পানির গুণগত মাণ নির্নয় কেন প্রয়োজন – ড. মারুফ মরতুজা

স্বপ্ন প্রত্যয়ে পরিশ্রমী প্রয়াসে সফল এক ইঞ্জিনিয়ার এবং শিক্ষকের নাম ড. মারুফ মরতুজা। বর্তমানে আরব আমিরাত প্রবাসী এই সফল বাঙ্গালি তার স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেছিলেন Bangladesh University of Engineering and Technology থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এরপর স্নাতোকত্তর সম্পন্ন করেন একই বিষয়ের ওপর Dalhousie University থেকে এবং এই প্রতিষ্ঠান থেকেই একই বিষয়ের ওপর পি এইচ ডি সম্পন্ন করেন। এরপর শুরু হয় তার গবেষনা জীবন, Company NameNational Research Council Canada / Conseil national de recherches Canada তে Visiting Research Fellow হিসেবে দুই বছর এবং Research Associate হিসেবে সাত মাস কাজ করেন। American University of Sharjah তে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন ১৩ বছর যাবত। মধ্য প্রাচ্যের সুনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানে ২০০৮ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের পর পদোন্বতীক্রমে সহযোগী অধ্যাপক এবং বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে তার কর্মজীবন চলমান । গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে নিজের কর্মজীবনে তিনি সফল , নিজের কর্ম প্রত্যয়ে সদা উজ্জ্বল এই মানুষটি তাই একজন সফল স্বপ্ন প্রত্যয়ী বাঙালি।

বিজ্ঞানী.অর্গে ড. মারুফ মরতুজা একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন ড. মশিউর রহমানের সাথে। বিস্তারিত শুনুন।

ড. মারুফ মর্তুল্লা একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ও গবেষক। বর্তমানে তিনি American University of Sharjah বিশ্ববিদ‍্যালয়ে শিক্ষাকতা ও বিজ্ঞান গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। এর আগে তিনি কানাডাতে ছিলেন আড়াই বছর। সেখানে তিনি কাজ করছেন National research council of Canada ‍এটা হচ্ছে কানাডার সরকারি গবেষনা সংস্থা। তার আগে পি.এইচ.ডি করেছি ডালহৌসী ইউনিভার্সিটি থেকে কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে। সেখানে মাস্টার্সও করেছেন Water resource engineering-এ। আর পি.এইচ.ডি করেছেন Environmental engineering-এ। তার সাথে আজকে আমাদের কথোপকথন তুলে ধরলাম।

বিজ্ঞানী. অর্গ: আপনি এখন কোথায় এবং কি করছেন?

ড. মারুফ মর্তুল্লা: আমি এখন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ সারজা (American University of Sharjah) এর civil engineering department এ কাজ করছি। এটি আরব আমিরাতে অবস্থিত। এখানে আমি প্রায় এগারো বছর ধরে আছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বেশির ভাগ শিক্ষা বেশির ভাগ অভিজ্ঞতা এখানেই হয়েছে। এর আগে আমি কানাডাতে ছিলাম আড়াই বছর। সেখানে আমি কাজ করছি National research council of Canada ‍এটা হচ্ছে কানাডার সরকারি গবেষনা সংস্থা। তার আগে পি.এইচ.ডি করেছি ডালহৌসী ইউনিভার্সিটি থেকে কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে। সেখানে মাস্টার্সও করেছি Water resource engineering-এ। আর পি.এইচ.ডি করেছি Environmental engineering-এ।

বিজ্ঞানী.অর্গ : Environmental Engineering একটি নতুন সাবজেক্ট, এটা কি ধরনের সাবজেক্ট?

ড. মারুফ মর্তুল্লা: Environmental engineering একটি চমৎকার বিষয়। এখন পৃথিবী জুড়ে অনেক কাজ হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে। খুব সহজভাবে বললে, এর দুইটা দিক আছে। একটা হচ্ছে Environment বা পরিবেশ। আমাদের আশেপাশের যত রকম পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়। যেমন-বায়ু বা বাতাস সংক্রান্ত হতে পারে, পানি সংক্রান্ত, মাটি সংক্রান্ত হতে পারে। পরিবেশে যত রকম সমস্যা থাকে সেই সমস্যা গুলো সমাধান করাটাই হচ্ছে Environmental engineering-এর কাজ। অতীতে দেখা গেছে সব দেশেই একটা প্রচন্ড প্রচেষ্টা ছিল সবাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সবাই অর্থনীতিতে এগিয়ে গিয়েছে এক দেশ আরেক দেশের সাথে প্রতিযোগীতার কারনে। অর্থনৈতিক দিক থেকে হয়তো বিভিন্ন দেশ এগিয়ে গিয়েছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে Environment এ অনেক বেশি দূষন তৈরি হয়ে গেছে। যেটা তখন কেউ ভেবে দেখে নাই। এখন দেখা যায় চারিদিকে পানি বা মাটি বলি বা বায়ু বলি সবই এখন দূষিত হয়েছে। যেকারনে এখন আমাদের  জীবন জীবিকা সবই নির্ভর করে পরিবেশের ওপরে। পরিবেশই যদি ঠিক না থাকে অন্য বিষয় দূরে থাক যেটা হবে আমরা নিজেরাই বেঁচে থাকতে পারব না। কারণ বাতাস ছাড়া, পানি ছাড়া আমাদেরে পক্ষে কোনভাবেই চলা সম্ভব না। সেখানে যদি দূষণ হয় তাহলে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা মুশকিল হবে। কিছু কিছু দূষণের ক্ষেত্রে যেটা সমস্যা হয় শরীরের ইমিডিয়েট ইফেক্ট পড়ে। আমরা যেটাকে বলি এ্যাকিউট এফেক্ট। এই দুষণের কারনে ইমিডেয়েট মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় অনেকগুলো দূষণ থাকে যেগুলোতে মানুষ সরাসরি অসুস্থ হয় না। মানুষ ওটাতে expose বা সংস্পর্ষ হয়ে থাকে অনেক বছর ধরে যেটাতে মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেকারণে অনেক অনেক সমস্যা হয়ে থাকে যেগুলো আমরা সরাসরি চোখে দেখতে পারিনা। অনেক সময় মনে হচ্ছে আমরা তো ভাল আছি। কোন সমস্যা মনে হচ্ছে না। কিন্তু আসলে বিষয়টা এত সহজ নয়। অনেক অসুখ বিসুখে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই, ডাক্তার সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। আবার দেখা যাচ্ছে আজকাল যেভাবে ক্যানসারের ঘটনা শোনা যাচ্ছে সেটা অতীতে এত ব্যাপক আকারে হতো না। এটারও একটা বড় কারণ পরিবেশ দূষণ। যেকারনে এই সমস্যাগুলো অতীতে এত গুরুত্ব পায়নি সেটা এখন গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হলে এমন একটা সময় আসবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম বেঁচে থাকার অবস্থায় থাকবে না। সেকারনেই Environmental engineering-এর এই সাবজেক্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। যে সমস্য ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে  সেটা সমাধান  করতে গেলে Environmental engineer-দের প্রয়োজন খুব বেশি। তাদের ছাড়া এই সমস্যাগুলো সমাধান  করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানী.অর্গ : Environmental Science শব্দটা শুনি বা পরিবেশ বিজ্ঞানী শুনি কিন্তু সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটা কেন ব্যবহার হচ্ছে, পরিবেশের সাথে ইঞ্জিনিয়ারদের কি সম্পর্ক?

ড. মারুফ মর্তুল্লা: আসলে ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে যারা সমস্যার সমাধান করেন। বিজ্ঞানীরা বড় জোর সমস্যা সম্পর্কে বলতে পারে সেটার সমাধান বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করে উঠতে পারে না।  তার মানে এই নয় যে বিজ্ঞানীরা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে কোন কাজ করে না। যেমন-পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য environmental বিজ্ঞানিরাও পড়াশুনা করে তারা এসম্পর্কে জানে তারা যে কোন একটা প্রযুক্তিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কিভাবে কাজ করে সেটার সম্পর্কে গবেষণা করে। এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানেই থেমে যায়। ইঞ্জিনিয়াররা আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। তারা  শুধু প্রযুক্তি তৈরি করে না তা নয়, তারাও প্রযুক্তি তৈরি করে কিন্তু সাথে সাথে বাস্তবে কিভাবে প্রয়োগ করা যায় সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা অনেক ব্যাপক বিজ্ঞানীদের তুলনায়। সেটা অনেক সময় অনেক প্রযুক্তি তৈরি হয় যেটা বাস্তব সম্মত হয় ‍না। সে বিষয়গুলো বিজ্ঞানীরা এককভাবে বের করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের প্রধান কাজ হচ্ছে সেটাকে বাস্তব সম্মত প্রযুক্তি তৈরি করা। যেটা সত্যিকার অর্থে প্রয়োগ করা যাবে। একারনে যদি দেখা যায় পশ্চিমা বিশ্বে বেশির ভাগ কনসালটিং কোম্পানী পানি বিশুদ্ধকরণ এর ক্ষেত্রে হোক বা বায়ু দূষনের ক্ষেত্রেই হোক সেটা অপারেট করে  Environmental engineer দের দ্বারা।

বিজ্ঞানী.অর্গ : Environmental Engineering বা পরিবেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এটা একটা বিশাল ক্ষেত্র এখানে কি ধরনের গবেষণা করছেন? আর একটু বিস্তারিত বলবেন।

ড. মারুফ মর্তুল্লা: আমি পি.এইচ.ডি করেছি Wast water treatment বা নিউট্রিয়েন্ট বা ফসফরাস  রিমুভাল। Wast water থেকে ফসফরাস রিমুভাল করার জন্য। সেটাই ছিল আমার পি.এইচ.ডির বিষয়। এটা ছিল দূষিত পানি থেকে। বড় আকারে বলতে গেলে পানি বিশুদ্ধকরণ হয় দুই ধরনের। একটা হচ্ছে যে পানি আমরা খাই সেটা এক ধরনের বিশুদ্ধকরন। আরেকটা হচ্ছে দূষিত পানি যেটা বিভিন্ন বাসাতে বিভিন্ন কলকারখানায় যেখানে পানি ব্যবহার হয়্ ব্যবহারের ফলে পানি দূষিত হয়ে যায়। সেই দূষিত পানি পরিশোধনের কাজই ছিল আমার পি.এই.চ.ডির বিষয়। সে সময় আমি কাজ করেছিলাম পানি থেকে কিভাবে ফসফরাস রিমুভ করা যায়। সেটাও একটা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছিলাম তখন সেটা খুবই Unic ছিল। সেটা ছিল একধরনের বর্জ্য পদার্থ। সেই বর্জ্য পদার্থ দিয়েই পানি বিশুদ্ধকরন করা হয়েছিল।মাস্টার্সের সময় করেছিলাম water resource. হাইড্রোলিক্স। আমি প্রথমে বিভিন্ন ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছিলাম। আমি অনেক কাজই করেছি। ইদানিং আমি যেটা খুব বেশি কাজ করার চেষ্টা করছি। আসলে খুব বেশি গুরুত্ব যেটাতে দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে খাওয়ার পানি বিশুদ্ধ করনের ক্ষেত্রে। কারন আমাদের জীবন জীবিকা সব কিছু নির্ভর করছে বিশুদ্ধ পানির সাথে। সুতরাং এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সব সময় পালন করে আসছে water plant গুলো। সেগুলো আমরা সবসময় খেয়াল করি না বা লক্ষ্য  করি না। সেখানে পানি খুব ভাল গুণগতমানের তৈরি করা হয় water treatment plant গুলোতে। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন খুব ভাল গুণের পানি তৈরি হয়ে যায় কিন্তু সেটা বাসা পর্যন্ত আসবে কী করে। এখন বাড়িতে দেখা যায় আমরা পানির কল খুলছি আর পানিটা চলে আসছে। কিন্তু যখন এই পানিটা তৈরি করা হচ্ছে বিশুদ্ধ করে সেখান থেকে বাসাতে আসতে অনেক পাইপ লাইনের মাধ্যমে আনতে হচ্ছে। এবং এই পাইপ লাইনের মধ্যে আসতে কখনো কখনো একটা পুরা দিন লেগে যায়। কখনো দুই দিন কোন কোন শহরে আসতে এক সপ্তাহ লেগে যায়। এখন অনেক ভাল গুণের পানি তৈরি করা হল কিন্তু সমস্যা হল এই দুই দিনে বা এক সপ্তাহের মধ্যে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয় পানি আবার দূষিত হয়ে যায়। এ কারনে ঢাকা শহরেও এটা একটা সাধারণ অভিযোগ যে, আমরা যখন ট্যাপ ছাড়ছি, পানি একদম ঘোলা হয়। একদম কালো পানি। এই সমস্যা শুধু ঢাকা শহরের না পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা একটা সাধারণ অভিযোগ। পানি যদি বিশুদ্ধ করা হয় খুব ভাল প্রযুক্তি দিয়ে খুব ভাল ভাবে। কিন্তু যখন ট্যাপ পর্যন্ত এসে পৌছাল তখন কালো হল কী করে? এই কারনে এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি যখন পরিবহন করা হয় তখন এই পদ্ধতিটাকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার দেখা গেছে আমাদের বৈজ্ঞানিক কমিটি বা সংস্থা সেই বিষয়টার ওপরে এতটা গুরুত্ব দেয়নি অতীতে। সেই কারনে এখানে একটি বড় শুন্যতা রয়ে গেছে। এবং সেই শুন্যতা সমাধান করার জন্য যথেষ্ঠ পরিমান চেষ্টা করা হয় নাই। একারনে আমার ইদানিংকার  বেশির ভাগ গবেষনা হচ্ছে পানির পাইপ লাইন নিয়ে। এটার ওপরে উপর একটা জার্নাল পেপার গত সপ্তাহে গ্রহণ করা হয়েছে। সেটাতে আমি যা করেছি clean soil, water, air এই জার্নালে পেপারটা গ্রহিত হয়েছে। সেখানে আমরা সার্জা শহরে পানির পাইপ লাইন যা আছে অর্থাৎ পুরা নেটওয়ার্ক প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নেটওয়ার্ক জুড়ে। সেই পাইপ লাইনের মধ্যে পানির কী অবস্থা পানির গুণগত মানের কী অবস্থা এবং সেই সাথে যে পাইপ লাইন আছে সেই পাইপ লাইনের কী অবস্থা। পানির অবস্থা দেখে পাইপ লাইনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছি। সে কারনে আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তি জিও স্পেশাল ইনফরমেশন সিস্টেম GIS বাংলাদেশের মানুষ এটার সাথে পরিচিত। GIS দিয়ে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন পানি  দিয়ে পাইপ লাইনের অবস্থা বোঝার। কারন বেশির ভাগ পাইপ লাইনগুলো পানির নিচে দাবানো থাকে যেকারনে ওটা সরাসরি চোখে দেখা যায় না। সেকারনে পানি দিয়ে বোঝার প্রচেষ্টা একটা ইউনিক প্রচেষ্টা ছিল। এটা দিয়ে একটা বড় অংশে আমরা উপকার করতে পেরেছি। আশা করা যায় এটা একটা বড় ভূমিকা পালন করবে এই ধরনের কাজ করার মধ্য দিয়ে। এটা আমার একটা বড় কাজ। আরেকটা ক্ষেত্রে আমি কাজ করার চেষ্টা করেছ সেটা হচ্ছে প্লাস্টিক দুষণ। প্লাষ্টিক পলিউশান নিয়ে খবর বা প্রবন্ধ কেউ না কেউ কোথাও দেখে থাকবেন। বিবিসি নিউজে এটা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। স্কাই নিউজেও কথা বলা হচ্ছে। জাতিসংঘ বা UN খুব সম্ভব ২০৫০ সাল নাগাদ প্লাষ্টিক পলিউশন কনট্রোল এর জন্য বড় কোন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সুতরাং সবকিছু বিবেচনা করলে এটা একটা বড় সমস্যা। আমি এতদিন কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা মূলত পানি বিশুদ্ধ করনের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে পানির গুণ একটা বড় ভূমিকা পালন করে। ইদানিং আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে কাজটা করার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে এই পানির সিষ্টেম এর মধ্যে প্লাস্টিকের কী ভূমিকা ? এবং সেটার ফলে আমাদের শরীরে কী পরিমান ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সেই বিষয়গুলো আরো গভীরভাবে দেখার চেষ্টা করছি। এখন আমার মাস্টার্সের একজন ছাত্র কাজ করছে মাইক্রো প্লাস্টিক খুব ছো্ট ছোট প্লাস্টিক পার্টিক্যাল নিয়ে যেটা হচ্ছে পানির পাইপ লাইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এখন আমরা বোঝার চেষ্টা করছি সেই প্লাস্টিক পাইপ থেকে এই ছোট ছোট প্লাস্টিক পার্টিক্যাল গুলো পানির মধ্যে আসছে কিনা? এটা আমাদের স্বাস্থ‍্যের এর জন্য খুব বিপদজনক। গত বছর একটা গবেষণা প্রবন্ধে এ দেখা গেছে তারা বলছে মানুষের মলমুত্রে প্লাস্টিক পার্টিক্যাল পাচ্ছে।এখন প্লাস্টিকের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে এটা ব্যাকটেরিয়া এটাকে বিশুদ্ধ করন করতে পারে না। একারনে প্লাস্টিক পার্টিক্যাল থেকেই যায়। একারনে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে মাছের ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্লাস্টিক ভরে গেছে। মাছের মধ্যে প্লাস্টিক অনেক। কিন্তু মানুষের মধ্যে কী ধরনের ভূমিকা বা কী ধরনের প্রভাব হতে পারে সেটা আমরা এখনও বুঝতে পারেন নাই। যেহেতু বৈজ্ঞানিক গবেষনা মানুষকে নিয়ে করা নিষিদ্ধ সেকারনে এ বিষয়টা সরাসরি বোঝা জটিল হয়ে যায়। এই কারনে পানির মধ্যে একটা বড় অংশ বা একটা risk অংশ ধরা হয় পানিটাকে। সেজন্য পানির মধ্যে এই প্লাস্টিক পার্টিক্যালগুলো কী আকারে ভূমিকা রাছছে সেটা আমরা বোঝার চেষ্টা করছি। এ ধরনের গবেষণা আজ পর্যন্ত একদমই হয়না আমাদের গবেষণাতে আমরা দেখতে পেয়েছি এ ধরনের কাজ হয়নি। হয়তো কেউ কেউ করে থাকলেও পাবলিকেশনে আসে নাই। যত পাইপ লাইন হচ্ছে সব পাইপ লাইনই প্রায় প্লাস্টিক পাইপ লাইন। সেটা একটা বড় ঝুকি হয়ে যাচ্ছে। যে সমস্যাগুলো আগে খেয়াল করে দেখা হয় নাই। আগে যেটা হয়েছে পৃথিবী জুড়ে পাইপ লাইন  হত আয়রন পাইপ লাইন। তখন দেখা গেল আয়রনের করোশান  হত ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হত। সেকারনে আমরা সিদ্ধান্ত নিই প্লাস্টিক পাইপ হলে কোন কারেশান হবে না। মরিচা ধরবে না। ধীরে ধীরে আয়রন বা অন্যান্য মেটালিক পাইপ থেকে সরে এসে পৃথিবী জুড়ে একটা প্রবণতা হয়ে গেছে প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহার করা, বাংলাদেশেও দেখা যায় বাসা বাড়িতে যত পাইপ আছে সব পিভিসি পাইপ দিয়ে হয়। এমনকি পানির যেটা ট্যাংক সেটাও প্লাস্টিক ট্যাংক হয়। অনেকে মনে করেন আগেকার মেটাল দিয়ে তৈরি করলে আয়রন হত করোশান হত মরিচা ধরত। এখন আর সেই সমস্যা নাই। কিন্তু একটা সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা আরেকটা সমস্যা না বুঝেই তৈরি করে ফেলছি। এখন যে বিষয়টা প্রথমে বোঝা দরকার তারপর সমাধানের পথ দেখা দরকার। সেকারনে আমি প্রথমেই মনে করি আমি এখন যেটা মনে করি সেটা হচ্ছে প্রথম ধাপের কাজ। আমরা সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমাধান কী হবে সেটা পরের স্টেপে আসবে। আপাতত আমার দুইটা প্রজেক্ট।একটা আমি বলে ফেলেছি ইতমধ্যে। আমরা পাইপ লাইন থেকে কিভাবে প্লাস্টিক পার্টিক্যাল পানিতে আসছে সেটা দেখার চেষ্টা করছি। আরো একটা জিনিস দেখার চেষ্টা করছেন সেটা হচ্ছে পানির বোতল। আজকাল আমরা পানির বোতলে পানি খাই, বোতলগুলো প্লাস্টিক। পুরো পৃথিবী জুড়ে এই ট্রেইনডটা বাড়ছে তো বাড়ছে। এই বোতলগুলো থেকেও হয়াতো প্লাস্টিক পার্টিক্যাল আসছে। সেটাও লক্ষ্য করার ইচ্ছা। আমার দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে আর সহকারীরা ল্যাবে কাজ করছে। সেটা হচ্ছে প্লাস্টিক ওয়েস্ট প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে বিশাল অংশ বিভিন্ন স্থানে যেখানে solid waste গুলোকে ড্রাফট করা হয়, সেখানে প্লাস্টিক আবর্জনা ফেলা হয়। এখন প্লাস্টিক আবর্জনা গুলো যেহেতু ব্যাকটেরিয়া পরিশোধন করতে পারে না, যার ফলে অনেক বছর ধরে সেগুলো একই রকম থেকে যায়। সময়ের সাথে সাথে আমাদের এই জায়গা গুলোতে এক ধরনের দূষিত পানি তৈরি হয়। দূষিত পানিগুলোতেও প্লাস্টিক পার্টিক্যাল থাকে যেগুলো ধীরে ধীরে আমাদের ভূগর্ভস্থ জল কে দূষিত করে ফেলে। সেজন্য অন্য একটা প্রজেক্ট দেখার চেষ্টা করছি ছোট ছোট প্লাস্টিক পার্টিক্যালগুলো এগুলো ন‍্যানো পর্যায়ে এর পার্টিগুলোকে বোঝার চেষ্টা করেছি। কী পরিমান এগুলো তৈরি হচ্ছে। যাতে বুঝতে পারি সমস্যাটা আমাদের সমতল ভূমি এ তৈরি হয়েছে সেটা কতটা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এই ধরনের কিছু প্রজেক্টে আমি কাজ করে যাচ্ছি গবেষনার ক্ষেত্রে। আমাদের খাওয়ার পানি দূষণের ক্ষেত্রে এগুলো ভয়ংকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আর প্লাস্টিক এমন একটা সমস্যা যেটা সহজে সমাধান যোগ্য নয়। কারণ, চাইলেই এখন পুরো পৃথিবীতে হঠাৎ পাইপগুলো বদলে প্লাস্টিক থেকে মেটাল করে ফেলা যাবে। একারনে সমস্যাগুলোর খুব সহজ সমাধান নাই। এজন্য সমস্যার ব্যাপকতাটা আগে বোঝাটা আগে দরকার। সুতরাং যে কাজগুলো করছি তার গুরুত্ব খুব ব্যাপব হবে। বিশেষ করে যদি দেখা যায় পৃথিবী জুড়ে বড় বড় নিউজ-মিডিয়া জুড়ে সবাই প্লাস্টিকের সমস্যাকে খুব বড় আকারে ধরছে। এবং এটা এখন বৈজ্ঞানিক কমিউনিটিতে ধরা হচ্ছে “আলোচিত বিষয়” হিসেবে। যারা প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করছে তাদের কাজকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সব জায়গায়। এই সমস্যা পৃথিবীর সব জায়গায়। বাংলাদেশেও এটা খুব বিশাল সমস্যা। প্লাস্টিকের সমস্যা শুধু পাানির ক্ষেত্রে আছে তা নয় আমরা দৈন্যন্দিন প্রডাক্ট যেগুলো ব্যূবহার করছি বেশির ভাগই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়।পানি সরাসরি আমাদের বেঁচে থাকার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং এই সমস্যা অন্য সমস্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমার এই কাজটা একটা্ বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।

বিজ্ঞানী.অর্গ : আমরা শুনেছি আপনি অনেক আগে বাংলাদেশে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন, কী ধরনের কাজ এবং সেটা সফলতা বা ব্যর্থতা যদি আমাদের সাথে শেয়ার করেন।

ড. মারুফ মর্তুল্লা: বাংলাদেশে আমি পানি নিয়ে কিছু কাজ করেছিলাম। প্রথমে আমি কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম ঢাকার ইপিজেড এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন যেটা ছিল একটা ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল এরিয়া। যেখানে অনেক বর্জ্য থেকে দূষিত পানি তৈরি হয়। বাংলাদেশে রেগুলেশন আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। আগে  মোটেও ভাল ছিল না। একারনে ঐ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের আশেপাশে যেতাম তখন পানিগুলো আশেপাশের এলাকাতে সব দূষিত ছিল। বিভিন্ন ধরনের রং বেরঙের পানি ছিল। এর কারন ছিল ইন্ড্রাষ্ট্রির বেশির ভাগ ছিল টেক্সটাইল। টেক্সটাইল ইন্ড্রাষ্টিগুলো কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের রং ব্যবহার করে। এবং সেজন্য পানিগুলো বিভিন্ন রঙের হত। এই পানি নিয়ে তখন আমি কাজ করি পানিগুলোর quality নিয়ে। সেটা নিয়ে আমার একটা পেপারও  ঐ সময় publish হয়েছিল। একটা কনফারেন্স। পরিবেশ নিয়ে একটা এডিটেড বুকের ভলিয়ুমের ক্ষেত্রেও এটা publish হয়েছিল। এমন কি দেখা গেছে প্রায় চৌদ্দ পনের জন ঐ পেপারকে রেফারেন্স করে অনেক কাজ করেছিল। ঐ সময় ঐ কাজটা খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছিল। কারন ঐ সময় এ ধরনের কাজ হয়নি। পরবর্তীতে আরো অনেক কাজ হয়েছে। আমি  যখন পি.এইচ.ডি করছিলাম তখনও কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম। যেহেতু আমার অভিজ্ঞতা ছিল ফসফরাস পলিউশন নিয়ে। বাংলাদেশে এই পলিউশনটার ব্যাপকটা খুব মারাত্মক। এর বড় কারণ পুরো দেশে এগ্রিকালচারাল কাজ বেশি হয়। এজন্য প্রচুর পরিমানে সার ব্যবহার করা হয়। আর এতে প্রচুর পরিমানে ফসফরাস থাকে। সে কারনে আমাদের নদী নালা জলাশয়গুলো আগের থেকে অনেক কমে গেছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় সমস্যা বাংলাদেশে কোন জায়গাতেই এমন পানি দেখা যাবে না যে পানিটা দেখে মনে হবে পানিটা বিশুদ্ধ। আগেকার সময় চিন্তা করলে নদী নালাগুলো এতটা দূষিত ছিল না। এখন যেগুলো অনেক দূষিত। অনেক  কারণ আছে। এর মধ্যে একটা বড় কারণ হচ্ছে ফসফরাসের ব্যাপকতা। কারণ চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষি কাজে ক্ষেত্রে যে সারগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে ফসফরাস থাকে। এটা খুব স্বাভাবিক। কারণ চাষাবাদের জন্য ফসফরাস লাগে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত ফসফরাস ব্যবহার করা হয়েছে। আর এতে জলাশয়গুলো দূষিত করে ফেলেছে। এই অতিরিক্ত ফসফরাসগুলো পানির সাথে বা মাটির সাথে মিশে পানি দূষিত করে ফেলছে। বাংলাদেশে আগে মাছে ভাতে বাঙ্গালী বলা হত এখন সেটা  বলা হয় না। কারণ বাজারে গেলে মাছের দাম শুনলে বোঝা যায় পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে চলে এসেছে। এবং মাছের পরিমান  কম থাকার কারণেই দাম বেশি। মাছ কমে যাওয়ার একটা বড় কারন হলো ফসফরাস পলিউশন। এটা হওয়ার  কারনে পানিতে অক্সিজেনের পরিমান  কমে  যায়। এত মাছ বাঁচতে পারে না,যেমন-বাংলাদেশের অনেক জলাশয়ে শ্যঁওলা দেখা যায় যেটাকে এ্যালজি। এই এ্যালজি যখন অতিরিক্ত পরিমানে তৈরি হয়ে যায় তখন ওখানে অন্যান্য মাছ বা অন্য কোন জীব থাকতে  পারে না। এ কারনে ঐসব জলাশয়ে বেশি মাছ উৎপাদন হতে পারে না। এটা আমাদের জন্য শুধু পানি বিষয়ক সমস্যা তা না এটা  আমাদের জন্য ফুড সিকিউরিটির ক্ষেত্রে ও বড় ভূমিক পালন করেছে। আমরা জেনে হোক আর না জেনে হোক বিষয়টা নিয়ে তেমন কোন কাজ হয়নি। দেশের বাইরে  থাকার কারনে আমার ইচ্ছা থাকলেও আমি তা করে উঠতে পারি নাই। তারপরেও যখন  দেশে আসতাম বুয়েটের  শিক্ষকদের সাথে বিভিুন্ন গবেষনা  সংক্রান্ত কথা বলতাম একসাথে কাজ করার চেষ্টা করতাম। বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য পরিবেশ দূষনের ক্ষেত্রে অনেক কাজ করার আগ্রহ ছিল এবং এখনও আছে। আমার আব্বা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তার একটা কনসালটিং ফার্ম ছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল কনসালটিং ফার্মটাকে একটা ফার্ম করব পানি বিশুদ্ধ করন  নিয়ে। এবং সেটার জন্য কাজও করেছিলাম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে কোন  লোক না থাকলে উদ্যেগ নিলেও এইসব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ পর্যন্ত একটা ভাল প্রভাব দেখতে পারে না। আমরা এগিয়ে ছিলাম ডিপার্টমেন্ট অফ environment-এ রেজিষ্টেশনও করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের জন্য যথেষ্ট পরিমান  ম্যান  পাওয়ার  না  থাকার কারনে  আমাদের কাজটা বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন  নাই।

বিজ্ঞানী.অর্গ : আপনার ভবিষ্যৎ প্লান কি? কি ধরনের গবেষণার দিকে মনোনিবেশ করতে চান?

ড. মারুফ মর্তুল্লা: প্লাষ্টিক  নিয়ে আমার আরো অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে। প্লাস্টিকের সাথে আরো অনেক সমস্যা আছে যেটা বুয়েটের শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে করতে চাই। আগেও করার চেষ্টা করেছি এখনও করছি সেটা হচ্ছে আমার এখানে আমি গবেষনা নিয়ে যে কাজগুলো করছি সেগুলো কিভাবে বাংলাদেশে নিয়ে কাজ করতে পারি এগুলো বুয়েটের শিক্ষকদের সাথে আলোচন হয়। যেমন আমাদের ওখানে  গবেষনার যে প্রজেক্ট বা জার্নাল পেপারটার কথা বললান সেখানে পানির যে অথোরিটি আছে তারা আমাদেরকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। আমরা জানি বাংলাদেশে এসব তথ্য পাওয়া কত জটিল। সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য পাওয়া আরো জটিল। যেকারনে অনেক সময় বাংলাদেশে এসব গবেষনাগুলো প্রয়োগ করা জটিল হয়ে যায়। অন্যান্য আরো কিছু কাজ আমি করছি। আরেকটা প্রজেক্ট আছে আমার সেটা হচ্ছে water system এর রেজিলিয়েন্সি নিয়ে এই রেজিলিয়েন্সি বলতে সহজভাবে বলতে গেলে যেকোন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ যখন  হয় তখন এই disaster-গুলোতে যেকোন একটা system কিভাবে তার function maintain করতে পারে  এটা হচ্ছে রেজিলিয়েন্সির একটা বড় আপডেট। এখন  পানিতো সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে পানিতো সবসময় লাগবে। পানি ছাড়াতো মানুষ চলতে পারে না। এখন বড় ধরনের বন্যা যদি হয় বাংলাদেশে। তাহলে পানি যেভাবে সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছিল যেভাবে সাপ্লাই দেওয়া হয়  নাকি বন্যার জন্য এই সাপ্লাই ব্যবস্থা নষ্ট  হয়ে যায় কিনা। এটাই রেজিলিয়েন্সির একটা বড় আপডেট। শুধু বন্যা নয় বাংলাদেশে জলোচ্ছাস হয়,  ভূমিকম্প মাঝে মধ্যে হচ্ছে যদিও বড় আকরের নয়। এগুলোকে বলা হয় natural disaster বা artificial disaster ও হতে পারে। এর  ফলে আমাদের দেশে watee supply এর সিষ্টেমটা ঐ disaster সত্ত্বেও তাদের সার্ভিস দিতে পারবে না কি পারবে না সেটা্ রেজিলিয়েন্সি। এটা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না বিষয়টা। যখন service টা ঠিকমত থাকে, আমরা পানি পাচ্ছি সবসময় এবং ভাল quality এর পানি পাচ্ছি। তখন এই সমস্যার ব্যাপকতা আমরা  বুঝতে  পারি না। যখন বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তখন আমরা বুঝতে পারি। বড় ধরনের বন্যা হল পানিগুলো সব দূষিত হয়ে গেল। তখন  এই সমস্যাটা বুঝতে পারি। আমরা যখন পানি  বিশুদ্ধকরন  প্লান্ট  তৈরি করি বা আমরা যখন পাইপলাইন  নেটওয়ার্ক তৈরি  করি তখন অনেক  সময় এই বিষয়টা খেয়াল করতে চান না। কারন যখন এ ধরনের disaster হয় তখন সেক্ষেত্রে কিভাবে disaster কে handle করব তখন এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কারন ঐ বিষয়গুলো যখন দেখা হয় তখন ঐ প্রজেক্টগুলোর খরচ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যাগুলো যদি  তখন লক্ষ্য করা না হয় পরবর্তীতে বড় ধরনের ধস নেমে আসে তখন পুরো সমস্যাকে সমাধান  করতে আরো অনেক বেশি পয়সা খরচ করতে  হয়্ সে কারনে এই রেজিলিয়েন্সি বিষয়টা পৃথিবী জুড়ে যতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল ততটা পায়নি। বাংলাদেশে মোটের  ওপরে  রেজিলিয়েন্সি নিয়ে যে কাজ হয়নি তা নয়। এটা একদমই নতুন এরিয়া নয়। কিন্তু বাংলাদেশে water system এর রেজিলিয়েন্সি নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। সেটা আমার একটা শুন্যতা আছে যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মনে  করা হয় বাংলাদেশে প্রচুর পরিমানে পানি আছে। যেহেতু ২০০ র বেশি নদীনালা আছে। সেকারনে আমাদের ধারনা  পানি নিয়ে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু পানি যেমন প্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে  ভাল পানিই প্রয়োজন। যদি ভাল quality এর পানি না থাকে তাহলে পানি মানুষের জীবন  কেড়ে নিতে পারে। সুতরাং এটা ধরে নেওয়াটা যথার্থ নয় যে, পানি আছে মানেই আমাদের কোন সমস্যা নাই। আগে যেটা ছিল ঢাকা শহর ছাড়া বা এরকম বড় বড় শহর ছাড়া অন্যান্য জায়গায় organized পানি সাপ্লাইয়ের কোন সিষ্টেম ছিল না। এখন অনেক শহরে হয়ে গেছে তারপরও সমস্যা হচ্ছে পানি নিয়ে বা পানির quality নিয়ে যথেষ্ট নজর নাই এবং রেজিলিয়েন্সি নিয়ে তো নজর নাই  বলতে গেলে। কিন্তু এই বিষয়গুলোকে নিয়ে যদি  না ভাবা হয় তাহলে ভবিষ্যতে  বড় ধরনের কোন disaster তৈরি হলে দেখা যাবে গণহারে মানুষ মারা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতি কখনো তৈরি হোক সেটা আমরা দেখতে চাই না। সে কারনে রেজিলিয়েন্সি একটা বড় বিষয় সেটা নিয়ে ভবিষ্যতে তিনি দেশের জন্য কাজ করতে চাচ্ছে। আমার এরিয়াতে আমি একটা কাজ করেছি সেটা হচ্ছে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাথে। ওদের সাথে মিলে একটা রেজিলিয়েন্সি  নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমার ইচ্ছা ভবিষ্যতে এটা নিয়ে ব্যাপক আকারে কাজ করার ইচ্ছা আছে। যেটা শুধু রেজিলিয়েন্সি নিয়ে নয় water system এর sustainability নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। sustainability ও একটা বড় topic যেটা পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক কথা বলা হচ্ছে। সেটা নিয়েও আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে।

বিজ্ঞানী.অর্গ: আপনি আমেরিকায়, মিডলইষ্ট-এ গবেষণা করছেন এবং বাংলাদেশেও করেছেন আপনার অনেক দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে যারা শিশু কিশোর রয়েছে যারা বিজ্ঞানী বা গবেষক হতে চায় তাদের জন্য আপনার কি পরমর্শ আছে?

 ড. মারুফ মর্তুল্লা: ভবিষ্যতে যারা আমার মত বিজ্ঞানী বা গবেষক হতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, আমাদের প্রথাগত যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেটার মাধ্যমে তো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সে অনুযায়ী পড়াশোনা করলেই ধীরে  ধীরে শিখবে এটা  খুব সহজ হিসাব। তবে একটা বিষয় আমি  বলব-গবেষক বা বিজ্ঞানী হতে হলে একটা বড় যোগ্যতা আমাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে Curisity বা আগ্রহ বা কৌতুহল। বাংলাদেশে  আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে যেটা  হয় ছোট থেকেই আস্তে আস্তে যখন  বড় হয়ে উঠি  মনের মধ্যে অনেক  প্রশ্ন থাকে। সব সময় প্রশ্ন গুলোর উত্তর পাই না। অনেক ছোট বেলায় বাবা মায়ের কাছে প্রশ্ন  করি। বাবা মা যখন উত্তর  দিতে পারে না তখন  বকাঝকা করে থামিয়ে দেন। আরেকটু বড় হলে শিক্ষকদের কাছে প্রশ্ন করা হয়। শিক্ষকরা যখন উত্তর দিতে পারে  না তখন  বকাঝকা করে থামিয়ে দেন। এই করতে করতে একটা বয়স  আসলে আমরা প্রশ্ন  করতে ভূলে যাই। আমার প্রথম উপদেশ হলো প্রশ্ন  করতে  ভূলে না যাওয়া। সবসময় প্রশ্নগুলো মনের মধ্যে ধরে রাখা। কখনো না কখনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। সবসময় সবার  কাছে প্রশ্নের উত্তর থাকবে এমন  না। সব সময় বই পুস্তকে পাওয়া যাবে এমনও না। কোন  কোন প্রশ্রের উত্তর হয়তো আজ পর্যন্ত তৈরিই হয়নি। গবেষক বা বিজ্ঞানী হিসেবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কৌতুহল গুলোকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো হয়তো একদিন নিজেই পাওয়া যাবে। সেই সময় হয়তো আজ থেকে ১০ বছর বা ১৫ বছর পরে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন করতে থাকতে হবে তার জন্য প্রশ্ন বন্ধ করা যাবে না। প্রথাগত শিক্ষায় অনেক সীমাবদ্ধতা আছে সেখানে আমাদের কৌতুহলকে দমন  করা হয় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এই কারনে ভাল বিজ্ঞানী হতে হলে কৌতুহলকে দমন   করা যাবে না। কৌতুহল থাকলেই  কেবল প্রশ্নের উত্তর খুজে পাওয়া যাবে। সেটা বিভিন্ন  বই পুস্তকে হতে পারে,  বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে হতে পারে। কেউ উত্তর দিতে  না পারলেই যে এটার  কোন উত্তর নাই তা নয়। এই  কালচারটা একজন  ভাল বিজ্ঞানী বা গবেষক হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা বিষয় হচ্ছে শুধু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই নয় যেকোন প্রফেশনের ক্ষেত্রেই  এটা  প্রযোজ্য। সেটা হচ্ছে আমরা যে কাজ করছি সেটা যদি  আমরা উপভোগ করতে  না পারি,  তাহলে  সেই  কাজে কখনো সফল হওয়া যায় না। যে কাজগুলো ভাল লাগে বা আগ্রহ থাকে  যেমন  কারো  আগ্রহ থাকে কম্পিউটারের প্রতি।  অনেক ক্ষেত্রে এমন একটা  সময় আসে যে,  আগ্রহগুলো ভূলে যায় তখন  দেখা যায় বিভিন্ন  জব বা অন্যান্য কনসিডারেন্স গুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় যে, সেখানে  যে বিষয়েরে  প্রতি  আগ্রহ সেটাই ভূলে যায়। ভাল গবেষক বা বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য যে বিষয়ের প্রতি  আগ্রহ আছে সেটার সাথে লেগে  থাকতে হবে। লেগে থাকলে সফলতা একসময় না একসময় আসবে।

About ড. মশিউর রহমান

ড. মশিউর রহমান বিজ্ঞানী.অর্গ এর cofounder যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সনে। পেশাগত জীবনে কাজ করেছেন প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী ও শিক্ষক হিসাবে আমেরিকা, জাপান, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরে। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ডিজিটাল হেল্থকেয়ারে যেখানে তার টিম তথ্যকে ব্যবহার করছেন বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার জন্য। বিস্তারিত এর জন্য দেখুন: DrMashiur.com

Check Also

ন‍্যানোপদার্থ এর গবেষক প্রফেসর সাহাব উদ্দিন

মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন …

ফেসবুক কমেন্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।