একসময় সায়েন্স ফিকশনের মতো শোনালেও, এখন এই ধারণার পেছনে দাঁড়াচ্ছেন বিলিয়নিয়ার থেকে শুরু করে সিটি কাউন্সিল পর্যন্ত অনেকে। তবে এটি আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, সেটি একেবারেই ভিন্ন প্রশ্ন।
ডেটা সেন্টার তৈরি ও ভাড়া দেওয়া কোম্পানিগুলো জানে যে তারা বিদ্যুৎ গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করছে, নির্গমন বাড়াচ্ছে এবং প্রচুর পানি খরচ করছে। কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে এই বিপুল পরিসরের স্থাপনাগুলোর অর্ধেকেরও বেশি শক্তি আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলার অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সবচেয়ে বড় AI কোম্পানিগুলোর কিছু বলছে তাদের সমাধান আছে: বিশাল কম্পিউটার ক্লাস্টারগুলো মহাকাশে পাঠিয়ে দেওয়া। ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি অনুমান করি, সময়ের সাথে সাথে পৃথিবীর একটা বড় অংশই ডেটা সেন্টারে ঢাকা পড়ে যাবে।” অল্টম্যান এমনকি ধারণা দিয়েছেন, তিনি ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে রাজি এবং ওপেনএআই-ও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের স্টারগেট প্রকল্পের অংশ।
অল্টম্যান স্বীকার করেন যে অনেকে এ ধারণা পছন্দ করবে না। তাই তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন—“হয়তো আমরা এগুলো মহাকাশেই বসাই।” তার মতে, সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো নেই, তবে এই পথ খোঁজা জরুরি।
শুধু অল্টম্যান নন, জেফ বেজোস এবং এরিক শমিটও এই ধারণায় বিনিয়োগ করছেন। অল্টম্যান এক ধাপ এগিয়ে এমনকি সূর্যের চারপাশে ডেটা সেন্টারের ডাইসন স্ফিয়ার গড়ার কথাও বলেছেন। তবে এত বিশাল কাঠামো তৈরির জন্য পৃথিবীর সব সম্পদের চেয়েও বেশি লাগবে, যা পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে পারে। বাস্তবতার কাছাকাছি কিছু উদ্যোগ অবশ্য ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। স্টারক্লাউড, অ্যাক্সিওম এবং লোনস্টার ডেটা সিস্টেমস এর মতো স্টার্টআপ কোটি কোটি ডলার তুলেছে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার বানাতে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৫,৪০০ ডেটা সেন্টার আছে, ছোট মাপ থেকে শুরু করে বিশাল “হাইপারস্কেলার” পর্যন্ত। এগুলো ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ১২ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করতে পারে। মহাকাশে স্থানান্তরিত করলে সেগুলো ২৪/৭ সৌরশক্তি ব্যবহার করতে পারবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ থেকে মুক্তি দিতে পারবে।
কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তাবও আছে। ক্যালটেকের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আলি হাজিমিরি ২০১৬ সালে মহাকাশে “ম্যাসিভলি প্যারালাল কম্পিউটেশনাল সিস্টেম”—অর্থাৎ ডেটা সেন্টার—এর পেটেন্ট আবেদন করেছিলেন। তার দলের সাম্প্রতিক প্রস্তাব হলো হালকা ও কার্যকর মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি ব্যবস্থা, যা প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় মাত্র ১০ সেন্ট খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে—যা পৃথিবীর তুলনায় সস্তা। তাত্ত্বিকভাবে এটি কক্ষপথে ডেটা সেন্টার চালাতে সক্ষম হতে পারে, তবে বাস্তবে তা কবে সম্ভব হবে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।
অবশ্য সমস্যা আছে—মহাকাশে এগুলো ধীরগতিতে কাজ করবে, বিকিরণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং মেরামত বা আপগ্রেড করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে। হাজিমিরির মতে, এটি একদিন সম্ভব হবে বটে, তবে খরচ ও কার্যকারিতা নির্ভর করছে সময়ের ওপর।
এখনো অবশ্য পৃথিবীতে ভার্জিনিয়ার মতো জায়গায় ডেটা সেন্টার বানানো অনেক সস্তা। তবুও এক বিষয় কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে পারে: মহাকাশে এখনো কোনো নিয়ম-কানুন নেই। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার বানাতে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিতে হয়, পানি বা বিদ্যুতের চাপ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি থাকে। মহাকাশে কিন্তু কোনো প্রতিবেশী নেই অভিযোগ করার জন্য।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ আইন বিশেষজ্ঞ মিশেল হ্যানলন বলেছেন, “যদি আপনি একটি মার্কিন কোম্পানি হয়ে থাকেন এবং মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসাতে চান, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগোতে হবে—কংগ্রেস বুঝে ওঠার আগেই যে এ ব্যাপারে নিয়ম তৈরি করা দরকার।”

Leave a comment