গবেষণাগুলো শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। অপটিক্যাল ডিসপ্লে, নাইট ভিশন প্রযুক্তি এবং সেন্সরভিত্তিক সিস্টেমে তাঁর কাজ বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নাইট ভিশন ডিসপ্লে বলতে আমরা সাধারণত রাতের অন্ধকারে সামরিক বা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত বিশেষ ক্যামেরা ও পর্দার কথা বুঝি, যেখানে খুব কম আলোতেও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়।
গবেষণা থেকে নেতৃত্ব: অবকাঠামো গড়ে তোলার দর্শন
ডক্টর করিমের ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একাডেমিক নেতৃত্ব। তিনি শুধু নিজে গবেষণা করেই সন্তুষ্ট থাকেননি; বরং গবেষণার পরিবেশ ও অবকাঠামো তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেটন, ওহাইওতে তিনি একটি ইলেকট্রো-অপটিক্স প্রোগ্রাম গড়ে তোলেন, যা বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি বিশেষায়িত প্রোগ্রামের একটি। পরে নিউ ইয়র্কে তিনি একটি বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি গবেষণা অবকাঠামোকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ৫০ মিলিয়নের বেশি তহবিলে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেন।
তাঁর নেতৃত্বের দর্শনের মূল কথা হলো দল গঠন। তিনি বলেন, “বেশি কথা না বলে বেশি শোনা”—এই নীতিই ভালো দল গঠনের প্রথম শর্ত। নেতৃত্ব মানে দ্রুত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাঁর মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রে একসঙ্গে সেরা হতে পারে না। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির করে সেখানেই বিনিয়োগ ও জনবল উন্নয়ন করতে হয়। এই প্রক্রিয়াকে তিনি “কন্ট্রোল সিস্টেম”-এর সঙ্গে তুলনা করেন—যেখানে নিয়মিত সমন্বয় ও সংশোধনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সম্ভাবনা
ডক্টর করিম নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের গবেষণা পরিবেশ যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুবিধাসম্পন্ন নয়। পর্যাপ্ত তহবিল, অবকাঠামো ও শিল্পখাতের সম্পৃক্ততার অভাব রয়েছে। তবুও তিনি বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা দেখেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করতে সক্ষম। তিনি পরিবর্তন আনতে চান ভেতর থেকে—স্থানীয় বাস্তবতায় যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল: বই, প্যাটেন্ট ও শত শত গবেষণা
ডক্টর করিমের ঝুলিতে রয়েছে প্রায় আটটি বই, দুটি প্যাটেন্ট এবং তিন শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ। অপটিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও নাইট ভিশন ডিসপ্লের মতো ক্ষেত্রে তাঁর এই বিপুল অবদান একক প্রচেষ্টার ফল নয়। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, তাঁর শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরাই অনেক সময় নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছেন। একজন বিজ্ঞানীর সাফল্য আসলে একটি সম্মিলিত প্রয়াসের ফল—যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা একে অপরের কাঁধে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যান।
তরুণদের জন্য বার্তা: বড় ছবিটা দেখতে শেখো
বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ও ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের জন্য ডক্টর করিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো “বড় ছবিটা দেখতে শেখা”। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আমরা সাধারণত খুব সংকীর্ণভাবে কোনো একটি সমস্যায় ডুবে যাই। এটি প্রয়োজনীয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে হলে সমস্যাটিকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখতে জানতে হবে—এই গবেষণার সামাজিক, অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত প্রভাব কী? কীভাবে অন্য ক্ষেত্রের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়?
তিনি মনে করিয়ে দেন, আধুনিক গবেষণা শুধু ল্যাবের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে আইনগত বিষয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক প্রয়োগ, মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) এবং বাজারজাতকরণের মতো বিষয়ও জড়িয়ে থাকে। একজন সফল বিজ্ঞানী হতে হলে দলগতভাবে কাজ করা, অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং নিজের কাজকে বৃহত্তর সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে শেখা জরুরি।
অনুপ্রেরণার আলো
ডক্টর মোহাম্মদ আতাউল করিমের জীবনপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞানচর্চা কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। তাঁর গবেষণার আলোকচ্ছটা যেমন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে আলোকিত করছে, তেমনি তাঁর নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য পথ দেখাচ্ছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সম্ভাবনার আলো খুঁজে নেওয়ার এই দর্শন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এই আলোয় অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আরও অনেক তরুণ বিজ্ঞানী গবেষণার পথে এগিয়ে আসে, তবে সেটিই হবে ডক্টর করিমের দীর্ঘ যাত্রার সবচেয়ে বড় অর্জন—জাতির জন্য এক গর্বের উত্তরাধিকার।
তারিখ: ২রা জুন ২০০৬ (১২ মিনিট)
তাঁর জীবনী:
মোহাম্মদ এ. করিম বর্তমানে ভার্জিনিয়ার নরফোকের অল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে (ODU) গবেষণা বিভাগের উপ-প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উদ্যোগ পরিচালিত হয়, যার বার্ষিক গবেষণা ব্যয় $৫০ মিলিয়ন, এবং এতে ছয়টি কলেজ, ২০টিরও বেশি গবেষণা কেন্দ্র, ৬০০+ শিক্ষক এবং ৫০০০+ স্নাতকোত্তর ছাত্র-ছাত্রী জড়িত। করিম ভার্জিনিয়া রাজ্য সরকারের গবেষণা ও প্রযুক্তি পরামর্শ কমিশনের (VRTAC) সদস্য, এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিজ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (SURA) বোর্ড সদস্য। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং এবং তথ্য প্রযুক্তি সম্মেলনের (ICCIT) আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। করিম অপটিক্স এবং লেজার প্রযুক্তির উত্তর আমেরিকার সম্পাদক, IEEE ট্রানজেকশন্স অফ এডুকেশন-এর অ্যাসোসিয়েট এডিটর, এবং মাইক্রোওয়েভ এবং অপটিক্যাল টেকনোলজি লেটার্স-এর সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য। তিনি ১৬টি প্রযুক্তিগত জার্নাল ইস্যুর অতিথি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।
ODU-তে যোগ দেওয়ার আগে, মোহাম্মদ করিম সিটি কলেজ অব নিউ ইয়র্ক, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে ২০০০-২০০৪ সাল পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন, ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত টেনেসি ইউনিভার্সিটির বৈদ্যুতিক ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এবং ১৯৯৪-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ডে টন ইউনিভার্সিটির বৈদ্যুতিক ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ার এবং ইলেকট্রো-অপটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।
করিম ৮টি পাঠ্য ও রেফারেন্স বই, ৩২৫টিরও বেশি গবেষণাপত্র, ৬টি বইয়ের অধ্যায়, ১০টি বইয়ের পর্যালোচনা, ২টি ইউএস পেটেন্ট এবং অসংখ্য প্রযুক্তিগত রিপোর্ট ও সম্পাদকীয় রচনা করেছেন। তার বইগুলি, যেমন ডিজিটাল ডিজাইন: আ প্রাগমেটিক অ্যাপ্রোচ (১৯৮৭), ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ডিভাইসেস অ্যান্ড সিস্টেমস (১৯৯০), অপটিক্যাল কম্পিউটিং: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন (১৯৯২), ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ডিসপ্লেস (১৯৯২), কনটিনিউয়াস সিগন্যালস অ্যান্ড সিস্টেমস উইথ ম্যাটল্যাব (২০০১), এবং কন্টেম্পোরারি ডিজিটাল ডিজাইন (২০০৫) বিশ্বব্যাপী অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি অপটিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকা (OSA), সোসাইটি অফ ফটো-ইন্সট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ার্স (SPIE), এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (BAS)-এর নির্বাচিত ফেলো এবং আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড ইঞ্জিনিয়ারিং ফেলো।
করিমের গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে অপটিক্যাল কম্পিউটিং, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্যাটার্ন/টার্গেট স্বীকৃতি, রাতের দর্শন, ডিসপ্লে, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেম এবং সেন্সর অন্তর্ভুক্ত। তার অতীত ও বর্তমান গবেষণা স্পনসরদের মধ্যে ইউএস এয়ার ফোর্স, নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি, ইউএস আর্মি, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, NASA, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এডুকেশন, ওহিও অ্যারোস্পেস ইনস্টিটিউট, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স এবং রাইট-প্যাটারসন এয়ার ফোর্স বেস অন্তর্ভুক্ত। তার একাডেমিক ক্যারিয়ারে করিম ৫৫টি MS/PhD ছাত্র-ছাত্রীর গবেষণা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।
মোহাম্মদ করিম ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন, বাংলাদেশের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং সিলেট গভার্নমেন্ট কলেজে তার প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্ন করেন, এবং ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় বিএস অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন, ১৯৭৮ সালে পদার্থবিদ্যায় এমএস, ১৯৭৯ সালে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস, এবং ১৯৮১ সালে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ হাইয়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৩৯,৪৮৮ ছাত্রের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৬৯ সালে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৬৪,৪৩২ ছাত্রের মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।
ড. করিম একাধিক পুরস্কারের অধিকারী: আউটস্ট্যান্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৮), আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৪), অ্যালামনি অ্যাওয়ার্ড ইন স্কলারশিপ (১৯৯১), NASA টেক ব্রিফ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০), আপ অ্যান্ড কমার্স এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০), এবং NCR স্টেকহোল্ডার অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯)। তাকে আমেরিকান মেন অ্যান্ড উইমেন ইন সায়েন্স, মার্কুইস ইন্টারন্যাশনাল হু’স হু ইন অপটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, হু’স হু ইন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, হু’স হু ইন আমেরিকা, আউটস্ট্যান্ডিং পিপল অফ দ্য ২০থ সেঞ্চুরি, ডিকশনারি অফ ইন্টারন্যাশনাল বায়োগ্রাফি, এবং ২০০০ আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্টস অফ দ্য ২০থ সেঞ্চুরি-তে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ড. করিম এবং তার স্ত্রী সেটারা ভার্জিনিয়া বিচ, ভার্জিনিয়ায় বসবাস করেন, তাদের একটি পুত্র, লুৎফী, এবং দুইটি কন্যা, লামিয়া এবং আলিয়া রয়েছেন।

Leave a comment